১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৯:০১

ছয় মাস বাস চলাচল বন্ধ

ডেক্স নিউজঃ দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় গোয়ালন্দ-ফরিদপুর-তাড়াইল সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া ভাঙ্গা উপজেলায় সড়কটির ৩০০ মিটার আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙনের কবলে পড়েছে। ফলে ছয় মাস ধরে ৬৫ কিলোমিটারের এই সড়কে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছে পাঁচ উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ফরিদপুর কার্যালয় ও সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর-বরিশাল প্রকল্পের আওতায় ফরিদপুর ইউনিটে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গার তাড়াইল পর্যন্ত ৬৫ কিলোমিটার বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করে পাউবো। ২০০৪ সালে ওই বাঁধের ওপর দিয়ে এই সড়কটি নির্মাণ করে ফরিদপুর সড়ক বিভাগ। এই সড়ক দিয়ে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ, ফরিদপুর সদর, চরভদ্রাসন, সদরপুর, নগরকান্দা ও ভাঙ্গা উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ চলাচল করে।
২ ও ৩ অক্টোবর সরেজমিন ঘুরে গোয়ালন্দ-তাড়াইল সড়কের বেহাল দশা নজরে আসে। এর মধ্যে গোয়ালন্দের জমিদারবাড়ি সেতু থেকে রহিম প্রামাণিকের বাড়ি পর্যন্ত দুই কিলোমিটার, গুলজার চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে বালিয়াডাঙ্গীর বটতলা পর্যন্ত এক কিলোমিটার, ইদ্রিস মিয়ার হ্যাচারি থেকে ইউসুফের বাড়ি পর্যন্ত এক কিলোমিটার এবং আলাউদ্দিনের বাড়ি থেকে আনন্দবাজার পর্যন্ত এক কিলোমিটার অংশে বড় বড় গর্ত রয়েছে। এ ছাড়া ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার শৈলডুবি মধ্যপাড়া থেকে মজুমদার সেতু পর্যন্ত দুই কিলোমিটার, ভাঙ্গার নাসিরাবাদ ইউনিয়নের আলেম মোল্লার মোড় থেকে তাড়াইলের আলী হায়দারের দোকান পর্যন্ত ছয় কিলোমিটারেরও একই রকম অবস্থা।
এ ছাড়া আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙনের কবলে পড়ে সড়কটির সবচেয়ে নাজুক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে ভাঙ্গা উপজেলার নাসিরাবাদ ইউনিয়নের দরগা বাজার এলাকায়। ওই এলাকায় সড়কের ১৫০ মিটার অংশ বিলীন হওয়ার পথে। আরও ১৫০ মিটার ভাঙনের কবলে পড়েছে। এখানে ১৮ ফুট প্রস্থের সড়কটি ৩ ফুটে এসে পৌঁছেছে। গত আগস্টে এখানে ভাঙন শুরু হয়। পাউবো বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলেও এ ভাঙন ঠেকাতে পারছে না।
দরগা বাজার এলাকার আব্বাস মাতব্বর বলেন, ২০০৮ সালে এই এলাকায় নদের ভাঙনে ৫০০ মিটার অংশ বিলীন হয়ে যায়। পরে সড়কটি দরগা বাজারের পূর্ব দিক দিয়ে পুনর্নির্মাণ করা হয়। কিন্তু সড়কটি আবার নতুন করে ভাঙনের মুখে পড়েছে।
ভাঙ্গার নাসিরাবাদ ইউনিয়নের কোষাডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা অটোরিকশাচালক সোবহান ফকির বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়া চলতে গেলে যাত্রীদের কাছ থেকে ডাবল ভাড়া নিয়াও লাভ থাকে না। রাস্তা খারাপ হওয়ায় ঝাঁকিতে গাড়ির নাট-বল্টু পর্যন্ত খুইলা যায়।’
গোয়ালন্দের আবুলের মোড় এলাকার কৃষক আলাউদ্দিন ফকির বলেন, ‘রাস্তা খারাপ হওয়ায় তিন কিলোমিটার পথ বেশি ঘুইরা গোয়ালন্দ বাজারে যাইতে হয়। সময় ও খরচ হয় বেশি।’
ফরিদপুরের টেপাখোলা বাসস্ট্যান্ড থেকে এই সড়ক দিয়ে গোয়ালন্দ, সদরপুর, চরভদ্রাসনে বাস চলাচল করত। কিন্তু সড়কটির বেহাল দশার কারণে বর্তমানে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
আঞ্চলিক মিনিবাস মালিক সমিতি টেপাখোলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বলেন, এই সড়ক দিয়ে তিনটি রুটে মোট ৬০টি বাস চলাচল করত।

সড়ক খারাপ থাকায় ছয় মাস ধরে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
সড়ক বিভাগ ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এই সড়কটির ৫৩ কিলোমিটার অংশ প্রশস্তকরণসহ সংস্কারের জন্য ‘গোয়ালন্দ-ফরিদপুর-তাড়াইল সড়ক’ প্রকল্প নামে ২০১০ সালে কাজ শুরু হয়েছে। ৭৬ কোটি টাকার ওই কাজ ২০১৭ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা। যে ১৩ কিলোমিটার সড়ক বেহাল অবস্থায় রয়েছে তা ওই প্রকল্পের আওতায় ছিল না। চলমান প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর নতুন আরেকটি প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
পাউবো ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, দরগা বাজার এলাকায় ভাঙনকবলিত ৩০০ মিটার অংশ মাটি দিয়ে ভরাট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ওই সড়কটি নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য জলবায়ু প্রকল্পের আওতায় ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।