ব্রেকিং নিউজ
২২শে অক্টোবর, ২০২০ ইং | ৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১২:৪৯

সবজির আকাশ ছোঁয়া দামে বিপর্যস্ত নিম্ম ও মধ্যম আয়ের মানুষের জীবন    

বাদল আহাম্মদ খান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় শীতের সবজি আসতে শুরু করলেও স্থানীয় বাজারগুলোতে সবজি দাম খুব চড়া। প্রয়োজনের তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় সবজি দাম রয়েছে আকাশ ছোঁয়া।এই মুহূর্তে দাম না কমলেও হয়ত কিছু দিনের মধ্যে সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে দাম কমে যাবে বলে আশা প্রকাশ করছে স্থানীয় সবজি ব্যবসায়ীরা। গত ১ সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচা মরিচ ধনিয়া পাতা, শিম টমেটো চিচিংগা পটল করলাসহ অন্যান্য সবজির কেজি প্রতি ২০-৩০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে ৬০ টাকার নিচে মিলছে না কোনো সবজি। একদিকে করোনার প্রভাবে কর্মহীন মানুষ অন্যদিকে কাঁচাবাজারের লাগামহীন মূল্যে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জীবন এখন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে। বাজার নজরদারীতে নেই কোন প্রশাসনিক তৎপরতা।
সবজির এমন আকাশ ছোঁয়া দামের কারন জানতে চাইলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও বন্যার কারণে সবজির ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমে গিয়ে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে দাম সহনশীল পর্যায়ে চলে আসবে। পৌর শহরের সড়ক বাজার গিয়ে দেখা যায়, প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ও ধনিয়া পাতা ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি বরবটি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০- ৮৫ টাকা, চিচিংগা ৭০-৭৫ টাকা, পেঁপে ৫০-৬০ টাকা, পটল ৭০-৭৫ টাকা, করলা ৮০-৯০ টাকা, ঝিঙা ৭০-৭৫ টাকা, কচুর লতি ৫০-৫৫ টাকা, কচুর মুখী ৬০-৬৫ টাকা, কাকরল ৬০-৬৫ টাকা, ঢেঁড়স ৬০-৬৫ গাজর ৭০-৮০ আলু ৫০-৫৫ বেগুন ৮০-৯০, টমেটো ১১০-১২০ টাকা, শিম ১৩০-১৪৫ টাকা। 
মুলা শাখ ৩৫ ও লাল শাখ ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজার করতে আসা পৌর শহরের কলেজ পাড়া এলাকার মোঃ আয়নুল হাজারী বলেন, বর্তমানে সবজির দাম যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে নিম্ন এবং মধ্যম আয়ের মানুষের পক্ষে কিনে খাওয়া স্বপ্নের ব্যাপার। একি এলাকার মোঃ জামশেদ মিয়া বলেন, বাজারে কোন প্রকার সবজি ৬০ টাকার নিচে পাওয়া যায়না। মধ্যম আয়ের মানুষের জীবন  বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন আখাউড়া প্রশাসনের কোন তৎপরতা নেই যা খুবি দুঃখ জনক। গৃহিনী রোজীনা আক্তার বলেন, সবজির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্ন আয়ের লোকদের যেন বাজারে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আর কাঁচামরিচ কিনে খাওয়ার কথা যেন চিন্তাই করা যায় না। রিক্সশাচালক দুলাল মিয়া বলেন, দৈনিক রিক্সশা চালিয়ে ৩শ’-৪শ’ টাকা আয় হয়। ৫ জনের সংসারে দৈনিক দেড় কেজি চাল লাগছে। এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে চাল কিনলে সবজি কেনা যায় না। তাই আলু আর ডালের উপর ভরসা করতে হচ্ছে। এখন সেই আলুর দামও ৬০ টাকা গরীবের আর বাঁচার উপায় নাই। পৌর শহরের বড় বাজার, সড়ক বাজার ঘুরে সবজি ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায় অতিরিক্ত বৃষ্টি ও বন্যার কারণে তুলনামূলকভাবে বাজারে সবজির সরবরাহ কিছুটা কমে যাওয়ায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থা বেশি দিন থাকবেনা বলে আশা প্রকাশ করেন ব্যবসায়ীরা।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৭ই অক্টোবর, ২০২০ ইং /রাত ৮:০৯

 

↓↓↓ফেসবুক শেয়ার করুন