২০শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং | ৫ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১২:৫৮

মাদারীপুর ডিসির অপসারণের দাবী তীব্র আন্দোলনের হুশিয়ারি সচেতন মহলের

আব্দুল্লাহ আল মামুন,মাদারীপুর জেলা সংবাদদাতা: ৪ দিন অতিবাহিত হলেও মাদারীপুর জেলা শহরের ২০০ বছরের পুরোনো পুলিশ ফাড়ির পুকুরটির জোরপুর্বক ভরাট কাজ বন্ধে জেলা প্রশাসন কোনই ব্যবস্থা নেয়নি। নৌপরিবহন মন্ত্রীর নির্দেশে জেলা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কয়েক নেতাকর্মীরা  সরকারী সম্পত্তি এ পুকুরটির ভরাটে কাজ অব্যাহত রেখেছে বলে স্থানীয়রা জানায় ।

পুকুর ভরাটের কাজে প্রতিবাদ জানিয়ে মাদারীপুর পৌর মেয়র স্থানীয় কয়েকটি পরিবেশবাদী সংগঠন মাদারীপুর জেলা প্রশাসককে চিঠি দিলেও প্রশাসনের কাছে সেই দাবী এখন উপেক্ষিত ।


পৌরমেয়র ও স্থানীয়রা জানান মাদারীপুর শহরে অবস্থিত পুলিশ ফাঁড়ি পুকুর নামে পরিচিত ২ একর ৩ শতক আয়তনের ওই পুকুরটির মালিক জেলা প্রশাসন। ভরাটে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের চাচাতো ভাইয়ের ছেলে মাদারীপুর সরকারি নাজিমউদ্দিন কলেজের সাবেক জিএস সাইদুর রহমান রুবেল খান, মাদারীপুর জেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ও জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভির মাহমুদ। সরেজমিনে দেখা যায়, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ২০-২৫ জন নেতা-কর্মী ওই এলাকায় উপস্থিত থেকে সার্বক্ষণিক ভরাট কাজ তদারক করছেন।


আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ফাউন্ডেশনের সভাপতি রেজাউল হক রিজেন ও  সাধারন সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, নৌপরিবহনমন্ত্রীর  নির্দেশে পুকুরটি ভরাট হচ্ছে। কিন্তু জেলা প্রশাসন সব জেনেও রহস্যজনকভাবে নিরব রয়েছে । আর আন্দোলনকারীদের পুলিশ দিয়ে হয়রানি করছে।

পুকুর ভরাট বন্ধ করা না হলে আমরা বাধ্য হয়ে পরিবেশ আদালতে মামলা করব। পৌর মেয়র খালিদ হোসেন বলেন, ‘প্রশাসনের ইচছাকৃত অসহযোগিতার কারণে আমি পুকুরটি রক্ষায় ভূমিকা নিতে পারছি না। জেলা প্রশাসকের প্রত্যক্ষ মদদে প্রভাবশালী চক্র সরকারি সম্পত্তি দখল করছে।’


ভরাট কাজ শুরুর এই ৪ দিনেও ভরাট বন্ধে কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় তার রাষ্ট্রীয় আইন অমান্য করেছে বলে দাবী করেছেন সচেতন নাগরিক কমিটি, ফ্রেন্ডস অব নেচার ও আইন সহায়তা কেন্দ্র(আসক)ফাউন্ডেশন নেতৃবৃন্দ। আর অযোগ্যতা প্রমাণ হওয়ায় অপসারণ দাবী করেছে পৌর মেয়র, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকও। যদি স্বল্প সময়ের মধ্যে জেলা প্রশাসক ভরাট বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ না নেন, তাহলে তীব্র আন্দোলনের হুশিয়ারী দিয়েছে এসব মহল।


সরেজমিনে গিয়ে একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা গেছে, শহরের পুরান বাজারের লঞ্চঘাট এলাকায় পুকুরটিতে গত ৪ দিন যাবত খনন যন্ত্রের মাধ্যমে বালু ভরাট হচ্ছে। খননযন্ত্রের মালিক হিসেবে শাহীন মুন্সি ও সৈয়দ রাজিব এর নাম শোনা গেছে। এ সময় ভরাট কাজের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল। প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো দুই একর তিন শতাংশের এই পুকুরের মালিক জেলা প্রশাসন।

পুকুরটি ভরাটের পাঁয়তারার বিষয়টি টের পেয়ে এটি রক্ষা করার অনুরোধ জানিয়ে গত এক বছরে জেলা প্রশাসককে তিন দফা চিঠি দিয়েছেন পৌরমেয়র। এছাড়া বৃহস্পতিবার দুুপুরেও তিনটি সংগঠন বন্ধের দাবীতে স্মারকলিপি দিয়েছেন। এতো কিছুর পরেও জেলা প্রশাসক এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হয়নি। এতে জনমনে তৈরি হয়েছে নানা গুঞ্জুন। ফলে তার এই ভূমিকাকে রাষ্ট্রীয় আইন অমান্য করার সামিল হিসেবে দেখছেন অনেকে। তারা জেলা প্রশাসকের অপসারণ দাবী করেন।


এ ব্যাপারে পরিবেশবাদী সংগঠন ফ্রেন্ডস অব নেচারের নির্বাহী পরিচালক রাজন মাহমুদ ও আইন সহায়তা কেন্দ্র(আসক)ফাউন্ডেশন এর সাধারন সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ‘জেলা প্রশাসক যদি মনে করেন, কারো চাপে বা ভয়ে ভরাট বন্ধ করতে পারছে না। তাহলে উচিত তাকে বদলী হয়ে অন্য জেলায় চলে যাওয়া।’


ট্রান্সপারেন্সী ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ও সচেতন নাগরিক কমিটি’র সভাপতি খান মো. শহীদ বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের স্বচ্ছ একটি অবস্থান থাকতে হবে, কেন বা কোন কারণে পুকুরটি ভরাট হচ্ছে। তার একটি স্বচ্ছ ধারণাও দিতে হবে। কিন্তু এসব বিষয় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। আমাদের দেশে তো সার্বজনীনভাবেই উচ্চ মহলের চাপে বা ইঙ্গিতে অনেক কিছু এড়িয়ে যায়। আমরা এই ক্ষেত্রে তার সঠিক ধারণা চাই।’


বার বার চিঠি দিয়েও পুকুর ভরাট বন্ধ না হওয়ায় জেলা প্রশাসকের রহস্যজনক ভূমিকা বলে দাবী করে মাদারীপুর পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক খালিদ হোসেন ইয়াদ জানান, ‘জেলা প্রশাসক জঘন্যতম কাজ করেছে। সরকারী সংবিধান মতে, সরকারী সম্পত্তি রক্ষার জন্যে তার যে নৈতিক দায়িত্ব তা অনিশ্চয়তা মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এধরণের লোক দায়িত্বে থাকলে সরকারের ভার্বমূর্তি নষ্ট হবে।’ এ সময় তিনি জেলা প্রশাসকের অপসারণ দাবী করেন।


জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজল কৃষ্ণ দে জানান, সরকারী নীতিমালার বাহিরে এই জলাশয় যারা ভরাট করছে, পক্ষান্তরে এই জেলা প্রশাসক সরকারী নীমিমালার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। যেহেতু সে সরকারের নীতিমালার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে জেলা প্রশাসক হিসেবে থাকার নৈতিক দায়িত্ব তিনি হারিয়েছে।


মাদারীপুর জেলা প্রশাসক কামাল উদ্দিন বিশ্বাস শনিবার সন্ধায় বলেন বিষয়টি খুবই সেনসিটিভ।এ বিষয়ে নৌমন্ত্রীর সাথে আলাপ অন্তে কোন নির্দেশনা পাইনি ।


শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শনিবার বিকেল ৩টায় নৌপরিবহন মন্ত্রী সাজাহান খান পুকুর ভরাটের কাজ পরিদর্শন পুকুর ভরাট বন্ধ হবে না বলে জানিয়ে সাংবাদিকদের আবারো বলেন ,আড়িয়াল খা নদীর ২০ গজের মধ্যে এ পুকুরটি। প্রতিবছর নদী ভাঙ্গন ঠেকাতে প্রতিবছর অনেক টাকা  খরচ হয়।কিন্তু নদী ভাঙ্গন রোধ করা যাচ্ছেনা । তাই এই পুকুরের পানি চুইয়ে নদীতে যায়  বলে নদী ভাঙ্গন বাড়ে বলে নদী বিশেষজ্ঞরা মতামত দেয়ায় শহর ও শহরবাসীকে রক্ষার লক্ষে পুকুর ভরাট একান্ত প্রয়োজন।

 

 

 

কুইকনিউজবিডি.কম/মুরাদ/৮ই অক্টোবর, ২০১৬ ইং/সন্ধ্যা ৭:০৪