১৮ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | বিকাল ৪:১৯

সেলিনা জাহান প্রিয়ার গল্পঃ বসন্তের মেঘ

                                                 : বসন্তের মেঘ :

পালকি চরে যাচ্ছে ভাঁটির জমিদারের ছোট স্ত্রী । ভুইয়া বাড়ির মেয়ে সে । হটাত ভাঁটির জমিদার খাঁ সাহেব শিতের সময় চরে পাখি শিকারে আসে । ভুইয়া বাড়ির মেয়ে কে দেখে তার পছন্দ । জমিদারের পছন্দ মানেই তাকে না করা যাবে না। তবে তাকে খাস বাঁদি না করে- বিয়ে করে নিয়ে যায় । ভুইয়া রা জমিদারের কাছে মেয়ে বিয়ে দিতে পেরে খুবেই গর্বিত । যদি ও ভুইয়া বাড়ির মেয়ে বিন্দুর বয়সের সাথে অনেক পার্থক্য ।
পালকিতে জাওয়ার সময় বিন্দু কাঁদে নাই । তার কান্না থেমে গিয়েছিল ভুইয়ারা জমিদারের সাথে নতুন সম্পর্কের জন্য নাকি অন্য কারনে টা প্রকাশ পায় নাই । বিয়ের তিন বছর পর্যন্ত জমিদার পত্নী বিন্দু কোন দিন বাপের বাড়ি বেড়াতে আসে নাই ।
জমিদার তাকে পুতুলের মতো সাজিয়ে রেখেছে । কিন্ত জমিদার সাহেব বাইজি মহল ছারতে পারে নাই । একটা মজার থেকে ফিরছিল জমিদার পত্নী বিন্দু । পথে মধ্য পালকীর পর্দা সরিয়ে দেখে বকুল তলায় গাছের নিচে অনেক মানুষের ভিড় । পালকি থামিয়ে পেয়াদাদের বলল খবর নিতে কি হয়েছে ।
একজন এসে বলল — মা জননী কোন ভিনদেশী মানুষ । খুবেই অসুখ ।
জমিদার পত্নী পালকিতে বসেই বলল আমাদের জমিদারিতে কেউ চিকিৎসা ছাড়া মারা যেতে পারে না । তাকে জমিদার বাড়ির দাওয়া খানায় নিয়ে সু চিকিৎসা দেয়া হউক । আর ভাল না হওয়া পর্যন্ত তার থাকার ব্যবস্তা করা হউক ।
জমিদার পত্নী তার আদেশ মানেই সেই কাজ । পথিক কে জমিদার বাড়ির চিকিৎসালয়ে নিয়ে আসা হল ।
কিন্তু মানুষ টার অসুখ ভাল হচ্ছে না । দিন দিন যেন তার জীবন চলে যায় যায় অবস্তা । দাসি বাঁদি খবর নিয়ে এলো মা জননী মনে হয় ভিনদেশী পথিক বাঁচবে না ।
হাকিম আর কবিরাজ মশায় তার শেষ কোন ইচ্ছা আছে কি না জানতে চাইলে খুব আসতে করে বলল একটু বিন্নি ধানের পায়েস খেতে চায় । জমিদার পত্নী বিন্দু বলল আমি নিজের হাতেই তাকে রান্না করে বিন্নি ধানের চালের পায়েস খাওয়াতে চাই ।
নিজেই রান্না করে ভিন দেশি পথিকের জন্য পায়েস নিয়ে গেল । পথিক দূর থেকে এক বার দেখল যেন সাদা পরী অনেক দাসীবাঁদীর সাথে হেঁটে আসছে । সবাই জমিদার পত্নী কে দেখে সালাম দিয়ে সরে দাঁড়ালো । কিন্তু এই অল্প সময়ে জীবন প্রদিপ নিভে যায় পথিকের । জমিদারের পত্নীর হাত থেকে পায়েসের বাটি পড়ে যায় । হাকিম পথিকের চোখ বন্ধ করে দেয় । জমিদার পত্নী বিন্দু চাকর বাকর কে ডেকে বলে এই ভিনদেশী পথিকের বাড়ি আমার গ্রামের পাশে তালুকদার বাড়িতে । সেই খানেই পাঠিয়ে দাও খুব যত্ন করে । মাটীতে পায়েসের বাটি পড়ে থাকে । পথিকের লাশ গরুর গারি করে তালুক দার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় । সন্ধ্যায় তালুক তার বাড়িতে তালুকদারের ছোট ছেলের লাশ আসে । তালুকদারের ছোট ছেলে যে মারা গেছে তার নাম মোহন ।।
ভুইয়া বাড়িতে তালুকদারের ছোট ছেলের মরার খবর আসাতে , ভুইয়া বাড়িতে আনন্দের বন্যা বইতে থাকে । বন্দুক দিয়ে গুলি ফুটিয়ে বিগল বাজিয়ে উল্লাস করতে লাগলো । জমিদার পত্নী এই রাতে খুব সুন্দর করে সাজে , চুলের খোঁপায় বেলি ফুলের মালা পড়ে । পায়েসের সেই বাটিটা বাঁদি ধুয়ে রেখেছে তার টেবিলে । সেই বাটিতে কিছু পায়েস নেয় । পায়েসের সাথে নিজেই বিষ মিশায় । আয়নার সামনে গিয়ে বলে মোহন তুমি আমাকে ভুলতে পারলে না। চোখের সামনে ভাসতে থাকে মায়ের হাতের পায়েস নিয়ে লুকিয়ে পুকুর পারে জলে পা ভিজয়ে দুই জনে এক সাথে খেত । ভুইয়া রা জিমিদারে প্রিয় হবার জন্য তাদের মেয়ে কে দিয়ে দিতে পারে । তবে আমি কি আমার প্রিয় মানুষের কাছে যেতে পারি না। জমিদার পত্নী বিন্দু সেই সন্ধ্যা রাতেই বিষ মিশানো পায়েস খেয়ে মারা যায় । বিন্দু বিষ খেয়ে খাটে চুপ করে শুয়ে ছিল ।
ভোর বেলায় ঘোড়া করে চরে বিন্দুর মৃত্যুর খবর নিয়ে ভুইয়া বাড়িতে এক পেয়াদা আসে । বিন্দুর মা চিৎকার করে বলে সবাই চুপ কেন বন্দুক ফুটাও বিগল বাজাও
তোমরা চুপ কেন ????

কুইকনিউজবিডি.কম/তানভীর/২৬শে ফেব্রুয়ারি,২০১৭ ইং/রাত ২:১১