১৭ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ২:১৭

ধর্ষিতা মানসিক প্রতিবন্ধী কিশোরীর সন্তান প্রসব : সন্তান নিয়ে বিপাকে ধর্ষিতার পরিবার

অরুন শীল রাজশাহী থেকে : রাজশাহীর দুর্গাপুরে ধর্ষিতা মানসিক প্রতিবন্ধী কিশোরীর সন্তান প্রসব, বেয়ারিশ সন্তান নিয়ে বিপাকে ধর্ষিতার পরিবার  মানসিক প্রতিবন্ধী ধর্ষিতার কিশোরী (১৪) অবশেষে বেয়ারিশ পুত্র সন্তান প্রসব করেছেন। নবজাতকের নাম রাখা হয়েছে ‘তুফান’। এতে নবজাতক ওই শিশু সন্তানকে নিয়ে বিপাকে পড়েছে ধর্ষিতার পরিবার।

গত ৬ই সেপ্টেম্বর রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সিজার অপারেশনের মাধ্যমে নবজাতক ওই শিশুর জন্ম হয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন, তৎকালীন দুর্গাপুর থানার তদর্ন্ত কর্মকর্তা খুরশীদা বানু কণা। মানসিক প্রতিবন্ধী কিশোরীর বেয়ারিশ পুত্র সন্তান জন্ম নেওয়ায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ধর্ষিতা কিশোরীর পরিবার জানায়, গত ৫ই সেপ্টেম্বর মানসিক প্রতিবন্ধী অর্ন্তসত্ত্বা কিশোরীর পেটের ব্যাথা শুরু হয়। পরে তাকে রাজশাহীর মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে করা হলে পরদিন সিজার অপারেশনের মাধ্যমে ভিকটিম ধর্ষিতার সন্তান প্রসব হয়। এদিকে, দুর্গাপুর থানার ধর্ষণ মামলার এজাহার ভুক্ত আসামী একই এলাকার শফিকুল ইসলাম (২৫) পলাতক থাকায় পুলিশ তাকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
গত মার্চ মাসে দুর্গাপুর পৌর এলাকার দেবীপুর মধ্যপাড়া গ্রামে মানসিক প্রতিবন্ধী কিশোরী বিয়ের প্রলোভন দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে একই এলাকার শফিকুল ইসলাম। ধর্ষনের ফলে এক সময় ওই কিশোরী অন্তস্বত্ত্বা হয়ে পড়েন। এভাবে প্রায় তিন মাস কেটে গেলে বিষয়টি জানাজানি হয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ভাবে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে মিটমাটের চেষ্টা করা হলেও পালিয়ে যায় ধর্ষক শফিকুল।

পরে এ নিয়ে আবারো গ্রাম্য সালিশে মিটমাটের চেষ্টা করে গ্রাম্য মাতব্বররা। বিচার না পেয়ে মেয়েকে ধর্ষনের অভিযোগে অভিযুক্ত শফিকুল ও তার সহযোগী প্রতিবেশী রমজানের স্ত্রী কুলসুমা বেগমকে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক কে এম শহীদ আহম্মেদের আদালতে মামলা দায়ের করেন ভিকটিম কিশোরীর মা রাফিয়া বেগম। আদালত দুর্গাপুর থানার ওসিকে মামলাটি এজাহার হিসেবে রুজ্জু করার নির্দেশ দিলে গত ৭ মার্চ দুর্গাপুর থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। মামলা নম্বর ০৩। মামলাটি বর্তমানে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে চলমান রয়েছে।
ধর্ষিতার মা রাফিয়া বেওয়া জানান, তার মানসিক প্রতিবন্ধী কিশোরীর পুত্র সন্তান জন্ম হয়েছে। নাম রাখা হয়েছে তুফান। এখন অভিযুক্ত পিতা শফিকুল পুত্র তুফানকে স্বীকৃতি দিয়ে ঘরে তুলে নিতে হবে। তিনি আরো জানান, অভিযুক্ত ধর্ষক পিতা পলাতক থাকায় এই সন্তান নিয়ে তারা বিপাকে পড়েছেন। এলাকায় সাহায্য তুলে তারা সিজার অপারেশন করিয়েছেন। বর্তমানে মা শিশুর চিকিৎসা খরচ চালাতে হিমসিম খাচ্ছেন বলে জানান তিনি।
এবিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আলম জানান, আমি নতুন এসেছি। ওই ধর্ষিত মানসিক প্রতিবন্ধী কিশোরীর সন্তান প্রসব করেছে শুনেছি। তবে আসামীকে গ্রেপ্তার চেষ্টা অব্যাহত আছে বলে জানান ওসি।

 

কুইকনিউজবিডি.কম/জিয়া /১৯শে সেপ্টেম্বরটেম্বর, ২০১৬ ইং/ রাত ১২:২০