২১শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৬:০০

সব আসামির ফাঁসির আবেদন রাষ্ট্রপক্ষের

ডেস্ক নিউজঃ নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের মামলার সব আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি রশিতে ঝুলিয়ে ফাঁসির আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। গতকাল সোমবার নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রাষ্ট্রপক্ষ এ আবেদন জানায়।
গতকাল আদালতের কার্যক্রম সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত চলে। রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক সমাপ্ত হওয়ার পর ১৫ জন আসামির আইনজীবীরা তাঁদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন। বাকি ২০ আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কের জন্য আজ মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছেন আদালত।
মামলার ৩৫ জন আসামির মধ্যে কারাগারে থাকা ২৩ জনকে গতকাল আদালতে হাজির করা হয়। এর মধ্যে লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বরখাস্ত) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর (বরখাস্ত) আরিফ হোসেন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (বরখাস্ত) এম এম রানা বাদে বাকি ২০ আসামির হাতে হাতকড়া ও পায়ে ডান্ডাবেড়ি পরানো ছিল। যুক্তিতর্ক চলাকালে তারেক সাঈদ ও আরিফ হোসেনকে আদালতকক্ষের লোহার খাঁচার মধ্যে অন্য আসামিদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়।
সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা ৭ মিনিট পর্যন্ত রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ওয়াজেদ আলী খোকন। তিনি এ মামলায় ১৬৪ ধারার জবানবন্দি, ম্যাজিস্ট্রেটদের দেওয়া সাক্ষ্য, বস্তুগত সাক্ষ্য তুলে ধরেন। নিহত সাতজনের লাশ যাঁরা শনাক্ত করেছেন তাঁদের সাক্ষ্য, নিহত ব্যক্তিদের পরনের পোশাক শনাক্তকারীদের সাক্ষ্যও তুলে ধরেন। পরে তিনি আদালতের কাছে এই আসামিদের রশিতে ঝুলিয়ে ফাঁসির দণ্ড দেওয়ার আবেদন জানান। তিনি বলেন, ‘আসামিদের সম্পৃক্ততা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছি বলে আদালত আমার আবেদন রাখবেন সেই প্রত্যাশা করছি।’
রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আসামি মোখলেসুর রহমান, সৈনিক আবদুল আলীম, মহিউদ্দিন মুন্সি, ল্যান্স নায়েক হীরা মিয়া, করপোরাল রুহুল আমিন, সৈনিক নুরুজ্জামান, উপপরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ, সেলিম, সানাউল্লাহ ওরফে সানা, সহকারী উপপরিদর্শক কামাল হোসেন, কনস্টেবল হাবিবুর রহমান, আলামিন, তাজুল ইসলাম, এনামুল কবির, বেলাল হোসেনের পক্ষে চারজন আইনজীবী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। তাঁদের সবার বক্তব্য ছিল প্রায় একই রকম।
এঁদের মধ্যে উপপরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ, সেলিম ও সানাউল্লাহর আইনজীবী আনিসুর রহমান মোল্লা বলেন, তাঁর মক্কেলরা ঘটনার দিন র্যা ব কর্মকর্তাদের অধীনে যে কর্মরত ছিলেন, সে বিষয়টি রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে পারেনি। অপহরণের ঘটনাটি কেউ কেউ দেখে থাকলেও খুনের ঘটনাটি ১০৬ সাক্ষীর কেউ দেখেননি, অর্থাৎ খুনের কোনো প্রত্যক্ষদর্শী নেই। এঁরা যে খুনের ঘটনার সঙ্গে ছিলেন, সেটিও কেউ স্পষ্ট করে বলেননি। এ ছাড়া এই আসামিরা পলাতক থাকায় ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে কে কী বলেছেন, তা তাঁদের ওপর বর্তায় না। পলাতক থাকায় এঁরা দোষী—এ রকম কোনো ধারণা করাও ঠিক হবে না। এঁরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন দাবি করে তিনি মামলা থেকে তাঁদের বেকসুর খালাস চান।
আদালতের কার্যক্রম শেষে সংবাদ সম্মেলনে ওয়াজেদ আলী বলেন, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আসামি নূর হোসেন কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, তাঁর গাড়িচালক জাহাঙ্গীরসহ অন্যদের পূর্বশত্রুতা থাকার কারণে র্যা ব সদস্যদের দিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যান। অপহরণের পেছনে নূর হোসেনের পূর্বপরিকল্পনা ছিল এবং এই হত্যাকাণ্ড ঘটানোর জন্য লজিস্টিক সাপোর্টও যে তিনিই দিয়েছেন তা যুক্তিতর্কে বলেছেন।
ওয়াজেদ আলী বলেন, হত্যাকাণ্ডটি যে র্যা ব সদস্যরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ঘটিয়েছেন, সেটিও তিনি উপস্থাপন করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষ এই মামলার ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা, হত্যার পরিকল্পনা, অপহরণ এবং অপহরণ শেষে হত্যা, হত্যার পরবর্তী পর্যায়ে লাশগুলো গুম করার বিষয়টি প্রমাণ করতে শতভাগ সমর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দুই থেকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাঁদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন। আগামী জানুয়ারি মাসে এ মামলার রায় হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার লামাপাড়া থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে অপহরণ করা হয়। পরে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাঁদের লাশ উদ্ধার করা হয়। নজরুল ও তাঁর চার সঙ্গীকে হত্যার ঘটনায় নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম একটি এবং জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন সরকার ও তাঁর গাড়িচালক ইব্রাহিম হত্যার ঘটনায় তাঁর জামাতা বিজয় কুমার পাল ফতুল্লা থানায় আরেকটি মামলা করেন। তদন্ত শেষে প্রধান আসামি নূর হোসেন, র্যা বের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে গত বছরের ৮ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। গত ৮ ফেব্রুয়ারি আদালত অভিযোগ গঠন করেন। র্যা বের ৮ সদস্যসহ পলাতক ১২ আসামির অনুপস্থিতিতেই বিচারকাজ শুরু হয়।

 

 

 

 

কুইকনিউজবিডি.কম/আরিফ/ ২২ শে নভেম্বর, ২০১৬ ইং/  সকাল ৯ঃ৫০