ব্রেকিং নিউজ
২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সন্ধ্যা ৬:৫৮

কটিয়াদী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে নয়নাভিরাম লাল ‘শাপলা’

কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার খাল-বিলে ফোটে বিভিন্ন প্রজাতির শাপলা। এর মধ্যে নয়নাভিরাম মনোমুগ্ধকর লাল শাপলার প্রতি আকর্ষণ সবার চেয়ে বেশী।
বর্ষা ও শরতে এসব খালবিল হাওড়-বাঁওড়, পুকুর-দীঘি, ডোবা, প্রায় প্রতিটি নদী ও শাখা নদীর দু’কূলে এবং এর চর এলাকায়সহ যে কোনো জলাশয়ে ফোটে শাপলা। শাপলা ফুল দিনের বেলা ফোটে। ফুটোন্ত শাপলা ফুলের সৌন্দর্য্যে চোঁখ জুড়িয়ে যেতো যে কোন মানুষে। এ সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হয়ে শাপলাকে দেয়া হয়েছে জাতীয় ফুলের স্বীকৃতি।
শাপলা শুধু যে ফুলের দৃষ্টিনন্দন উপস্থিতি আমাদের বিমোহিত করে তা নয় এর রয়েছে নানা গুন। বাংলার গ্রামীণ জনপদে শাপলা একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিক সবজিও। এ সময় সবজি হিসেবে এর ব্যাপক চাহিদা বেড়ে যায়। কেউ কেউ শাপলাকে বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবেও গণ্য করে। আম্বাল নামের আয়ুর্বেদিক ওষুধ বানাতে শাপলাকে ওষধি গাছ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

এই ওষধ অপরিপাকজনিত রোগের পথ্য হিসেবে কাজ করে। সাম্প্রতিক গবেষণায় পাওয়া গেছে এই উদ্ভিদে ডায়াবেটিক রোগের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধি গুণাগুণ রয়েছে। এই উদ্ভিদ পানি থেকে তুলে রোদে শুকিয়ে গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এতে রয়েছে এ প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম । শাপলার ভেষজ গুনও কমও নয়। শাপলা চুলকানি ও আমাশয় রোগের জন্য বেশ উপকারী। শাপলা ফুলের ফল দিয়ে সুস্বাদু খৈ ভাজা ছোট শিশুদের কাছে বেশ প্রিয়। গ্রামগঞ্জে “ঢ্যাপের খৈ” বলে পরিচিত।

আমাদের গ্রামীণ জনপদের দরিদ্র ও কর্মহীন মানুষের একটা বড় অংশ জীবিকা নির্বাহ করছে শাপলা ফুল বিক্রি করে। বিলের স্বচ্ছ পানিতে ভেসে থাকা এ যেন সাদা-সবুজের খেলা। প্রকৃতি যেন এই জলের বুকেই ছড়িয়ে রেখেছে রাজ্যের সব সৌন্দর্য। তবে পলল্গী এলাকার গরিব কিশোর-কিশোরিদের লক্ষ্য ভিন্ন। তারা শাপলা বিক্রি করে অর্থ রোজগার করতে চায়। তাইতো সকাল হলেই তালের ডোঙ্গা বা কোসা নৌকায় করে নেমে পড়ে বিলে। শাপলা তুলে বিক্রি করে স্থানীয় বাজারে। অন্যান্য শাকসবজির মতোই উপাদেয় তরকারি হিসাবে এখানকার মানুষের পছন্দের তালিকায় আছে শাপলাও।তাইতো এসব বাজারে এর ক্রেতাও অনেক।
তবে অপরিকল্পিতভাবে বেড়িবাঁধ ও সড়ক তৈরির কারণে ভরাট হয়ে যাচ্ছে এসব বিল। তাই শরৎ-হেমন্তে এসে আর পাওয়া যাচ্ছে না শাপলা।
এর মূল কারণ ব্যাপকভাবে বিল-ঝিল জলাভূমি ভরাট ও জমিতে বিষাক্ত কীটনাশক প্রয়োগের ফলে বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা এখন প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। বৈষ্ণয়িক উষ্ণতা ও জলবায়ুর পরিবর্তন শাপলা ফুল বিলুপ্তির এক অন্যতম কারণ। জাতীয় ফুলের এই অর্থকরী পরিচয়কে প্রতিষ্ঠা করতে বিল-জলাশয় রক্ষার উদ্যোগ নেয়া সময়ের দাবি।

কুইকনিউজবিডি.কম/মুরাদ/২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ইং/বিকাল ৩:০৩