ব্রেকিং নিউজ
২২শে অক্টোবর, ২০২০ ইং | ৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১২:৪৮

কোথায় পালালো এসআই আকবর?

 

ডেস্ক নিউজ : পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান হত্যার ৮ দিন অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতিদিনই সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধন হচ্ছে। আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের কর্মীরা রায়হানের বাড়িতে গিয়ে সমবেদনা জানাচ্ছেন। দিচ্ছেন প্রশাসনকে স্মারকলিপি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এখন পর্যন্ত এসআই আকবরসহ কাউকেই আইনের আওতায় আনতে পারেনি পুলিশ।

এদিকে নিরাপরাধ রায়হানের হত্যাকারী পুলিশ সদস্যরা গেপ্তার না হওয়ায় জনমনে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ। মূল অভিযুক্ত বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (বরখাস্ত) এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়ার হদিসই পাচ্ছে না পুলিশ। ঘটনার পর থেকে বরখাস্ত ও প্রত্যাহার হওয়া দুই এএসআই ও চার কনস্টেবল পুলিশের পাহারায় সিলেট পুলিশ লাইন্সে রয়েছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য ইতোমধ্যে কাষ্টঘর এলাকার সুইপার কলোনির সুলাই লালসহ দুজনকে জিজ্ঞাবাদ করেছে। তবে মূল হোতা এসআই আকবর হোসেনসহ জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে এখন উত্তাল সিলেট।

সবকিছু ছাপিয়ে সবার মনে একটাই প্রশ্ন- আকবর হোসেন ভূঁঁইয়া কোথায়? সিলেট মহানগর পুলিশের লাপাত্তা এই অফিসারের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না কোথাও। এ বিষয়ে অবশ্য বিভিন্ন জন বিভিন্ন কথা বলছেন। কেউ বলছেন, তিনি পুলিশের হাতের মুঠোয়ই আছেন।

আবার পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, তিনি নাগালের বাইরে।

এ বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার গোলাম কিবরিয়া বলেন, ঘটনার পর থেকেই আকবর পলাতক রয়েছে। পুলিশ সব বিষয়ে সর্তক রয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছে পিবিআই। তারা চাইলে আকবর ছাড়া অন্যদের তাদের কাছে দেয়া হবে।

পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার মো. খালেদুজ্জামান জানান, তদন্তকালে যাদের না পাওয়া যাবে তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। মামলাটি স্পর্শকাতর, তাই সব বিষয়ে তথ্য প্রমাণের প্রয়োজন। সেজন্য পিবিআইয়ের তদন্ত দল নানা বিষয় মাথায় রেখে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

রায়হান হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পুলিশ লাইন্সে ৬ জনকে পাহারায় রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) বিএম আশরাফ উল্যাহ তাহের। তিনি বলেন, হত্যা মামলাটির পুরো বিষয় তদন্ত করছে পিবিআই। আর তাদের সহযোগিতা করছে পুলিশ। বন্দরবাজার ফাঁড়ির বরখাস্ত হওয়া ইনচার্জ এসআই আকবরকে ধরতে ইতোমধ্যে সম্ভাব্য কয়েকটি জায়গায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এছাড়াও সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে এসআই আকবর যাতে দেশ ছাড়তে না পারে সেজন্য পুলিশের নজরদারি রয়েছে।

নিহত রায়হানের মা সালমা বেগম বলেন, পুলিশ যে আচরণ করেছে তা আমাদের হতাশ করেছে। আমার ছেলের হত্যাকারী এসআই আকবরকে তারাই পালাতে কিংবা সরে যেতে বলেছে। এক সাপ্তাহ হয়ে গেলেও আকবরসহ খুনি পুলিশদের গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। আমি কিছুই চাই না, শুধু আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।

কিউএনবি/রেশমা/১৮ই অক্টোবর, ২০২০ ইং/সকাল ১১:০২

↓↓↓ফেসবুক শেয়ার করুন