১৭ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩রা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সন্ধ্যা ৬:২২

চারঘাটে দুপক্ষের সংঘর্ষে নিহিত ১, ভয়ে ৪০ টি বাড়ী নারী-পুরুষ শুন্য

অরুন শীল, রাজশাহী প্রতিনিধি :রাজশাহীর চারঘাটে দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় এক ব্যাক্তির মৃত্যুকে ঘিরে প্রতিপক্ষের প্রায় ৪০ বাড়ী ঘর এখন নারী-পুরুষ শুন্য। আর এ সুযোগে প্রতিপক্ষের বাড়ীঘর ভাংচুরসহ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

তবে পুলিশ ও নিহত ব্যাক্তির আত্মীয় স্বজন এ অভিযোগ অস্বিকার করেছেন। জানাযায়, উপজেলার রায়পুর গ্রামে আম ব্যবসার লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধে গত ২৯ অক্টোবর মালেক ও শহিদুল গ্র“পের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১৭ জন আহত হয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই চারঘাট মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন।

উক্ত মামলার প্রেক্ষিতে উভয় পক্ষের আসামীরা জামিন নিয়ে বাড়ী থাকলেও গত ১৫ অক্টোবর মালেক পক্ষের আহত আব্দুল খালেক নামের এক ব্যাক্তি তার নিজ বাড়ীতে মারা যায়। এ ঘটনায় নিহত খালেকের আত্মীয় স্বজন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। ভয়ে বাড়ী ছেড়ে পালিয়ে যায় শহিদুল পক্ষের প্রায় ৪০ টি পরিবারের পুরুষ। বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে নারীদেরও। এমন অভিযোগ পুরুষ শুন্য পরিবার গুলোর নারীদের। তারা নিজ বাড়ী ছেড়ে অসুস্থ্য ও ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন পার্শ্ববর্তী এলাকায়।

আর এ সুযোগে নারী পুরুষ শুন্য কয়েকটি পরিবারে ব্যাপক লুটপাট চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। সোমবার বিকেলে স্থানীয় গনমাধ্যম কর্মীরা ওই এলাকায় গেলে দেখা যায় ওই এলাকার প্রায় ৪০ টি পরিবার এখন নারী-পুরুষ শুন্য। বাড়ী গুলোতে নেই কোন গরু, ছাগল, হাস, মুরগী। ভাঙ্গা রয়েছে দোকানপাট ও কয়েকটি বাড়ীর প্রধান গেটসহ ঘরের মধ্যে থাকা আসবাবপত্র।

 এ ভাংচুরের কথা অস্বিকার করেছে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক খায়রুল ইসলামসহ প্রতিপক্ষ নিহতের আত্মীয় স্বজন।নিহত আত্মীয স্বজনের অভিযোগ পালিয়ে থাকা ব্যাক্তিরাই রাতের আধারে তাদের জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়েছে। এখন তারা নিজেদের বাচতে অন্যের উপর দোষ চাপাচ্ছে। তবে ঘর-বাড়ী ছাড়া শাহানা, শাহেদা বেগমসহ একাধিক নারীরা জানান, আমাদের লাঠি সোঠা নিয়ে তেড়ে আসায় আমরা জীবন বাচাতে এখন আশ্রয় নিয়েছি পার্শ্ববর্তী এলাকায়। আর এ সুযোগে নিহত খালেকের আত্মীয় স্বজনরাই আমাদের বাড়ী ঘরে ভাংচুর চালিয়ে গরু, ছাগল, টিভি, ফ্রিজসহ মালামাল লুটপাট করে নিয়েছে।

চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিবারন চন্দ্র বর্মন জানান, খালেক নিহত হওয়ার খবর শুনেই প্রতিপক্ষের লোকজন বাড়ী ছেড়ে পালিয়েছে। তবে তারা নিজেরাই তাদের জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়েছে। এখানে নিহতের আত্মীয় স্বজন লুটপাট করেছে তথ্যটি সঠিক নয়। তার পরেও তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২৯ অক্টোবর সকালে আম ব্যবসার টাকা পয়সা লেনদেন সংক্রান্তে শহিদুল গ্র“পের সাথে মালেক গ্র“পের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ১৭ জন আহত হয়। আহত খালেক ৫ অক্টোবর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ী ফিরে ১৫ অক্টোবর মারা যায়।

 

কুইকনিউজবিডি.কম/মান্নান/১৭ই অক্টোবর, ২০১৬ ইং/রাত ১১ঃ১৬