২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৮:৫৪

গোপালগঞ্জে হারিয়ে যেতে বসেছে বাবুই পাখির শৈল্পিক বাসা

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জের “বাবুই পাখিরে ডাকি, বলিছে চড়াই, কুঁড়ে ঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই। আমি থাকি মহা সুখে অট্টালিকার পরে, তুমি কত কষ্ট পাও রোদ বৃষ্টি ঝড়ে। বাবুই হেসে কহে সন্দেহ কি তাই। কষ্ট পাই তবু থাকি নিজের বাসায়। পাকা হোক তবু, ভাই পরের বাসা, নিজ হাতে গড়া মোর কাঁচা ঘর খাসা”।
কবি রজনীকান্ত সেনের কালজয়ী এ কবিতা মনে হলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে তালগাছের মাথায় বাবুই পাখির শত শত বাসা বাধাঁর দৃশ্য আর তাদের চির চেনা কিচির মিচির শব্দ। গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন গ্রামের রাস্তার ধারে, পুকুর কিংবা নদীর পারে দাড়িয়ে থাকা প্রায় প্রতিটি তাল গাছেই এক সময় বাবুই পাখির বাসা চোখে পড়ত। দৃষ্টি নন্দন সেই বাসা তৈরিতে ব্যস্ত থাকত বাবুই পাখি গুলো।
কিন্তু এখন গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন গ্রাম গুলিতে তাল গাছ বিলুপ্ত প্রায়। সেই সাথে হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই পাখিও। এক পায়ে দাড়িয়ে থাকা তাল গাছের পাতায় এখন আর দেখা যায়না বাবুই পাখির শৈল্পিক বাসাও।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ডুমদিয়া গ্রামের মামুন গাজীর পুকুর পাড়ের তাল গাছে বেঁধেছে বাবুই পাখির চিরচেনা সেই বাসা। আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা মানুষের মনে বাবুই পাখির কিচির মিচির শব্দে কিছুক্ষনের জন্য হলেও প্রশান্তি মেলে। স্মৃতিপটে ভেসে উঠে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী সারি সারি তালগাছ। আর সেই গাছের উপর দেখা যেত শিল্পমনা বাবুই পাখির আপন মনে বাসা তৈরির দৃশ্য।
একই গ্রামের সাইফুর রহমান বলেন, এক সময় আমাদের এই গ্রামে অনেক তালগাছ দেখা যেত, আর তাতে ছিল বাবুই পাখির বাসা। অনেক ভাল লাগত সেই দৃশ্য দেখে। বর্তমানে তালগাছ কেটে এখন সবাই ফল আর কাঠের গাছ রোপন করছে আর তাই তালগাছের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে শৈল্পিক বাবুই পাখি ও তার বাসা।

 

 

কুইকনিউজবিডি.কম/আনজুম মৌ /১৬.১১.২০১৬ইং/ রাত ৩:১৬