১৭ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৯:১৫

খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি প্রধান সড়কের নানিয়াচরের বুড়িঘাট ইউনিয়নে ভূমি বেদখল প্রচেষ্টা থেকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি পার্বত্য জেলার প্রধান সড়কের নানিয়াচরের বুড়িঘাট ইউনিয়নে ভূমি বেদখল প্রচেষ্টা থেকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইউপিডিএফ। ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ) রাঙামাটি জেলা ইউনিটের সংগঠক সচল চাকমা বুধবার এক বিবৃতিতে জেলার নানিয়াচর উপজেলায় বুড়িঘাট ইউনিয়নে সেটলার কর্তৃক বারংবার ভূমি বেদখল প্রচেষ্টা ও তা থেকে উদ্ভূত অবনতিশীল পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘গত ৮ডিসেম্বর বুড়িঘাট ইউনিয়নে মারমা অধ্যুষিত পলি পাড়ায় সেটলাররা পাহাড়িদের জমি বেদখল করতে গেলে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির সূত্র পাত হয়। এরপর বুধবার সকাল আটটার দিকে ৫০-৬০জনের একদল সেটলার আবার বুড়িঘাট বাজারের কাছে উত্তর হাতি মারায় পাহাড়িদের মালিকানাধীন জমি বেদখল করতে যায় এবং জমিতে ঝোপ-ঝাড় পরিস্কার করতে থাকে। এক পর্যায়ে পাহাড়ি গ্রামবাসীরা সংঘবদ্ধ হয়ে বাধা প্রদান করলে তারা চলে যেতে বাধ্য হয়। তবে দুপুরের দিকে তারা আবার একটি বিশেষ বাহিনীর সাহায্য নিয়ে ফিরে আসে এবং উত্তর হাতি মারায় পাহাড়িদের বসতিতে হামলা চালায়। গ্রেফতার ও নির্যাতনের ভয়ে পাহাড়িরা এখন এলাকা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘পাহাড়িদের সৃজিত আনারসহ বাগান ধ্বংস এবং জোর-জবরদস্তি করে পাহাড়িদের জমি বেদখল প্রচেষ্টার সাথে থাকার পরও প্রশাসন সেটলারদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো পাহাড়ি ভূমি মালিক ও ভূমি বেদখলে বাধা প্রদানকারীদের গ্রেফতার ও হয়রানি করছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করছে। গত ১২ডিসেম্বর জমি বেদখলে বাধা দেয়ার কারণে পাঁচজন পাহাড়িকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’
ইউপিডিএফ নেতা ভূমি বেদখল প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘একটি বিশেষ মহল বাঙালি সেটলারদেরকে ভূমি বেদখলে উস্কে দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তুলতে চাইছে, বুড়িঘাটের ঘটনা তার জ¦লন্ত প্রমাণ।’


তিনি অবিলম্বে ভূমি বেদখল বন্ধ, বেদখল প্রচেষ্টার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তি এবং আটককৃত নিরীহ গ্রামবাসীদের মুক্তি দেয়ার দাবি জানান। ইউপিডিএফর প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের নিরন চাকমা স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
একই ভাবে খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি প্রধান সড়কে যাত্রীবাহি বাস-মোটর সাইকেলসহ বিভিন্ন পরিবহনে অনৈতিক গতিরোধ করে নানান ধরনে চেকপোষ্টে সেনা সদস্য কর্তৃক হয়রানিমূলক, ভয়ভীতি, উষ্কে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যাতায়াতকারী যাত্রীদের। এতে সংবাদকর্মী, সমাজকর্মী, জরুরী কাজে সরকারী-বেরকারী কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিচয় দেওয়ার পরও সামরিক কায়দায় পরিবহন থেকে নামিয়ে লাইনে দাড়িয়ে ঠিকানা সংবলিত জাতীয় পরিচয় পত্র প্রদান, বেগ তল্লাশী করে মোবাইলে ছবি তুলে রাখা হচ্ছে, গনতন্ত্রে অপরিপন্থি যাহা অত্যান্ত আপত্তিকর বলে অনেকে মন্তব্য করেন। পাশর্^বর্তী আর্মি ক্যাম্পে কুতুবছড়ি সাব-জোন কমান্ডার মেজর মো: ইমরান সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বঘাছড়ি আনরস বাগানে ভূমি দখলকে কেন্দ্র করে পাহাড়ী-বাংগালী উভয়ে উতেজনাকর পরিস্থিতি থাকার কারনে রুটিন মাফিক চেকপোষ্ট বসিয়ে আমি নিজে দাড়িয়ে থেকে চেক করতে হচ্ছে।

 

 

 

 

কুইকনিউজবিডি.কম/  মাসুম / ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ ইং /  সকাল ৯:৫০