১৭ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৪:৪২

নিরাপত্তার দাবীতে কর্মময়জীবনে ৩৫ সাংবাদিকের করা জিডি আদালতে প্রেরণ

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পেশাজীবি স্থানীয় সংবাদকর্মীদের জীবনের নিরাপত্তার চেয়ে ৩৫সাংবাদিকের করা সদর মডেল থানায় জিডিটি আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। জেলা সদর থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো: মাসুদ আলম চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সাংবাদিকদের জিডির বিষয়টি তদন্তের অনুমতি চেয়ে বুধবার(২১ ডিসেম্বর) আদালতে আবেদন করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো: মাঈন উদ্দিন ভূইয়া। আদালতের নির্দেশ পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানান অফিসার্স ইনচার্জ মো: মাসুদ আলম চৌধুরী।
ঘটনার বিবরনে জানা যায়, প্রথম আলো’র খাগড়াছড়ির আলোকচিত্র সাংবাদিক নীরব চৌধুরীকে ধরে নিয়ে খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র মো: রফিকুল আলম কর্তৃক মারধরের প্রতিবাদে মঙ্গলবার(২০ডিসেম্বর) খাগড়াছড়ি পৌর শাপলা চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচি চলাকালে মেয়র মো: রফিকুল আলমের পক্ষে অনুগত হিসেবে পরিচিত মো: দিদার ওরফে কসাই দিদারের নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৪৫ জন সন্ত্রাসী ‘একটি-দুটি সাংবাদিক ধর, ধরে-ধরে জবাই কর”,সাংবাদিকদের আস্তানা-জ্বালিয়ে দাও পুড়িয়ে দাও’ ইত্যাদি শ্লোগান দিয়ে জঙ্গী মিছিল নিয়ে মানববন্ধনস্থলে পুলিশ ব্যারিকেটে মুখোমখি অবস্থায় হাজির হয়। একপর্যায়ে তারা মানববন্ধন কর্মসূচিতে ব্যবহারের জন্য সাংবাদিকদের আনা মাইক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সাংবাদিকদের অকথ্য ভাষায় গালাগালাজ ও মানববন্ধনে অংশ নেওয়া প্রত্যেক সাংবাদিককে জবাই করে হত্যা করার প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বক্তব্য দেন কসাই দিদার। সাংবাদিকরা শান্তিপূর্ণ মৌন মানববন্ধন কর্মসূচি পালনকালে সেখানে মেয়রের অনুগত দিদার ও তাঁর সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা সাংবাদিকদের মাইক কেড়ে নিয়ে সাংবাদিকদের হত্যাসহ নানা হুমকি দিয়ে বক্তব্য রাখলেও এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত সদ্য পদোন্নতি পাওয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: রইছ উদ্দিন ও সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) তারেক মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান সন্ত্রাসীদের নিবৃত্ত না করে উল্টো সাংবাদিকদের কর্মসূচী সংক্ষিপ্ত করে চলে যাওয়া পরামর্শ দেন। যা মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সকল সাংবাদিককে হতবাক, চিন্তিত মানবিক গুরুত্বর ব্যথিত করেছে।
খাগড়াছড়ি সদর থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো: মাসুদ আলম চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সাংবাদিকদের জিডির বিষয়টি তদন্তের অনুমতি চেয়ে বুধবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশ পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, খাগড়াছড়ি পৌর মেয়র মো: রফিকুল আলমের অনুগত সন্ত্রাসী দিদার ওরফে কসাই দিদার বাহিনীর হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে খাগড়াছড়ি সদর থানায় ৩৫ স্থানীয় পেশাজীবি সাংবাদিক একটি জিডি করেন। পৃথক ভাবে আরেএকটি জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে নির্যাতিত সাংবাদিক নীরব চৌধুরীও থানায় আলাদা জিডি করেন।
খাগড়াছড়ির কর্মরত সাংবাদিকরা এ প্রসঙ্গে বলেন, সাংবাদিকরা শান্তিপূর্ণ মৌন মানববন্ধন কর্মসূচি পালনকালে সেখানে মেয়রের অনুগত দিদার ও তাঁর সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা মাইক কেড়ে নিয়ে সাংবাদিকদের হত্যাসহ নানা হুমকি দিয়ে বক্তব্য রাখলেও এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত সদ্য পদোন্নতি পাওয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: রইছ উদ্দিন ও সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) তারেক মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান সন্ত্রাসীদের নিবৃত্ত না করে উল্টো সাংবাদিকদের কর্মসূচী সংক্ষিপ্ত করে চলে যাওয়া পরামর্শ দেন। যা মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সকল সাংবাদিককে হতবাক করেছে।
ঘটনার আকস্মিকতায় প্রতিকার চেয়ে সাংবাদিকেরা তাৎক্ষণিক খাগড়াছড়ির ২৯৮নং আসনে সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান ও পুলিশ সুপার মো: মজিদ আলীর সঙ্গে দেখা করে তাঁদের বিষয়টি জানান। পাশাপাশি সাংবাদিকরা নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করেন।
এই রকম সন্ত্রাসী ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন খাগড়াছড়ির সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি কলিম সরওয়ার ও সাধারণ সম্পাদক মহসিন চৌধুরী, বিএফইউজের সহ-সভাপতি শহীদ উল আলম, যুগ্ম সম্পাদক তপন চক্রবর্তী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রিয়াজ হায়দার ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, খাগড়াছড়ি রির্পোাটার্স ইউনিটি, ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ) সমর্থিক বৃহত্তর পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ।
নিন্দাকারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পেশাজীবী নেতারা খাগড়াছড়িতে সাংবাদিকদের কর্মসূচিতে বাধা সৃষ্টিকারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

 

 

 

কুইকনিউজবিডি.কম /তপন/২২শে ডিসেম্বর, ২০১৬ ইং/ দুপুর ১২:৫২