ব্রেকিং নিউজ
২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১:১৫

উওরার তুরাগে মাদকের স্পট ও ভাসমান পতিতাদের রমরমা যৌন বানিজ্য

এম এ আজিজ, গাজীপুর : রাজধানীর অন্যতম ক্রাইম জোন হিসেবে পরিচিত তুরাগ থানা এলাকায় ভাসমান পতিতাদের দেহ ব্যবসা,জুয়া ও মাদকে এখন সয়লাব । গত কয়েক মাস ধরে তুরাগ এলাকায় আগের চেয়ে অবৈধ কার্যক্রম যেন বহুগুণ বেড়ে গেছে।দিয়াবাড়ী,চন্ডালভোগ,তারার টেক,নলভোগ, ষোলহাটী, ১২নং ও ১৮ নং সেক্টর বালুর মাঠ,ধউর চেক পোষ্ট ঢাল,আইউবিএটি ঢাল,ইষ্ট ওয়েষ্ট মেডিকেল কলেজের ঢাল,রাজাবাড়ি ফুলবাড়িয়া,বাউনিয়া এলাকার বস্তিতে গোপনে নয় প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে মাদক । সেই সাথে কিছু জায়গায় চলছে ভাসমান পতিতাদের রমরমা দেহ ব্যবসা।
সরেজমিন, ঘুরে দেখা গেছে তুরাগের রাজউকের ৩য় প্রকল্প বালুর মাঠ ও নির্দিষ্ট কিছু রাস্তার মোড়ে মোড়ে দাড়িয়ে খদ্দের আকৃষ্ট করার চেষ্টায় মগ্ন পতিতারা। আশেপাশের স্কুল কলেজের উঠতি বয়সের তরুনরাই তাদের মুল টার্গেট। আর এ ফাদেঁ পা দিলেই ঘটছে ছিনতাই এর মত ঘটনা। জানা গেছে খদ্দের এর কাছ থেকে চাহিদা অনুপাতে বেশী পরিমানে টাকা না করতে পেরে ছিনতাই এর সাথে জড়িয়ে পড়েছে এই ভাসমান পতিতারা।
বিকেল ও সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে শুরু হয় এইসব মেয়েদের আনাগোনা। রাত যত গভীর হয় এখানে ভিড় ও তত বাড়তে থাকে। জানা গেছে এখানে আসে কয়েক শ্রেণীর মেয়েরা আগে যারা রাজধানীর বিভিন্ন হোটেলে এই অবৈধ কাজে লিপ্ত ছিলো তারা এবং ভাসমান পতিতারা।এছাড়া সন্ধ্যার পর চিহ্নিত কিছু স্পটে বসে মাদকের ভাসমান হাট। এসব অপরাধের ব্যাপারে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন রহস্যজনক কারণে রয়েছে নির্বিকার। বেশ কয়েকবার স্থানীয় প্রশাসনকে মৌখিকভাবে বিষয়টি অবগত করলেও পুলিশ পতিতাবৃত্তি ও মাদক বন্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে নি এমন অভিযোগ এলাকার বাসিন্দাদের। মাদক, পতিতা ও জুয়াখেলার সহজলভ্যতায় এখানকার স্কুল-কলেজপড়ুয়া ছাত্র ও যুব সমাজ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। বেপরোয়া ও বখাটে হয়ে উঠছে এসব কিশোর এবং তরুণরা। রাস্তাঘাটে নারীদের বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করছে বিপথগামী এই কিশোররা।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক মুদি দোকানদার বর্তমানকন্ঠ ডটকমকে বলেন, ভাই মাদক ও পতিতা এখানে সহজলভ্য। কি লাগবে ? সব আছে, মদ থেকে শুরু করে ইয়াবা পযর্ন্ত। নষ্ট করে ফেলেছে আমাদের এলাকাটা। স্থানীয় কিছু অর্থলোভী লোকের যোগসাজস্যে বহিরাগতরা করছে এই মাদক ব্যবসা। পুলিশ দেখেও না দেখার ভান করছে কারন পুলিশের কিছু সোর্স এই মাদক ব্যবসার সাথে সরাসরি জড়িত রয়েছে। তারার টেক ও খালপাড় বালুর মাঠ,১২ নং সেক্টর সংলগ্ন বস্তি,খানঁটেক এলাকায় তো শাক সবজির মত গাঁজা ব্যবসা হচ্ছে। তাছাড়া মাদক ব্যবসায়ীরা উঠতি বয়সের ছেলেদের দিয়ে বিক্রি করছে ইয়াবা ।
তুরাগের মত এমন একটি স্থানে এই ধরনের কার্যক্রম বেড়ে যাওয়াতে এলাকাবাসী ও ঘুরতে আসা অনেকেই চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অভিযোগ আছে তুরাগ থানার অসাধু কিছু পুলিশ সদস্যরা মাদক স্পট থেকে নিয়মিত হারে মোটা অংকের টাকা চাঁদা আদায় করছে।
তুরাগ থানা এলাকার ৫ নং ওয়ার্ড মেম্বার রবিউল ইসলাম  জানান,আমরা স্থানীয়ভাবে বেশ কয়েকবার থানায় মেীখিক ভাবে অভিযোগ করেছি। তবে পুলিশ মাদকের স্পটগুলো ঘুরে কাউকেই আটক করতে পারে নি। এলাকার মধ্যে এই ধরনের অপরাধমুলক কর্মকান্ড কমিয়ে আনার জন্য আমরা নিজেরাই এখন চেষ্ঠা করছি।
তুরাগ থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি মাহবুবে খোদা বলেন, তুরাগ থানা পুলিশ মাদক নিয়ন্ত্রনে সর্বাত্তোক চেষ্টা চালাচ্ছে।

তারিখ: ২৬-০৩-২০১৬/কুইকনিউজবিডি/রাকিব/ সময়:-১০:০২