৩০শে মে, ২০২০ ইং | ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | রাত ৪:৪৬

বেশি দরদ থাকলে রোহিঙ্গাদের নিচ্ছেন না কেন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

 

ডেস্ক নিউজ : রোহিঙ্গাদের প্রতি বেশি দরদ থাকলে ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলো এই শরণার্থীদের নিতে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

শুক্রবার ভিডিও বার্তায় সম্প্রতি ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমি তাদেরকে বলেছি, আমাদের দেশের মানুষের বার্ষিক আয় হল দুই হাজার ডলার আর আপনার হল ৫৬ হাজার ডলার। আর আমার এখানে ১২০০ লোক প্রতি বর্গকিলোমিটারে থাকে। আর আপনার দেশে ১৫ জন লোক প্রতি বর্গকিলোমিটারে থাকে। আপনারা নিয়ে যান না কেন? যদি এত দরদ থাকে, ওদেরকে বেটার লাইফ দেবেন, নিয়ে যান আপনারদর দেশে। অসুবিধা কি? আমরা কাউকে আটকাব না।

তিনি আরও বলেন, বড় বড় প্রতিষ্ঠান হিউম্যান রাইটস ওয়াচ প্রায় দুঃখ করেন ওনাদের দেশে নিয়ে যায় না কেন? উনাদের ক্যালিফোর্নিয়া ইজ আ ল্যান্ড অফ ইমিগ্র্যান্ট। ওখানে নিয়ে যান আপনারা। আমরা, কাউকে নিতে আপত্তি নাই।

ভিডিও বার্তায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, ঝামেলা হয় আন্দামানে, ভারত মহাসাগরে। যখনই ঝামেলা হয় তখনই সবাই শুধু বাংলাদেশের দিকে তাকায় থাকে। ভাবখানা এমন, যেহেতু আমরা তাদেরকে আগে ১১ লাখ আশ্রয় দিয়েছি, বাকিগুলোরও দেন। রোহিঙ্গা সমস্যা দুনিয়ার যেখানে হবে, তাদেরকে আপনারা সাহায্য দেন।

তিনি জানান, আমরা বলেছি যে, আমরা পারব না। আমাদের আর কোনো জায়গা নাই। আর অন্যদেরও রেসপনসিবিলিটি আছে। আর রোহিঙ্গা আমাদের একার সমস্যা না, এটা বিশ্বের সমস্যা।

ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলসহ অন্যান্য দেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে পারে, এমন পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, বড় বড় যারা মাতুব্বর সারা বছর উপদেশ দেন, আদেশ করেন তারা নিতে পারেন। তাদের জায়গার কোনো অভাব নাই।

রোহিঙ্গাদের সুবিধার জন্য ভাসানচরের নেওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, যেখানে আছে, ওখানে আমাদের সব সময় একটা টেনশন থাকে- যখনই অতি বৃষ্টি হয় তখন ওখানে ভূমি ধস হবে, মানুষ মরবে। কিন্তু মরে গেলে তো আমাদের দোষ। ঝড় হলেও ওখানে, কক্সবাজারেও ঝড় হতে পারে। তখনও আমাদের দোষ হবে।

তিনি আরও বলেন, ভাসানচরে নিয়ে গেলে রোহিঙ্গারা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবে। আমরা যদি ভাসানচরে নিয়ে যেতে পারি এখানে তিন বেলা তারা খায়, আর কোনো কাজ করার ‍উপায় নেই। ওখানে গেলে তারা রাখাইনে যে কাজটি করত, মাছ ধরত, কৃষি কাজ করত ঠিক সে রকম কিছু অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে পারবে। সেখানে তারা মাছ ধরতে পারবে, তারা গরু, ভেড়া, ছাগল, হাস-মুরগি পালন করতে পারবে। অনেক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ আছে। খোলামেলা জায়গা।

 

 

কিউএনবি/রেশমা/২৩শে মে, ২০২০ ইং/দুপুর ১২:৪৪

↓↓↓ফেসবুক শেয়ার করুন