২৯শে অক্টোবর, ২০২০ ইং | ১৩ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | রাত ১১:১২

বগুড়ার শেরপুরে অভিনব প্রতারণা! অসুস্থ রোগীকে ইন্স্যুরেন্স করিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা

 

আবু জাহের, শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : জীবন বীমা ইন্সুরেন্স কোম্পানীর মাঠ কর্মী সহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র মরনাপন্ন রোগীকে সুস্থ’ দেখিয়ে কোটি টাকার ইন্সুরেন্স করিয়ে দিয়েছেন। কয়েকটি কিস্তি দেয়ার পরই হঠাৎ করেই অসুস্থ লোকটি মারা যায়। শুরু হয় কোটি টাকা উত্তোলনের সব প্রস্তুতি। এমনকি কোম্পানীর তদন্ত টিমকে বিভ্রান্ত করতে লক্ষাধিক টাকার বিনিময়ে ভাড়া করা লোকদের রাস্তায় বসিয়ে রাখা হয়, তদন্তকারি টিমটি তাদের পরিকল্পনায় কোন বাগড়া দিতে পারেনি। সব ছকই নিখুঁত ছিল আর তাদের পরিকল্পনা মতো সবই ঠিকঠাক চলছিল হঠাৎ করেই বাগড়া দেয় এলাকার কতিপয় সচেতন নাগরিক। আর এতেই ফাঁস হয়ে যায় এই চক্রের গোপন কারবার। ঘটনাটি বগুড়ার শেরপুর উপজেলার শুভগাছা গ্রামে।

অভিযোগ ও এলাকাবাসি সুত্রে জানা যায়, বগুড়ার শেরপুরে আমেরিকান লাইফ ইন্সুরেন্স (এ্যালিকো) কোম্পানীর মাঠ কর্মী শাহীনা আকতার তুবার নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র অসুস্থ্য রোগীকে গ্রাহক বানিয়ে ১ কোটি টাকার ইন্সুরেন্স করিয়ে দেন। ওই ইন্সুরেন্সের কিস্তির টাকা পরিশোধ করতেন ওই চক্রের সদস্যরা।জানা যায়, বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খামারকান্দি গ্রামের মৃত নাছির উদ্দিনের ছেলে গ্রাহক রফিকুল ইসলাম মন্ডল মিঠু (গ্রাহক আইডি নং বিডি-৩৭৩২০৩৬) সে দীর্ঘদিন যাবত কিডনি ড্যামেজ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস সহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত ছিল। মাঠ কর্মী শাহীনা আকতার তুবা অবগত হওয়ার পরও অফিস সহকারি আবু তাহেরকে ম্যানেজ করে অসুস্থ মানুষকে সুস্থ্য দেখিয়ে কমিশনের লোভে তাকে ইন্সুরেন্স করিয়ে দেন। এর আগেও রফিকুলের অসুস্থ ভগ্নিপতি শুভগাছা গ্রামের মৃত ময়েজ উদ্দিনের ছেলে অসুস্থ’ সোহরাব হোসেনকে একই কায়দায় ইন্সুরেন্স করিয়ে দিলে সোহরাবের মৃত্যুর পর সেই টাকা উত্তোলন করে সকলেই ভাগবাটোয়ারা করে নেয়।

সেই লোভে একই কায়দায় এবার মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতে রফিকুলের পরিবারের সাথে ওই চক্রের চুক্তি হয় যে টাকা উত্তোলন করা হবে তার কিছু অংশ পরিবারকে দেয়া হবে। মরণব্যাধিতে গ্রাহক রফিকুল ইসলামের মৃত্যু হলে টাকা তুলতে সব চেষ্টা অব্যাহত রাখে ওই চক্রটি। অসুস্থতার বিষয়টি গোপন রাখতে স্থানীয় কার্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাঝে মোটা অর্থ লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। এ নিয়ে অন্য গ্রাহকদের মাঝে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এবং অসুস্থ্য গ্রাহককে সুস্থ’ দেখে কিভাবে ইন্সুরেন্স গ্রাহক সৃষ্টি করে তা নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ওই চক্রটি মোটা অংকের টাকা নিয়ে ম্যানেজ প্রক্রিয়ায় নেমেছে। অভিযোগকারি মিট লাইফ এ্যালিকো ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর সচেতন গ্রাহক মোজাহিদুল ইসলাম পারভেজ বলেন, একজন নিরপেক্ষ কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্ত করতে দিলে মাঠ কর্মী শাহীন আকতার তুবার অপকর্ম উম্মোচন হবে।

খামারকান্দি গ্রামে সরেজমিনে গেলে সরোয়ার মেম্বারের ছেলে রকিবুল হাসান রুবেল জানান, তার মামার নামে কোটি টাকার ইন্সুরেন্স করা আছে। ৯ থেকে ১০টি কিস্তি দেয়ার পর তিনি মারা গেছেন, এখন ওই টাকা তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি আরো জানান, তার মামার ৪ থেকে ৫ বিঘা জমি আছে। তিনি পার্টনারে ডিলারশিপের ব্যবসা করতেন, মৃত্যুকালে ২ মেয়ে ও স্ত্রী রেখে গেছেন। তার মামা অসুস্থ ছিল কিনা এবং তার যে আয় তাতে কোটি টাকার ইন্সুরেন্স প্রিমিয়াম চালানো স্বাভাবিক ছিল কিনা সাংবাদিকরা এমন প্রশ্ন করলে তিনি বিষয়টির কোন সদুত্তর না দিয়ে সবই ঠিক আছে বলে জানান। এছাড়াও তিনি আরো বলেন আমাদের সাথে ব্যবসায়িক শত্রুতার কারনে এমন অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে তার গ্রামের বাড়ীর অবস্থা ও সাংসারিক অবস্থার প্রেক্ষিতে কোটি টাকার ইন্সুরেন্স প্রিমিয়াম চালানো নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের উদ্রেগ রয়েছে বলে এলাকাবাসি নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।

অপরদিকে আমেরিকান লাইফ ইন্সুরেন্স (এ্যালিকো) কোম্পানীর মাঠ কর্মী শাহীনা আকতার তুবার (০১৭২২-২৩০৫১৮) মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি এর সাথে জড়িত নন। তিনি জানতেন না পুর্ব হতেই তিনি অসুস্থ’ ছিলেন। এখন টাকা উত্তোলন সম্ভব হবেনা।বগুড়ার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মোস্তাক আহম্মেদ পাটোয়ারির মোবাইলে (০১৭১১-৩২৪৭৭৩) যোগাযোগ করা হলে এই প্রতিবেদককে তিনি জানান, তাদের জানা ছিলনা তিনি পুর্ব হতে মরণব্যাধিতে আক্রান্ত ছিলেন। ইন্তেকালের পর বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ উঠার পর কোম্পানী আবারো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবেন। এখানে আমার বা অন্য কারো কিছুই করার সুযোগ নেই।

কিউএনবি/অনিমা/৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং/দুপুর ২:৪৬

↓↓↓ফেসবুক শেয়ার করুন