১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১:৩৫

পানির জন্য এক কিলোমিটার পাড়ি দিতে হয় পাহাড়ের পথ

 

বান্দরবান প্রতিনিধি: বান্দরবান সুয়ালক ইউনিয়নের শ্যারণ পাড়া। এই পাড়ার মানুষদের প্রতিদিনের ‘রুটিন’ এখন পাল্টে গেছে। আগে সকালে যেতে হতো বাগানের কাজে, এখন ছুটতে হয় কলসি নিয়ে খাবার ও ব্যবহারের পানির জন্য । আশপাশের ঝিরি-ঝরনার পানির প্রবাহ নেই বললেই চলে। পানির জন্য ঝিরি দিকে যেতে হয় প্রায় এক কিলোমিটার। তাতেও বিপত্তি। মাঝে মাঝেও পরিষ্কার পানি মিলে না।

বৃস্হপতিবার ভোরে এই প্রতিবেদকসহ দুই সাংবাদিক প্রতিনিধি সরেজমিনে শ্যারণ পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, এই পাড়ার অনেকেই প্রতিদিন ভোর হলেই যেতে হয় পানি সংগ্রহের জন্য এবং এই দুর্ভোগের কথা জানান পাড়াবাসী। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই খাওয়ার পানির সংকটে পড়ে শ্যারণ পাড়া বাসিন্দারা। এবছর মার্চের শুরু থেকে জুন মাস পর্যন্ত এই সংকট থাকবে বলে তাদের ধারণা।

শ্যারণ পাড়ার ভান রাম এং বম বলেন, ‘সকালে ঘুম থেকে উঠে এই পনির জন্য আমার ৭ বছরের ছেলে ভান লমসাং এর সাথে খাবার ও ব্যবহারের পানি নিতে এসেছি। পানি বহন করে কিছু কিছু উচু পাহাড়ের পথ পাড়ি দিতে খুব কষ্ট হয় এবং আমার স্বামী আমাকে পানি বহনের সাহায্য না করলে আরো অনেক কষ্টে পড়তে হত। আমাদের পাড়ার আশপাশে শুধু পাহাড় আর পাহাড়। তাই ঝিরি-ঝরনার পানিই একমাত্র ভরসা। এখন সেগুলো শুকিয়ে গেছে। কুয়া থেকে যেসব পানি পাচ্ছি, তা ঘোলাটে। এসব পানি ব্যবহার করে প্রায় সময় পেটের পীড়ায় ভুগতে হয়। তাই সরকার বা বেসরকারি কর্তৃক খাবারের জন্য নিরাপদ পানি ব্যবস্থা করে দিলে এই পাড়ার প্রত্যেকটি মানুষ এই কষ্ট থেকে একটু হলেও মুক্তি পাবে’

এ ব্যাপারে বান্দরবান সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ সমীরণ নন্দী বলেন, শুষ্ক মৌসুমে এখানকার মানুষ পেটের পীড়া ও ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয় বেশি। এর মূল কারণ দূষিত পানি পান ও ব্যবহার।

সুয়াল ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড সদস্য লাল হাই বম বলেন, এসব পাড়ার লোকজন অনেক বছর ধরে ঝিরির-ঝরনার পানি ব্যবহার করে জীবন যাপন করে আসছে। কিন্তু অব্যাহত বন উজাড়, বৃক্ষ নিধন ও বৃষ্টি কম হওয়ার ফলে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। এতে শুষ্ক মৌসুমে এখানকার ঝিরি, ঝরনা ও ছড়া শুকিয়ে যায়। ফলে পাড়াতে তীব্র পানির সংকট দেখা দেয়। এবারও ব্যতিক্রম নয়, গরমের শুরুতেই পানি–সংকটে বিপাকে পড়ছে পাড়াবাসী। অনেকেই পানির জন্য এক কিলোমিটার পাড়ি দিচ্ছে।

জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সোহরাব হোসেন বলেন, বান্দরবান সুয়ালক ইউনিয়নের শ্যারণ পাড়ায় প্রায় ৫০ পরিবার বসবাস করেন। পাড়াটি সমতল এলাকা থেকে পাঁচশত থেকে এক হাজার ফুট ওপরে। সেখানে নলকূপ বসানোর কোনো ব্যবস্থা নেই। তা ছাড়া পানির স্তর বহু নিচে নেমে গেছে। বন সংরক্ষণ করে ঝিরি-ঝরনা সচল করা ছাড়া পাহাড়ি এলাকায় পানির ব্যবস্থা করার কেন উপায় নেই।

 

 

কুইকনিউজবিডি.কম/রিয়াদ /২৩শে মার্চ, ২০১৭ ইং/সন্ধ্যা ৬:৩১