১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১:৩৬

হাইমচরের ঐতিহ্য ও প্রধান অর্থকারী ফসল পান-সুপারি

মেঘনার তীরবর্তী চাঁদপুরের উপজেলা হাইমচর। আয়তনের দিকে থেকে অনেক ছোট। এ উপজেলার অধিকাংশ মানুষ মাছ ধরে ও কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে।

এ উপজেলার অর্থকারী ফসলের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পান ও সুপারি। বারো মাসই কম-বেশি উৎপাদিত হয় এ দু’টি ফসল। বিশেষ করে পান বছরের সবসময় পাওয়া যায়।

৬০ থেকে ৭০ বছর আগে থেকে পান চাষের প্রচলন শুরু হয়। জলাবদ্ধতাই পান চাষে ক্ষতির মূল কারণ। তবে শীত মৌসুমেও পানে পচন ধরে বলে জানালেন কৃষকরা।

সম্প্রতি হাইমচর উপজেলার পান ও সুপারি চাষিদের সঙ্গে কথা হয়। এ উপজেলার দক্ষিণ আলগী, গন্ডামারা, কৃষ্ণপুর ও বাজাপ্তি গ্রামে পান চাষ হয় বেশি। যারা পান চাষ করেন তাদের মধ্যেই অনেকের ব্যবসায়ীকভাবে সুপারি বাগান রয়েছে। আবার কেউ কেউ শখের বশে বাড়িতে সুপারির বাগান করেছেন। পুরো উপজেলায় পানের বরজ আর সুপারির বাগান। অর্থকরী ফসল দু’টি এই এলাকার মানুষের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছে।

দক্ষিণ আলগী নয়ানী লক্ষ্মীপুর গ্রামের পান চাষি মো. ইসমাইল গাজী বাংলানিউজকে জানান, ২০ বছর ধরে তিনি পানের চাষ করছেন। পান চাষে ক্ষতির আশঙ্কা খুবই কম। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়া পান চাষ খুবই লাভজনক। পানের বরজগুলো রক্ষণাবেক্ষণে প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মালিক শ্রমিক কাজ করেন।

কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম কোতওয়াল জানান, শীতকালে পানে কিছুটা পচন দেখা দেয়। তখন অনেক পান নষ্ট হয়ে যায়। এবছর তার খেতে পচন দেখা দিয়েছে।

তিনি আরো জানান, পানের দাম এখন কিছুটা কম, প্রতি বিড়া পান ২০ থেকে ৩০ টাকা। আবার বড় সাইজের পান ৫০-৬০ টাকা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন স্থানে কাঁচা-পাকা সুপারি স্তুপ দিয়ে রাখা হয়েছে, সেখান থেকেই বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে রাস্তার মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে সুপারি কিনছেন ব্যবসায়ীরা।

হাইমচর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ‘উপজেলায় স্থানীয়ভাবে মহানলী, চালতা কোঠা, নল ডোগ, সাচিপান বেশি চাষ হয়। এর মধ্যে সাচি পানের চাষই সবচেয়ে বেশি। আর সুপারির কোনো জাত নেই স্থানীয়ভাবে যে সুপারি রয়েছে সেগুলোই পাওয়া যায়। সুপারি চাষের জন্য কোন বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।’

হাইমচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন জানান,‘উপজেলার ২১৭ হেক্টর জমিতে পান এবং ৩১০ হেক্টর জমিতে সুপারি চাষ হয়। এই পান-সুপারি চাষের সঙ্গে প্রায় ৯শ’ কৃষক জড়িত রয়েছেন। এ দু’ফসল থেকে বছরে একজন কৃষক কমপক্ষে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা আয় করেন।’

তিনি আরো জানান, ‘উপজেলার কৃষকরা পান ও সুপারি চাষ করেই পরিবারের খরচ জোগান। হাইমচরের পান ও সুপারি উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে অন্যান্য উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলায় বিক্রি হয়। পান ও সুপারি এখন এ উপজেলার ঐতিহ্য।’

 

কুইকনিউজবিডি.কম/ তপন / ১০ই ডিসেম্বর, ২০১৬ ইং /বিকাল  ৪:২৪