১৫ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সন্ধ্যা ৬:৩৬

কটিয়াদীতে দূর্গাপূজা উপলক্ষ্যে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ ঘনিয়ে আসছে বাঙালি হিন্দু সমাজের প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে পূজার আগের আনুষ্ঠানিক সভা। আগামী ৭ অক্টোবর থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজা শুরু হবে। এ উপলক্ষে মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কটিয়াদী কারিগররা। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌর এলাকার শহরের ধানহাটি কেন্দ্রীয় দুর্গা মণ্ডপে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগরা।

পূজা ঘনিয়ে আসায় কটিয়াদী পালপাড়াগুলো যেন দম ফেরার ফুসরত নেই কারিগরদের। কাজের চাপ বেশী থাকায় পুরুষদের পাশাপাশি কাজ করছেন বাড়ির মহিলারাও। এখন চলছে বাঁশ, খড় আর কাদামাটি দিয়ে প্রতিমার অবকাঠামো তৈরি ও প্রলেপ দেয়ার প্রাথমিক কাজ। কাদামাটি দিয়ে পরম যত্নে দেবীর মুকুট, হাতের বাজু, গলার মালা, শাড়ির পাইর, প্রিন্ট ও ঠাকুরের চুল তৈরি করছে কারিগররা। এরপর প্রতিমাতে দেওয়া হবে রং তুলির আঁচড়। দৃষ্টিনন্দন আর নানা বৈচিত্রময় ভঙ্গির এসব দেবী মূর্তিগুলো শৈল্পিক প্রশংসা কুড়ালেও এসব মৃৎ শিল্পীদের জীবনে আসেনি কোনো সৌন্দর্য্যময় আলোর ছটা।

কারিগরা জানান, দুর্গাপূজা উদযাপনের দেড় মাস আগে থেকে বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। শহরের মণ্ডপগুলোতে বড় করে মূর্তি তৈরি করা হয়। একটি বড় মূর্তি তৈরি করতে সময় লাগে পাঁচদিন। গ্রামের মণ্ডপগুলোতে সাধারণত মূর্তি ছোট আকারে তৈরি করা হয়। এক একটি ছোট মূর্তি তৈরি করতে তিনদিন সময় লাগে।

কটিয়াদী মৃৎশিল্পী প্রদীপ পাল জানান, রাত দিন জেগে কঠোর পরিশ্রম করে তিনি ও তার সহযোগিরা এ প্রতিমা গুলো নির্মাণ করছেন। বর্তমানে বাঁশ, রশি, খড়, মাটি আর রংয়ের দাম ব্যাপক হারে বাড়ালেও সে হারে দেবী মূর্তির দাম বাড়েনি। প্রতিমা তৈরিতে যে পরিশ্রম আর খরচ হয় সে তুলনায় বিক্রি করে লাভ হয়না। এ শিল্প থেকে যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার চালাতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রতি বছর স্বরস্বতী এবং দুর্গাপূজায় তারা ব্যস্ত সময় পার করে থাকেন। এই দু’টি মৌসুমের উপার্জিত অর্থ দিয়েই তাদের পুরো বছর পার করতে হয়।

ভিন্ন পেশার অভিজ্ঞতা না থাকায় অভাব অনটন তাদের ঘিরে থাকে সার্বক্ষণিক। আর এই অভাব অনটন থেকে বাঁচতে তাদের পরবর্তী প্রজন্ম এ পেশার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। কারিগরা আরও জানান, এখন মূর্তি তৈরির কাজ করা হচ্ছে। এরপর রং করা হবে। সবকাজ শেষে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই মণ্ডপের প্রতিমা বসানো হবে।

ওই মণ্ডপের পুরোহিত পৌর এলাকার পূর্বপাড়ার বাসিন্দা দিলীপ কুমার সাহা জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হচ্ছে শারদীয় দূর্গাপূজা। প্রতি বছরের মতো এবারও এ উৎসবটি জাকজমকভাবে উদযাপন করা হবে বলে আশা করেন তিনি।

নারী কারিগর দিপ্তী রানী পাল জানান, পুরুষদের সহযোগিতা করতেই প্রতিমা তৈরিতে কাজ করছি। তবে যে টাকা আয় হয় তা দিয়ে সংসার চলে না। একদিকে সুতা, বাঁশ-কাঠের দাম বৃদ্ধি অন্যদিকে পরিবারের সকলকে নিয়েই কাজ করি। এতে যে পরিশ্রম হয় সে পরিমাণ মুল্য আমরা পাই না। সরকার যদি সহায়তা করতো তবে সংসার স্বচ্ছলভাবে চলতো ও এ শিল্পটি আরো উন্নত করা যেতো।

কটিয়াদী উপজেলার পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বাবু শীতল কুমার সাহা জানান, এবার কটিয়াদী উপজেলার কোনো ইউনিয়নে কতটি মণ্ডপে শারদীয় দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে তা এখনি বলা যাচ্ছে না। তবে কয়েকদিনের মধ্যেই দূর্গাপূজা মণ্ডপের সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে।

 

 

 

কুইকনিউজবিডি.কম/আরিফ/২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ইং/দুপুর ১২:২০