ব্রেকিং নিউজ
২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | বিকাল ৪:৫৩

নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করতে জাতির জন্য অবদানের স্বীকৃতি চান প্রধানমন্ত্রী

কুইকনিউজবিডি.কম,নিউজ ডেস্কঃ জাতির জন্য যারা অবদান রাখছেন তাদের সরকার স্বীকৃতি দিতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ বছর ১৫ ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পদক প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।  শেখ হাসিনা বলেন,  যারা জাতির জন্য অবদান রাখলেন তাদের আমরা স্বীকৃতি দিতে চাই, যাতে নতুন প্রজন্ম তাদের অবদান থেকে অনুপ্রাণিত হয়, উদ্বুদ্ধ হয়।তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে এগিয়ে যাক সেটাই আমরা চাই। সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ‘ এ সময় প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করবো। ‘ জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে ২০১৬ সালের স্বাধীনতা পদক প্রদান করা হয়েছে।

যারা স্বাধীনতা পদক পেলেন:

স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ ক্ষেত্রে- একাত্তরে যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তান দূতাবাসে কর্মরত থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশকারী ও প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত সংগঠক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

মুক্তিযুদ্ধ সংগঠক ও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে একাত্তরে ভারতের মুক্তিযোদ্ধা ট্রেনিং ক্যাম্প, অপারেশন ক্যাম্প ও শরণার্থী ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনকারী বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মুহা. ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক।

সফল রাজনীতিবিদ, মুক্তিযোদ্ধা এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক মরহুম মৌলভী আচমত আলী খান।

সুপারসনিক এয়ারক্রাফট এফ-৬ এর সফল পাইলট ও মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ এয়ারফোর্স গঠন প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালনকারী স্কোয়াড্রন লিডার (অব.) বদরুল আলম বীরউত্তম।

একাত্তরে রাজশাহী জেলার পুলিশ সুপার হিসাবে কর্মরত থাকা অবস্থায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক রাজশাহী পুলিশ লাইনস্ আক্রমণ প্রতিরোধে পুলিশ ফোর্স সংগঠনে নেতৃত্বদানকারী শহিদ শাহ্ আব্দুল মজিদ।

রাঙামাটিতে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনে নেতৃত্ব দানের জন্য পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে শাহাদতবরণকারী রাঙামাটির তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক এম আবদুল আলী।

১৯৭১ সালে পাকিস্তান হাইকমিশন, লন্ডনে কর্মরত থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশকারী এবং বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান স্বহস্তে লেখক মরহুম এ কে এম আবদুর রউফ।

১৯৭১ সালে দিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনে কর্মরত থাকাকালে পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশকারী এবং দিল্লিতে বাংলাদেশের প্রথম মিশন স্থাপনকারী কে এম শিহাব উদ্দিন।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে স্বাধীনতার স্বপক্ষে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনকারী সৈয়দ হাসান ইমাম।

মাতৃভাষা ক্ষেত্রে-একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী মরহুম রফিকুল ইসলাম এবং আবদুস সালাম।

সাহিত্য ক্ষেত্রে- সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে কবি নির্মলেন্দু গুণ।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে-কৃষি গবেষক এবং তোষা পাট ও দেশি পাটের জীবন রহস্য আবিষ্কারক মরহুম অধ্যাপক ড. মাকসুদুল আলম।

চিকিৎসাবিদ্যা ক্ষেত্রে-প্রথিতযশা শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ রফি খান (এমআরখান)।

সংস্কৃতি ক্ষেত্রে- রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী এবং রবীন্দ্রসঙ্গীত গবেষক অধ্যাপক রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা।

এছাড়া সরকার মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদান এবং দেশের জলসীমায় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিরলস দায়িত্ব পালনরত বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করেছে।

 

তারিখ: ২৪-০৩-২০১৬/কুইকনিউজবিডি/রাকিব/ সময়:-১২:৫০