১৮ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১২:০৭

যুক্তরাষ্ট্রকে মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল বিএনপি : প্রধানমন্ত্রী

 ডেস্কনিউজঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিযোগ করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে মুচলেকা দিয়ে ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসেছিল বিএনপি। ক্ষমতায় এসে তারা সারা দেশে শুরু করে অত্যাচার নির্যাতন। কিছু দিন আগেও তারা জ্বালাও-পোড়াও করেছে, পুড়িয়ে মানুষ মেরেছে। তাদের কাজই হচ্ছে শুধু নির্যাতন আর আওয়ামী লীগের লক্ষ্য মানুষের সেবা করা, দেশের মানুষের উন্নয়ন করা।

মঙ্গলবার (২১ মার্চ) বিকালে মাগুরার মুক্তিযোদ্ধা আছাদুজ্জামান স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এই জনসভা থেকে তিনি সম্প্রতি শ্রীলংকার বিপক্ষে শততম টেস্টে জয়লাভ করায় মাগুরার সন্তান সাকিব আল হাসানসহ দেশবাসীকে অভিনন্দন জানান।

বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ১৯৯৪ সালে মাগুরায় উপ-নির্বাচনে বিএনপি ভোট চুরি করে এবং চুরির দায়ে বিএনপি নেত্রী, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ক্ষমতাচ্যুত হন। বিএনপি শুধু মানুষকে অত্যাচার-নির্যাতনই করেছে। এছাড়া কিছুই দিতে পারেনি। দেশের উন্নয়ন হয়েছে আওয়ামী লীগের হাত ধরে। ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে সরকার কাজ করছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘খালেদা জিয়ার ছেলের দুর্নীতি ধরা পড়েছে। তার লুটের টাকা আমরা দেশে ফিরিয়ে এনেছি। দেশের মানুষের টাকা দেশের মানুষকে ফিরিয়ে দিয়েছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ’৭৫-এ পরিবারের সব হারিয়েছি। তাও এতো কষ্ট মাথায় নিয়ে একটাই কারণে কাজ করে যাচ্ছি, কারণ আমার বাবা বঙ্গবন্ধু এই দেশকে উন্নত করে চেয়েছিলেন। তাই তো জনগণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা বারবার নৌকায় ভোট দিয়েছেন। যে নৌকায় ভোট দেওয়ায় দেশ স্বাধীন হয়েছে, আপনারা বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারেন, দেশের উন্নয়ন হয়েছে সেই নৌকায় আবারও ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দেবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা ভোট চুরি ও দুর্নীতি করেছিল, দেশে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে, আগুন দেয় তারা ক্ষমতায় আসলে দেশ ধ্বংসের পথে যাবে। কারণ তারা দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ওয়াদা ছিল যুদ্ধাপরাধী ও জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচার করবো। এ বাংলার মাটিতেই বিচার করছি। যারা জঙ্গিবাদ করে, আমার দেশের ভাই বোনদের হত্যা করেছে তাদের স্থান বাংলার মাটিতে হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পায় না, কাউকে পরোয়া করি না। কারও কাছে মাথা নত করি না। বাবার আদর্শ নিয়ে দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য জীবন উৎসর্গ করবো, যেকোনও ত্যাগ স্বীকার করতে আমি প্রস্তুত। বাবার মতো বুকের রক্ত দিয়ে আপনাদের সেবা করবো এটাই আমার প্রতিজ্ঞা।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা আওয়ামী লীগের পতাকাতলে সমবেত হোন, আওয়ামী লীগের হাতকে শক্তিশালী করুন। আশা করি ২০১৯ সালের নির্বাচনেও নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে সেবা করার সুযোগ দেবেন। আমাদের লক্ষ্য উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশ গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০২১ সালে বাংলাদেশের কোনও ঘর অন্ধকার থাকবে না। প্রত্যেক ঘরে বিদ্যুৎ যাবে। দেশ যাতে দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যায় সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বাংলাদেশের প্রত্যক জেলাকে আমরা ভিক্ষুকমুক্ত করবো। সেই ব্যবস্থা করছি। সামাজিক নিরাপত্তার জন্য কাজ করছি।’

‘জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদকাসক্তদের প্রতি সমাজের সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। যারা এসব পথ থেকে ফিরে আসতে চাই, ভালো হতে চাই তাদের জীবন জীবিকার জন্য যা প্রয়োজন তা আমরা করবো’, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

একটা সুন্দর সমাজ গড়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজটাকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে হবে। আপনাদের কাছে আমার একটাই দাবি বা আবেদন, এখানে (মাগুরায়) যেন কোনো রকম সন্ত্রাস স্থান না পায়। মাদক যেন কেউ গ্রহণ না করে। ছেলেমেয়েরা মাদক থেকে বেরিয়ে আসে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। অভিভাবকদের বলবো, ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে কথা বলেন; তারা যেন বিপথে না যায়।

আমরা বলেছিলাম বাংলাদেশকে ডিজিটাল করবো, সেটাই করেছি- এমন মত দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যদি বিএনপি আমলের কথা বলি- তারা যখন ক্ষমতায় ছিল তখন কারো হাতে তো মোবাইলই ছিল না। অনেক দাম ছিল মোবাইলের।

মাগুরাবাসীর জন্য তিনি বলেন, আমি কিন্তু খালি হাতে মাগুরায় আসিনি। উপহার নিয়ে এসেছি। অনেক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড উদ্বোধন করা হলো। এ সময় তিনি মঙ্গলবার উদ্বোধন করা প্রকল্পগুলোর কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি বলেন, মাগুরাবাসীর দাবি রেল লাইন; এটি যাতে হয়, সেই ব্যবস্থা করবো।

২৮টি প্রকল্প উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন :
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার মাগুরায় ২৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ৩২৭ কোটি টাকা।

মুক্তিযোদ্ধা আছাদুজ্জামান স্টেডিয়ামে নামফলক উন্মোচন করে প্রকল্পগুলো উদ্বোধন ও ভিক্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তিনি ১৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন করা ১৯টি প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ১৫০ কোটি ৩১ লাখ টাকা। প্রকল্পগুলো হচ্ছে, মাগুরা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, মাগুরা ২৫০-শয্যা হাসপাতাল, শ্রীপুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন, মহাম্মদপুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন, ফটকি নদীর উপর ১০০.১০ মিটার ব্রীজ নির্মাণ, কাটাখালী জিসি-ইছাখাদা আর এন্ড এইচ পর্যন্ত প্রায় ৯.৭১ কিলোমিটার সড়ক, ৩০.৫০ মিটার নতুন বাজার সেতু, ৩৫০ ঘনমিটার প্রতি ঘন্টা ক্ষমতা সম্পন্ন ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আছাদুজ্জামান স্টেডিয়াম, সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের প্রশাসনিক ভবন, বেলনগর এলাকায় হেচারীসহ আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার (তৃতীয় পর্যায়), আঞ্চলিক মসলা গবেষণা কেন্দ্রের জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণ ভবন ও অতিথিশালা, মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়, ৫০-শয্যার শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবন, শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০-শয্যায় উন্নীতকরণ প্রকল্প, মাগুরা টেক্সটাইল মিল পুনঃ উৎপাদন কার্যক্রম, শালিখা উপজেলার আড়পাড়া মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র এবং মাগুরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

প্রধানমন্ত্রী ৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১৭৭ কোটি ১১ লাখ টাকা। প্রকল্পগুলো হচ্ছে, মাগুরা আঞ্চলিক পার্সপোর্ট অফিস ভবন, ফটকি নদীর উপর ৯৬ মিটার ব্রিজ নির্মাণ, বরইচারা আটিরভিটা-বরইচারা বাজার সড়কে ফটকি নদীর উপর ৬৬ মিটার ব্রিজ নির্মাণ, চিত্রা নদীর উপর ৯৬ মিটার ব্রিজ নির্মাণ, জাতীয় মহাসড়কের (এন-৭) মাগুরা শহর অংশ ৪ লেনে উন্নিতকরণ, মাগুরা পৌরসভার তৃতীয় নগর পরিচালনা ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (২য় পর্যায়), শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিইবেশন সেন্টার, শ্রীপুর উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম এবং শালিখা উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্প।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত নয় বছরের মধ্যে এই প্রথম মাগুরা সফর করছেন। এর আগে ২০০৮ সালে তিনি নির্বাচনী প্রচারের জন্য সর্বশেষ মাগুরা সফর করেন।

কুইকনিউজবিডি.কম/ বিপুল /২২শে মার্চ, ২০১৭ ইং/রাত ১২:৫৯