১৮ই জুন, ২০১৯ ইং | ৪ঠা আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | রাত ১০:৫৬

বান্দরবানে ১৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণে ব্যপক দুর্নীতি

রিচার্ড বম, বান্দরবান প্রতিনিধি: বান্দরবানে ১৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিনা তদারকিতেই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোর যাইচ্ছা তা করে যাচ্ছেন নির্মাণের কাজ। এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
বান্দরবানে থানছিতে ২টি, রুমায় ৪টি,নাইক্ষ্যংছড়িতে ৫টি ও বান্দরবান সদরে ২টিসহ মোট ১৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের কাজ পায় বিভিন্ন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের অর্থায়নে প্রায় ২কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন ও তদারকি করছে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।


সরেজমিনে দেখা যায়, থানছি উপজেলার তিন্দু বাজারে নির্মিত কমিউনিটি ক্লিনিকে স্থানীয় সাংগু নদীর বালু, নিম্নমানের স্থানীয় পাথর,ইট, বাংলার রডসহ অতি নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করছে।


এতে করে ভবনটি টেকসই ও স্থায়ীত্বের নিয়ে আশংকা করেছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ লোকজন। তাছাড়াও ভবনের সামনে মাটি ভেঙ্গে যাবার আশংকা রয়েছে বর্ষায়। মৌজা হেডম্যান প্রেনথান খুমী বলছেন, স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগে বান্দরবান অফিস না থাকার সুবাদে দায়িত্বরত কক্সবাজার অফিসের প্রকৌশলী মোরশেদ একক সিদ্ধান্তে হচ্ছে সব কিছু। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মী উবাহাই মারমা বলেন, তিন্দু বাজার কমিউনিটি ক্লিনিকের নির্মাণ কাজ খুবই নিম্নমানের ও এই নিয়ে স্থানীয়রা ক্ষুব্দ।


তিন্দুর সাবেক ইউপি সদস্য ও স্থানীয় ব্যবসায়ী সাইংওয়ং মারমা জানান, কমিউনিটি ক্লিনিক ভবনের ছাঁদ ঢালাই করার সময় কোন প্রকৌশলী উপস্থিত ছিলেন না। পর্যাপ্ত সিমেন্ট,ভাল মানের বালু,রড,কংকর ও পরিমাণ মত পানি ব্যবহার হচ্ছেনা ঢালাই কাজে।


তিন্দু বাজার কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের চন্দনাইশ এলাকার মেসার্স শাহ মনি এন্টার প্রাইজ এর মালিক মহিউদ্দিন এর সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি।


অপর দিকে রুমায় চান্দা পাড়া ক্লিনিকের অবস্থারও খুবই নাজুক। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের দায়িত্বরত প্রকৌশলী দুর্গম কক্সবাজার থেকে এসে বান্দরবানের পাহাড়ে ১৩টি ক্লিনিকের নির্মাণ কাজ সরেজমিনে তদারকি করতে পারছেন না। এতে করে ঠিকাদারদের ইচ্ছে মাফিক হচ্ছে নির্মাণ কাজ। এমন অভিযোগ করেছেন তিন্দুর স্থানীয় বাসিন্দা ক্রানিংঅং মারমা।


থানছি উপজেলা চেয়ারম্যান ক্যহ্লাচিং মারমা বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ কাজ চলছে ঠিকাদার ইচ্ছায়। নিম্নমানের বালু, বাংলার রড,ইট,সিমেন্টসহ ব্যবহার করেই ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে নির্মাণ কাজে। স্থায়ীত্ব হবেনা ভবনটি।


অন্য দিকে বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নে বেথ্যানী পাড়ার কমিউনিটি ক্লিনিক ও টংকাবতী ইউনিয়নে কোরাং বাজার মেনওয়াই ম্রো কমিউনিটি ক্লিনিকের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হলেও ইতোমধ্যেই ভবনের ভিবিন্ন স্থানে ফাটল ও ভবনের পেছনে মাটি সরে যাবার আশংকা করেছে সংশ্লিষ্টরা।


বান্দরবান সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ ভানু বলেন, বেথ্যানী পাড়া ও কোরাং বাজারের নির্মিত দু’টি ক্লিনিক সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। নির্মাণ কাজে ব্যাপক অসংগতি দেখেছি। নির্মাণ কাজ সন্তোষজনক না হওয়ায় এখনো বুঝিয়ে নিতে পারেনি। সন্তোষজনকভাবে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে দিতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্টদের।
এই দু’টি ক্লিনিক নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের মালিক মোজ্জাফর বলেন, এনিয়ে পেপারে নিউজ লিখলেও কিছু যায় আসেনা।


এদিকে সারা দেশের গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার এই বিশেষ উদ্যোগ ভেস্তে যেতে পারে বলে মনে করছেন থানছি উপজেলার স্থানীয় স্বাস্থ্য সচেতন বাসিন্দা নুমংপ্রু মারমা।


স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মোরশেদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যথাযথভাবে তদারকি করেই চলছিল কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর নির্মাণ কাজ। নির্মাণ কাজে কোথাও সমস্যা নেই। তবে থানছি উপজেলা চেয়ারম্যানের অভিযোগের কারনে তিন্দুতে সরেজমিনে গেছি।

কুইকনিউজবিডি.কম/বিপুল/২৪শেশে ফেব্রুয়ারি,২০১৭ ইং/রাত  ১:৪১

Please follow and like us:
0
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial