২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৮:২১

মুন্সীগঞ্জ ল’ কলেজের সোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

শেখ মো. রতন, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধিঃমুন্সীগঞ্জ ‘ল’ কলেজের অডিট কমিটি কর্তৃক উদঘাটিত কলেজ তহবিলের প্রায় সোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। তবে এ সোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী  মহল ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। এ লক্ষে অডিট কমিটির প্রতিবেদন মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে পাল্টা আভ্যন্তরীন অডিট কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জ ‘ল’ কলেজ পরিচালনা কমিটির নির্দেশে কলেজের হিসাব নিরীক্ষার জন্য শিক্ষক প্রতিনিধি এড. রাধাকৃষ্ণ শীল ও শিক্ষক এড. মো: দেলোয়র হোসেনের সমন্বয়ে ২ সদস্য বিশিষ্ট অডিট কমিটি গঠন করা হয়।
গত মাসের ১৭ তারিখে এ অডিট কমিটি এক প্রতিবেদন কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি এড. আর্শেদউদ্দিন চৌধুরীর নিকট দাখিল করে।
প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয় যে, ২০১০ সাল থেকে ২০১৪সাল পর্যন্ত সময়ে কলেজে এল-এল.বি প্রথম পর্বে ৪১৪ জন ছাত্রছাত্রীর নিকট থেকে ফরম ফিলাপ সহ ১৭,৩০০ টাকা হারে ৭১,৬২,২০০ টাকা এবং দ্বিতীয় পর্বে ২৩৮ জন ছাত্রছাত্রীর নিকট থেকে একই ভাবে ৪১,১৭,৪০০ টাকা এবং ২০১৫ সালে প্রথম পর্বে ৭৪ জন ও দ্বিতীয় পর্বে ৮৭ জন ছাত্রছাত্রী ভর্তি বাবদ যথাক্রমে ৫,৫৬,০০০ টাকা ও ৫,৬০,০০ টাকা সর্বমোট ১,২৩,৯৫,৬০০ টাকা আদায় করা হয়। কিন্তু তার কোন হিসাব না রেখেই লোপাট করা হয়।
এমন কি, ছাত্রছাত্রীদের নিকট সরবরাহকৃত আদায় রশিদের সঙ্গে সংরক্ষিত রশিদের মুড়ি ও আদায়কৃত টাকার পরিমানের কোন মিল নেই। একই সঙ্গে একই নম্বরে একাধিক রশিদ বই ছাপিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট থেকে বেশি বেশি টাকা আদায় করে অডিটকালে কম টাকা আদায় দেখানো রশিদও হাজির করা হয়। আদায়কৃত টাকার সকল তথ্য বিনষ্ট করা হয়েছে।
সূত্রে আরো জানা যায়, এ অডিট প্রতিবেদন পর্যালোচনার জন্য গত ৮ মার্চ কলেজ পরিচালনা কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কেরানী মজিবর রহমানের সহযোগিতায় আত্মসাৎকৃত এ বিপুল পরিমান টাকা গায়েব হওয়ার বিষয়ে কৈফিয়ত তলব করা হলে কলেজ অধ্যক্ষ এড. নুরুল ইসলাম সময়ের প্রয়োজন বলে জানান। পরে পরিচালনা কমিটি কর্তৃক চলতি মাসের মধ্যে হিসাব বুঝিয়ে দিতে অধ্যক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু কেঁচো খুড়তে গিয়ে সাপ বেরিয়ে পড়ার আশংকায় প্রভাবশালী মহলের তদ্বীরে তা ধামাচাপা দেওয়ার জোর চেষ্টা চলছে।
এ প্রসঙ্গে অডিট কমিটির অন্যতম সদস্য এড. মোঃ দেলোয়ার হোসেন সোমবার দুপুরে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, টাকার অভাবে অনেক সময় আমরা শিক্ষকরা বেতন না নিয়েও রশিদে সই করে দিয়েছি। অথচ কলেজ তহবিলের ১,২৩,৯৫,৬০০ টাকার কোন হিসাব নেই। এমনকি ছাত্রছাত্রীদের নিকট সরবরাহকৃত আদায় রশিদের সঙ্গে সংরক্ষিত রশিদের মুড়ি ও আদায়কৃত টাকার পরিমানের কোন মিল নেই। একই সঙ্গে একই নম্বরে একাধিক বই ছাপিয়ে ছাত্রছাত্রীদের নিকট থেকে বেশি টাকা আদায়ের রশিদও হাজির করা হয়। তাছাড়া কেরানী মজিবর রহমান বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করে।কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি এড. আর্শেদউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি রেস্টে আছেন জানিয়ে কলেজ অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য বলেন।
এ প্রসঙ্গে কলেজ অধ্যক্ষ এড. নুরুল ইসলাম জানান, অডিট কমিটি কাগজপত্র যাচাইবাছাই না করেই এ প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। পুনঃনিরীক্ষার জন্য পরে আমরা অভ্যন্তরীন অডিট কমিটি গঠন করেছি। কুইকনিউজবিডি.কম/নাঈম/২২-০৩-২০১৬