২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৭:০৩

বোমায় আহত ব্যক্তির বাড়ি থেকে বোমা ও অস্ত্র উদ্ধার

ডেস্ক নিউজঃ রাজশাহীর পুঠিয়ায় বোমার আঘাতে আহত যুবকের বাড়ি থেকে গত শনিবার রাতে বোমা ও অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। রাতেই আহত যুবকের বাবা-মা ও ভাবিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে বাবা-মাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পুঠিয়া উপজেলার তাড়াশ গ্রামে শনিবার বোমা বিস্ফোরণে আবদুল খালেক (৩০) নামের এক ব্যক্তির হাতের কবজি উড়ে যায়। এ ছাড়া তাঁর চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক তৌফিকুল ইসলাম গতকাল রোববার সকালে বলেন, আবদুল খালেকের দুই হাতেই অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। দুই হাতের কবজি পর্যন্ত নেই। এখন তাঁকে পোস্ট অপারেটিভ কক্ষে রাখা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, তাড়াশ গ্রামের সোহরাব হোসেনের বাড়িতে এ বিস্ফোরণ ঘটে। পুলিশ সোহরাবের স্ত্রী মাতোয়ারা বেগমকে (৪০) আটক করেছে। মাতোয়ারা পুলিশকে বলেন, তাঁর মেয়ের স্বামী বুলবুল আবদুল খালেককে তাঁদের বাসায় নিয়ে আসেন। তাঁরা ঘরের ভেতরে বসে গল্প করছিলেন। হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে।
চারঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারণ চন্দ্র বর্মণ বলেন, খবর পাওয়ার পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে আবদুল খালেকের বাড়ি চারঘাট উপজেলার গোপালপুর গ্রামে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, তিনি তাঁর ভাই মাজেদুল ইসলামের বাড়িতে থাকেন। তাঁর বাবা-মা ভাইয়ের বাড়ি থেকে ৫০০ গজ দূরে আলাদা বাড়িতে থাকেন। তাঁর ভাইয়ের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ দুটি বোমা, বোমা তৈরির কিছু বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করে। বাড়িতে দুটি জিহাদি বইও পাওয়া গেছে।
পুলিশ রাতেই আবদুল খালেকের বাবা আবু বাক্কার, মা ফাতিমা বেগম ও ভাবি ইসমত আরাকে আটক করে। রাতেই জিজ্ঞাসাবাদ করে বাবা-মাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ইসমতের বরাত দিয়ে ওসি বলেন, আবদুল খালেক চারঘাট এম এ হাদী কলেজে পড়েন। পাশাপাশি তিনি পুরোনো মোটরসাইকেল কেনাবেচা করেন। তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন, কিন্তু কখনো মসজিদে যান না। বেশির ভাগ সময় তিনি গভীর রাতে বাড়ি ফেরেন।
পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, শনিবার রাতে আবদুল খালেক, সোহরাব হোসেন, বুলবুল ও সোহরাবের ছেলে জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন মামলা হয়েছে। পুঠিয়া উপজেলার খুর্দ্দজামিরা গ্রামে বুলবুলের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। বাড়িতে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে সোহরাব হোসেনের স্ত্রী মাতোয়ারা বেগমকে আটক করা হলেও তাঁকে মামলার আসামি করা হয়নি।

 

 

 

 

কুইকনিউজবিডি.কম/ আরিফ/৭ই নভেম্বর, ২০১৬ ইং/ সকাল ৮:১০