১৫ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৮:০৩

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি

কলামিস্ট :  আমাদের পাড়ার গনেশ কাকু, উৎপল দা, বন্ধু নারায়ণ, পরেশ, বাজারের চালের দোকানদার কার্তিক নানা সবার সাথে অনেক ভাল সম্পর্ক। লক্ষী মাসি কতবার মাথায় হাত বুলিয়ে আর্শিবাদ করেছে। স্কুলের সুরেন স্যারতো আমি বলতে অজ্ঞান। এরা আমাদের আত্নীয়-পরমাত্নীয়। শত বছরের বন্ধন যদি থাকে তবে সেখানে রক্তের সম্পর্কতো গৌন বিষয়ই। একবার ভাবুনতো কিছু অর্বাচিন পশু এসব মানুষগুলোকে জমি/সম্পত্তির লোভে মালায়ন বলে রাতের আধারে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে দিল।

শকুন্তুলা মাসির মেয়ে পূজাকে স্কুলে যেতে আসতে বাজে মন্তব্য, রাতের আধারে কলেজ পড়ুয়া পার্বতির রুমে ঢিল ছোড়া নিত্যদিনের কাজ এসব অর্বাচিনদের। স্বার্থবাজ মানুষের যুক্তি এরা মালায়ন। সুতরং ইন্ডিয়ায় চলে যাবে। একবার ভাবুনতো হাজার বছর ধরে বংশ পরম্পরায় এসব মানুষ আপনার প্রতিবেশী হয়ে বাস করছে। ইচ্ছে করলেই চৌদ্দ পুরুষের ভিটেমাটি ত্যাগ করতে পারবেন আপনি।
যেটা আপনি পারবেন না তাহলে জমির লোভে অপরকে কেন বলেন ? আমাদের পাশের পাড়ার দিপেন কাকু মোড়লদের চাপে জমি বিক্রি করে ইন্ডিয়া চলে গেছে। শেষ দৃশ্যে তাকে দেখেছি বাড়ি মাটিতে শুয়ে তাকে চুমো খেতে, পরম মমতায় ঘড়ের পাশের আম গাছটাকে তিনি জড়িয়ে ধরে কেদেঁছেন। বিক্রি করে দেওয়া গরুটাকে শেষবারের মত ছুয়ে অঝোড়ে ফেলেছেন চোখের জল। উদাস দৃষ্টিতে বাড়ির দিকে তাকিয়ে থেকে চলে গেছেন অজানার পথে। মাসখানিক পরেই আবার পরিবার রেখে তিনি একাই এসেছিলেন এপারে। সেই ছোটবেলার স্মৃতি বিজড়িত নদীর পাড়, খেলার মাঠ, দাসপাড়ার আমবাগান, রাস্তার কোনার তাস খেলার স্থান একা একা হেটে বেড়িয়েছেন দুপুর পর্যন্ত।
এরপর শুন্য ভিটায় শুয়ে থেকে মাটি গন্ধ নিয়েছেন প্রাণভরে। প্রতিবেশীর কাছে বিক্রি করে দেওয়া গরুটাকে মাঠে বসে একাই আদর করেছেন ঝড়িয়ে ধরে, মাঠ থেকে ঘাস কেটে নিজ হাতে খাইয়েছেন। শেষ বিকেলে বাড়ির পাশে ডোবায় গোসল সেরে আবার ওপারের পথ ধরেছেন। সারদিনেও তিনি খাননি কিছুই। অব্যক্ত কষ্টটা বুকে ধরে একরাশ ঘৃণা রেখে আবারও চলে গেছেন। হয়ত আবারও আসবেন, এভাবেই জন্মের মাটি, আলো, বাতাসকে ভালবাসবেন। কিন্তু তিনি এদেশের মানুষ হতে পারবেননা। তাকে মালায়ন বলে তাড়াতে হবে কারন তা না হলে তো আর তার সম্পত্তি অল্প টাকায় কব্জা করা যাবেনা। 

ভারতের নির্যাতিত সংখ্যালঘু, মায়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলমান সবার ক্ষেত্রেই একই ঘটনা ঘটে থাকে।


লেখক  : সানাউল হক সানী,
সাবেক সাধারণ সম্পাদক, 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি।
কুইকনিউজবিডি.কম/মোজাম্মেল হক মাসুম / ৬ই নভেম্বর,, ২০১৬ ইং, ২০১৬ ইং/ সকাল ১০ঃ০৮