১৬ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ২রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৭:১৩

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিএডিসির সেচ প্রকল্প দখল করে শিল্প প্রতিষ্ঠান

মো:মোহেব্বুল্লাহ, পটুয়াখালী জেলা  প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের কৃষিকাজে সেচ সুবিধার লক্ষ্যে ইন্টিগ্রেটেড এগ্রিকালচারাল প্রডাক্টিভিটি প্রজেক্ট (আইএপিপি) এর ’মস্তফাপুর পাতকুয়া’ প্রকল্প দখল করে রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাংকের ঋণ নিয়ে এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে বিচ অটো রাইচ ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রকল্প এলাকার শতাধিক কৃষক সেচ সুবিধা বঞ্চিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক কারনে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা বলে অভিযোগ কৃষকের।

জানা যায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের কৃষি কাজে সেচ সুবিধা প্রদানে দাতা সংস্থার অর্থায়নে ইন্টিগ্রেটেড এগ্রিকালচারাল প্রডাক্টিভিটি প্রজেক্ট (আইএপিপি) এর তদারকি ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি), সেচ এর বাস্তবায়নে কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের মস্তফাপুর গ্রামে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে পনেরো লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি পাত কুয়া নির্মান করে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন।

প্রকল্পের শর্তানুযায়ী জমির মালিকের সাথে লিখিত চুক্তি পত্র করে পাতকুয়াটি উম্মুক্ত স্থানে নির্মান করে প্রাকৃতিক ভাবে বর্ষার পানি ও টিউবওয়েলের মাধ্যমে ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলনের কথা থাকলেও তা করা হয়নি। এমনকি পাত কুয়াটি নির্মানে বিশ ফুট ব্যাস ও বিশ ফুট গভীরতার নির্দেশনা মানা হয়নি। নারী ও পুরুষ সমন্বয়ে ৯৫ জন প্রান্তিক কৃষকের দল গঠন করে ৩০ একর জমির সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার কথা থাকলেও স্থানীয় কৃষকরা কমিটির অস্তিত্ব সম্পর্কে আদৌ অবগত নন।

প্রান্তিক কৃষক দলের সভাপতি প্রভাবশালী আবদুর রব হাওলাদার তার নিজস্ব লোকজন দ্বারা প্রান্তিক কৃষক দলের কাগুজে কমিটি করে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এফ এইচ এন্টারপ্রাইজ, বরগুনা কে ম্যানেজ করে তার মালিকানাধীন অটো রাইচ মিলের পানি সরবরাহ নিশ্চিতে কুয়াটি নির্মান করে। অত:পর প্রান্তিক কৃষক দলের সভাপতি আবদুর রব হাওলাদার তার পুত্র-জামাতার যোগ সাজশে পাত কুয়া প্রকল্পের লোহার তৈরী মজবুত সাইনবোর্ডটি ভেঙ্গে ফেলে পাতকুয়াটির অস্তিত্ব নষ্ট করে প্রকল্পটি পরীক্ষা মূলক ভাবে তৈরী এবং লবন পানি ওঠায় কৃষকের সেচ কাজে না আসার গল্প তৈরী করে মস্তফাপুর গ্রামে রটিয়ে দেয়।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় অপর একটি সূত্র জানায়, আবদুর রব হাওলাদার রাষ্ট্রায়াত্ত জনতা ব্যাংকের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে উৎপাদন সাপেক্ষে ঋন পরিশোধের শর্তে বিচ অটো রাইস মিলের অনুকুলে বিপুল অংকের ঋন নিয়ে শিল্প প্রতিষ্ঠানটির নির্মান কাজ সম্পন্ন না করে ঋনের টাকায় মস্তফাপুর গ্রামে নূরজাহান মহল, ইটভাটা সহ ঢাকা ও ভোলায় বিভিন্ন স্থাপনা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়েছেন নিজ পুত্র ও মেয়ে জামাতার নামে। এ বিষয়ে মস্তফাপুর প্রান্তিক কৃষক দলের সভাপতি ও মস্তফাপুর বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো: আবদুর রব হাওলাদার তার বিরুদ্ধে আনীত পাত কুয়া প্রকল্প দখল করে শিল্প প্রতিষ্ঠান নির্মানের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পাতকুয়াটি থেকে লবন পানি ওঠায় এটি ব্যবহার অনুপযোগী বিধায় তার জমিতে সে অটো রাইচ মিল করছেন, যা কৃষি বিভাগকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ইন্টিগ্রেটেড এগ্রিকালচারাল প্রডাক্টিভিটি প্রজেক্ট (আইএপিপি) এর পটুয়াখালী জেলা সমন্বয়কারী মো: নজরুল ইসলাম সিকদার জানান, পাত কুয়া প্রকল্পটি তার কর্মরত সময়ের পূর্বে করা হয়েছে এবং এটি বাস্তবায়ন করেছে বিএডিসি সেচ বিভাগ। তাই এ সম্পর্কিত কোন তথ্য তার জানা নেই। তার পূর্বতন জেলা সমন্বয়কারী এটি সম্পর্কে অবগত থাকতে পারেন বলে জানান তিনি। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন, সেচ এর পটুয়াখালী নির্বাহী প্রকৌশলী মো: সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া জানান, কৃষকদের সেচ সুবিধার জন্য পটুয়াখালীর মস্তফাপুর ও বরগুনার কাকচিড়ায় ২৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে পরীক্ষামূলক ভাবে দু’টি পাতকুয়া নির্মান করা হয়েছিল।

বরগুনার কাকচিড়ায় কৃষকরা পাতকুয়া থেকে সেচ সুবিধা পেয়ে কৃষি উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জন করলেও মস্তফাপুর প্রকল্পটি সফল হয়নি। মস্তফাপুর প্রকল্পটি দখলমুক্ত করতে ইতোমধ্যে অটো রাইচ মিল কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। পাতকুয়াটি দখলমুক্ত করে কৃষকদের ব্যবহার উপযোগী করা না হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করার কথা বলেন তিনি।

কুইকনিউজবিডি.কম/জয় রহমান /১৭ই ই ডিসেম্বর, ২০১৬ ইং / দুপুর  ১:৫৩