৫ই আগস্ট, ২০২০ ইং | ২১শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | সন্ধ্যা ৬:৪৯

ঠাঁই নেই আশ্রয়কেন্দ্রে, খাবারেও সংকট

 

ডেস্ক নিউজ : সুনামগঞ্জের নদী তীরবর্তী এলাকা থেকে বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও হাওরাঞ্চলে অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে হাওরাঞ্চলের মানুষের ঘরবাড়ি থেকে সহজে পানি নামছে না। হাওর পাহাড়ি ঢল ও নদীর পানিতে ভরে যাওয়ায় পানি সরছে না। এতে নিমজ্জিত এলাকার মানুষজন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে বানভাসী মানুষ অবস্থান করছেন। তবে আশ্রয় কেন্দ্রে রান্নার সুযোগ না থাকায় খাদ্য সংকটে পড়েছেন তাঁরা। এ কারণে আশ্রয় কেন্দ্রে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। পরিবারের লোকজনও তাদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে। এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু কিছু আশ্রয়কেন্দ্রে রান্না করা খিচুরি বিতরণ করতে দেখা গেছে।

পাউবো জানিয়েছে বৃষ্টিপাত কমায় প্রধান নদী সুরমাসহ যাদুকাটা নদীর পানিও কমছে। সুরমা নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে যাদুকাটাসহ অন্যান্য নদ নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নদীর পানি কমলেও হাওরাঞ্চলে সেই পানির চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। যার কারণে হাওরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে দ্বিতীয় দফা বন্যায় ত্রাণ সহায়তা হিসেবে সরকারিভাবে ৪০০ মেট্রিকটন চাল, ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এগুলো উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ৩৫৭টি আশ্রয় কেন্দ্রসহ বানভাসী মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে এই ত্রাণ সহায়তা অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা।

মঙ্গলবার দুপুরে সুনামগঞ্জ সদরের বড়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, আশ্রয়কেন্দ্রের নিচতলা নিমজ্জিত। উপর তলায় ১০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। স্থান না পেয়ে তিনটি পরিবার নিচেই বেঞ্চের উপর আশ্রয় নিয়েছে। গত তিদদিন আগে তাদের ঘরবাড়ি নিমজ্জিত হওয়ায় এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। বানের পানিতে তাদের বিছানা-পত্র, কাপড়চোপড় ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। জরুরি কিছু জিনিষপত্র আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসলেও আশ্রয় কেন্দ্রে খাওয়া দাওয়ার জন্য রান্না করার ব্যবস্থা নেই। তাই তাঁরা শুকনো খাবার খেয়ে আছেন। তবে তাদেরকে সরকারিভাবে কোন ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়নি বলে জানান তাঁরা।

এই আশ্রয় কেন্দ্রে স্বামী ও তিন মেয়ে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন শ্রমজীবী নারী শায়কুন্নেসা। তিনি পরিবারের সবাইকে নিয়ে এই স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন। সরকারিভাবে এখনো তিনি কিছু পাননি। তবে মঙ্গলবার পৌর মেয়র এই আশ্রয় কেন্দ্রে এসে রান্না করা খিচুরি দিয়ে গেছেন।

সোমবার থেকে শহরের ৩৬টি আশ্রয় কেন্দ্রে সুনামগঞ্জ পৌরসভা রান্না করা খিচুরি বিতরণ করছে। মঙ্গলবার দুপুরে ৬টি আশ্রয় কেন্দ্রের দেড়শ পরিবারে খিচুরি বিতরণ করা হয়। এসময় খিচুরি নিয়ে গেলে বানভাসী অসহায় মানুষজন মেয়রকে ঘিরে ধরেন।

পৌর মেয়র নাদের বখত বলেন, সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৩৬টি আশ্রয় কেন্দ্রে আমি গতকাল থেকে রান্না করা খিচুরি খাবার দিচ্ছি। কিছু শুকনো খাবারও দিচ্ছি। তাছাড়া বানভাসী মানুষের সহায়তার জন্য সরকার জিআরের কিছু চালও দিয়েছে। সেগুলো এখন বিতরণ করা হবে। তিনি বলেন, আমার পৌরসভার কয়েক হাজার মানুষের অবস্থা খুবই খারাপ। দুই বন্যায় নিঃস্ব করে দিয়ে গেছে তাদের। তাঁরা খুবই বিপদে আছেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, নতুন করে আমরা আরো ৪০০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দিয়েছি। নগদ টাকা দিয়েছি ১২ লাখ টাকা। বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে আমরা শুকনো খাবার ও রান্না কার খাবারও বিতরণ করেছি। তবে গত দুই দিন ধরে পানি কিছুটা কমছে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৪ই জুলাই, ২০২০ ইং/বিকাল ৩:৩০

↓↓↓ফেসবুক শেয়ার করুন