ব্রেকিং নিউজ
২২শে অক্টোবর, ২০২০ ইং | ৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১২:২০

মমতাকে পাগড়ি উপহার দিতে চান বলবিন্দরের স্ত্রী

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে সম্মানের পাগড়ি উপহার দিতে চান বলবিন্দর সিংহের স্ত্রী করমজিৎ কৌর। বিজেপির নবান্ন অভিযানের পর ‘পাগড়ি’ বিতর্ক নিয়ে সরগরম ছিল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। 

সেই বিতর্কে ইন্ধন জুগিয়েছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। মাঠে নেমেছিল বিজেপি। শিখ সম্প্রদায়ের ভাবাবেগে আঘাত করার অভিযোগ তুলে বিষয়টিতে রাজনৈতিক রং লাগানোর চেষ্টা করছিল তারা। 

তবে গতকাল শনিবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। অভিমান ভুলে এখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে সম্মান এবং ভালোবাসার পাগড়ি উপহার দিতে চায় বলবিন্দরের পরিবার।

বলবিন্দর অবশ্য এখনো পুলিশি হেফাজতে। তাকে আবার কাল সোমবার আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।

এদিকে গতকাল বলবিন্দরের স্ত্রী-সন্তানের কাছে পৌঁছেছে মমতার ‘স্নেহের উপহার’। পুরো পরিস্থিতিতে তাদের পরিবারের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছেন মমতার দূত। এরপর ক্ষোভ-বিক্ষোভ দূরে সরিয়ে দিয়েছেন করমজিৎ। 

তিনি গতকালই জানিয়েছেন, মমতার সঙ্গে দেখা করে তাকে পাগড়ি উপহার দেবেন। করমজিৎ বলেছেন, দুর্গাপূজার সময় মমতা ব্যানার্জি আমাদের উপহার দিয়েছেন। আমি সম্মানিত। আমার জন্য সালওয়ার স্যুট, আমাদের ছেলের জন্য কুর্তা-পাজামা এবং একটি শাল উপহার দিয়েছেন তিনি। আমিও তার সঙ্গে দেখা করে তাকে একটি পাগড়ি উপহার দিতে চাই।

এর আগে বিজেপির ‘নবান্ন চলো’ অভিযানের দিন বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। সেই মিছিলে ছিলেন বলবিন্দর। তার সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। টানাহ্যাঁচড়ায় তার পাগড়ি মাথা থেকে খুলে যায়। 

পুলিশ পরে জানায়, বলবিন্দরের কাছ থেকে একটি নাইনএমএম পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। সেটির লাইসেন্স জম্মু-কাশ্মীরের রজৌরির। ওই লাইসেন্স নিয়ে বলবিন্দর দেশের অন্য রাজ্যে যেতে পারেন না। বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, বলবিন্দর তাদের এক যুবনেতার নিরাপত্তারক্ষী। কিন্তু তার প্রেক্ষিতে পুলিশ পাল্টা জানিয়েছিল, ওই যুবনেতা সশস্ত্র বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী রাখতে পারেন না। পারলেও সেই নিরাপত্তারক্ষীকে নিয়ে ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে, এমন জায়গায় প্রকাশ্যে যেতে পারেন না।

তবে আইনের যুক্তি-তর্ক পেরিয়ে বিষয়টি দ্রুত শিখ ভাবাবেগের আওতায় ঢুকে পড়ে। গণমাধ্যমে বলবিন্দরের পাগড়ি খুলে পড়ার ছবি ব্যাপক আলোচিত হয়।

শিখ সম্প্রদায়ের একাংশ বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। ঘটনাটি টুইট করেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটার হরভজন সিং। তাদের বক্তব্য, বলবিন্দরের মাথা থেকে পাগড়ি খুলে নিয়েছে পুলিশ। যা শিখ সম্প্রদায়ের কাছে গর্হিত অপরাধ এবং অসম্মান। 

পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মাঠে নামেন মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং। অতীতের বহু ঘটনার মতোই দেখা যায়, বলবিন্দরের পরিবারের অবস্থান ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেছে। বস্তুত, মুখ্যমন্ত্রীর পদক্ষেপের পর শিখ সম্প্রদায়ের প্রস্তাবিত বিক্ষোভ সমাবেশও বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। 

বলবিন্দরের পরিবারের আশা, সোমবার আদালতে হাজির করানো হলে জামিন মঞ্জুর হয়ে যাবে।

সূত্র : আনন্দবাজার

কিউএনবি/রেশমা/১৮ই অক্টোবর, ২০২০ ইং/সকাল ১১:৩৩

↓↓↓ফেসবুক শেয়ার করুন