ব্রেকিং নিউজ
২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৮:৪৬

জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় ইসি আইনের কথা বলিনি : ফখরুল

ডেক্সনিউজঃ বিএনপি মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আইনের কথা আমরা এজন্য বলিনি যে, এখন যারা আইন তৈরি করবেন তারা জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি নয়। সুতরাং তাদের দ্বারা তৈরি আইন সঠিক হবে না। এছাড়া যেহেতু এই আইন আগে হয়নি। এখন তা তৈরির সুযোগ নেই। সে কারণে ইসি পুনর্গঠনে আমরা আমাদের প্রস্তাবনায় নির্বাচন কমিশন আইন গঠনের কথা বলিনি।

তিনি আজ শুক্রবার দুপুরে রংপুর পর্যটন মোটেলে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে একথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সাবেক এমপি মহিলা দল নেত্রী শাহিদার রহমান জোসনা, সাবেক এমপি পীরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মন্ডল, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এ্যাডভোকেট আফতার উদ্দিন আহম্মেদ, যুগ্ম সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু, যুবদল সভাপতি রইচ আহমেদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি নাজমুল ইসলাম নাজু, কৃষক দল নেতা হাজী আবু তাহের, কাজী খয়রাত, জাসাস নেত্রী এ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি মাহফুজ উন নবী ডন, জেলা সভাপতি জহির আলম নয়ন, সেক্রেটারী মনিরুজ্জামান হিজবুল, স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি আব্দুস সালামসহ মহানগর ও জেলা বিএনপি এবং সহযোগি সংগঠনগুলোর বিপুল পরিমাণ নেতাকর্মী।

সাংবাদিকদের সাথে আলাপ করার আগে মীর্জা ফখরুলকে পর্যটন মোটেলে নেতাকর্মীরা ফুল ও শ্লোগান দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন একতরফা হচ্ছে উল্লেখ করে মীর্জা ফখরুল বলেন, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে সুপরিকল্পিকতভাবে এদেশে যাতে বিরোধী দল রাজনীতি করতে না পারে সেজন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে। পঞ্চদশ সংশোধনীর মধ্যে দেশে কেয়ারটেকার সরকারের মাধ্যমে নিরপেক্ষ নির্বাচনের যে ব্যবস্থা ছিল সে ব্যবস্থাকে বাতিল করেছে। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছে। ফলে আপনারা দেখছেন যতগুলো নির্বাচন হয়েছে হচ্ছে সব একদলীয় ও একতরফা হচ্ছে।

দেশ গণতন্ত্রহীন অবস্থায় আছে তারপরেও বিএনপি সব বাধা পেরিয়ে শক্তিশালি দল হিসেবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কাজ করছে উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, আমরা এখন গনতন্ত্রহীন অবস্থায় বাস করছি। সারা দেশে গণতন্ত্র নেই। আমার অধিকার নেই। আমার সভা করার অধিকার নেই। আমার মিছিল করার অধিকার নেই। আমার সত্যি কথা বলার সুযোগ নেই। ফলে এরকম একটা পরিবেশে আমরা যে এখন পর্যন্ত শক্তভাবে রাজনীতি করছি, রাজনৈতিক কথা বার্তাগুলো বলছি, এটার দ্বারা এটিই প্রমাণিত হয় যে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল একটি শক্তিশালী রাজনৈদিক দল, একটি সচল রাজনৈতিক দল।

বিভিন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণের স্বপক্ষে যুক্তি দেখিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, যেহেতু স্থানীয় সরকার নির্বাচন সরকার পরিবর্তনের নির্বাচন নয় এবং গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ হচ্ছে নির্বাচন, সেকারণে আমরা জেলা পরিষদ ছাড়া সকল স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। জেলা পরিষদ নির্বাচন সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ায় আমরা তাতে অংশ নেইনি।

৫ই জানুয়ারী নির্বাচনকে গণতন্ত্র হত্যা দিবস উল্লেখ করে মীর্জা ফখরুল বলেন, ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নামে একটি তামাশার নির্বাচন করা হয়েছিল। সেই তামাশাতে বিএনপি যোগ দেয়নি। দেশের মানুষের শতকরা ৫ ভাগও যোগ দেয়নি। ১৫৪ জনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই দিনই গণতন্ত্রকে ধংস করা হয়েছে। গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ সুষ্ঠু নির্বাচন, সেই নির্বাচন সে সময় হয়নি। ফলে ওই নির্বাচনের কারণে যে সরকার বসে আছে, আমরা মনে করি সেটা গণতান্ত্রিক সরকার নয়। সেজন্য আমরা ৫ই জানুয়ারিকে মনে করি এটা একটা গণতন্ত্র হত্যা দিবস।

পরে তিনি রংপুরের মিঠাপুকুরের বলদি পুকুরে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ের এক কর্মকর্তার মেয়ের বৌভাতে অংশ নেন। মীর্জা ফখরুলের আগমন উপলক্ষে রংপুরের বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সাজ সাজ রব পড়ে যায়।

 

 

 

 

কুইকনিউজবিডি.কম/  মাখলুকাত / ৩১শে ডিসেম্বর, ২০১৬ ইং / সকাল ৯:৩৮