২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৯ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৬:২৬

জামায়াত- শিবিরের জন্মদাতা বিএনপি: এমপি বাদশা

অরুন শীল,রাজশাহী থেকে: রাজশাহী সদর আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা বলেছেন, জামায়াত শিবিরের জন্মদাতা হচ্ছে বিএনপি। বিএনপির ছত্র ছায়ায় রাজনৈতিক দল নামে জঙ্গি সংগঠন জামায়াত শিবির বিকশিত হয় ও বাংলাদেশকে একটি জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করে। সোমবার শহীদ জুবায়ের হোসেন রিমুর ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনা সভাটি দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডীন্স কমপ্লেক্সের কনফারেন্স কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় বাদশা বলেন. বাংলাদেশে যত জঙ্গি সংগঠনের সৃষ্টি হয় তার সবই বিএনপি শাসন আমলের। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশ যখন নেতৃত্ব সংকটে তখন মেজর জিয়াউর রহমান জোর পূর্বক দেশের শাসনভার দখল করেন। এসময় তিনি স্বাধীনতা বিরোধী ও রাজাকার গোলাম আজমকে পাকিস্তান থেকে ফিরিয়ে এনে আইডিয়াল নামের রাজনৈতিক দল গঠন করেন। এই রাজনৈতিক দলই পরবর্তিতে জামায়াতে পরিণত হয়।
বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর প্রতিষ্ঠাতা বাদশা আরো বলেন, স্বাধীনতা আন্দোলনে শহীদের রক্ত ও শহীদ রিমুর রক্তের মুল্য সমান। রিমু হত্যার পরই দেশে প্রথম রাজাকারদের শাস্তির জন্য মানুষ স্বোচ্চার হয়ে ওঠে। সে সময়ে কেউ কল্পনাও করেনি বাংলাদেশের মাটিতে ওই সব স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকারদের বিচার হবে। কিন্তু দেশনেত্রী শেখ হাসিনা রাজাকারদের ফাঁসি কার্যকর করে দেখিয়ে দিয়েছেন এদেশে কোনো রাজাকারের স্থান নেই।
আলোচনা সভায় রাবি ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি মাহবুব আলম সুজনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন রাবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান, ওয়াকার্স পার্টির রাজশাহী মহানগর শাখার সভাপতি লিয়াকত আলী লিকু, সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ প্রামাণিক, রাবি অধ্যাপক সুজিত কুমার সরকার, পবা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক আশরাফুল হক প্রমুখ।

এদিকে নানা আয়োজনে রাবিতে যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের ছাত্র সংগঠন শিবির ক্যাডারদের হামলায় নিহত ছাত্রমৈত্রী নেতা শহীদ জুবায়ের চৌধুরী রিমুর ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়। সকালে এ উপলক্ষে ক্যাম্পাসে শোক র‍্যালি ও আলোচনা সভা করেছে রাবি শাখা ছাত্রমৈত্রী। বিশ্ববিদ্যালয়ের টুকিটাকি চত্বর থেকে র‌্যালীটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ১১টার সময় বিটিভির রাত দশটার খবর শেষে সবাই যখন টিভি কক্ষে সেই সময়ের জনপ্রিয় একটি ধারাবাহিক নাটক দেখছিলেন, তখনই বহিরাগত সশস্ত্র ক্যাডারদের নিয়ে শেরে বাংলা হলে পরিকল্পিত হামলা চালায় শিবির। সবাই টিভি কক্ষে থাকায় কিছু বোঝার আগেই সশস্ত্র শিবির কর্মীদের হামলার শিকার হন হলের ছাত্ররা। শিবির সন্ত্রাসীরা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালায় এবং বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর নেতা কর্মীদের খুঁজে খুঁজে নৃশংসভাবে হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়। এই পৈশাচিকতার পরও ঘাতকেরা সন্তুষ্ট হয়নি। মেঝেতে পড়ে থাকা রিমুকে কুপিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। রিমুর মৃত্যু নিশ্চিত করে তবেই ক্ষান্ত হয় নর ঘাতকেরা।

কুইকনিউজবিডি.কম/সাকিব /১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ইং/ সন্ধ্যা ৭.২৯