ব্রেকিং নিউজ
১৪ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | দুপুর ২:২৪

চৌগাছায় মঙ্গলবার থেকে ঐতিহ্যবাহী বলুহ মেলা শুরু

 

 

এমএ রহিম চৌগাছা (যশোর) থেকে : প্রতি বছরের ন্যায় মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে যশোরের চৌগাছার ঐতিহ্যবাহি পীর বলুহ দেওয়ান মেলা। বলুহর মেলাকে সামনে রেখে এলাকায় জমাহতে শুরুকরেছে দেশবিদেশের ব্যবসায়ীরা।

এ মেলাকে ঘিরে এলাকায় উৎসব মুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবার মেলা হয় ৭ দিন। কিন্তু এবার মেলা চলবে ১০ দিন (১৩ সেপ্টম্বর থেকে ২৩ সেপ্টম্বর) পর্যন্ত সকাল থেকে রাত অবধি চলবে জানিয়েছেন মেলা কমিটি।

প্রতি বছর ভাদ্র মাসের শেষ মঙ্গলবার পীর বলুহ দেওয়ান (রঃ)’এর রওজা শরীফকে ঘিরে যশোর জেলার সীমান্তবর্তী চৌগাছা উপজেলার হাজরাখানা গ্রামে মধুকবি স্মৃতি বিজোরিত কপোতাক্ষ নদের তীরে বসে এই মেলা। হাজরাখানা গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কপোতক্ষ নদের উচু ঢিবির উপর এ অঞ্চলের বিখ্যাত পীর বলুহ দেওয়ান (রঃ)’এর রওজা শরীফ অবস্থিত।

আশে পাশে রয়েছে সবুজের সমরোহ। মাঝে মাঝে আম, কাঁঠাল আর বাঁশঝাড় বিস্তৃত। মেলার পরিপূর্ণতায় এ অঞ্চলের মানুষের জীবনে বয়ে যায় হাসি আনন্দের ফোঁয়ারা। বলুহ মেলা উপলক্ষে পার্শ্ববর্তী গ্রামাঞ্চলে ব্যস্ততার ধুম পড়ে যায়। মেলা শুরু হওয়ার সপ্তাহ খানেক আগে থেকে দেশ ও বিদেশ থেকে ফেরিওয়ালা ও দোকানীরা এসে দোকান দেয়। মেলার শেষ দিন দোকানীদের চেহারা হয় বিবর্ণ, শোকের ছাঁয়া নামে স্থানীয়দের মনে ও বিবর্ণ হয়ে যায় বেড়াতে আসা মেয়েদের মুখ ।


যাকে ঘিরে এই মেলার সৃষ্টি তার সম্পর্কেও হাজারও কিংবদন্তী বিদ্যমান। যা এখনো লোক মুখে প্রকাশ পায়। পীর বলুহ দেওয়ান অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। লোক মুখে শোনা যায় তিনি যা বলতেন তাই হতো। কিন্তু তার জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি মূহুর্ত ছিল রহস্য জালে ঘেরা। তিনি উপজেলার যাত্রাপুর গ্রামের ছুটি বিশ্বাসের ঘরে জন্ম গ্রহণ করেন। তবে জন্মকাল সম্পর্কে আজও কোন সঠিক তথ্য পাওয়া যায় নি। বয়স্কদের অনুমান তিনি প্রায় ৩-৪’শ বছর পূর্বে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। কিংবদন্তী সম্পর্কে জানা যায়, যখন তাঁর বয়স ১০/১২ বছর তখন পিতার অনুমতি নিয়ে বিদ্যান বিলে গরু চরাতে গিয়ে গরু দিয়ে ক্ষেত নষ্ট করার অভিযোগে ক্ষেত মালিক গরু ধরতে গেলে তিনি সমস্ত গরু বক বানিয়ে গাছে বসিয়ে রাখেন। যাতে ক্ষেত মালিক গরু খোয়ারে দিতে না পারে। তাঁর পিতার মৃত্যূর পর তিনি উপজেলার হাজরাখানা গ্রামে অভাবী মামার বাড়িতে থেকে অন্যের বাড়ি দিনমজুর খাটতেন। একদিন তিনি শরিষা মাড়াই করতে মাঠে গিয়ে শরিষার গাঁদায় আগুন ধরিয়ে দেন। সংবাদ শুনে গৃহস্থ মাঠে গিয়ে দেখে শরিষার গাঁদায় আগুন জ্বলছে।

তখন গৃহস্থ রাগান্বিত হলে তিনি হেঁসে বলেন ছাই উড়িয়ে দেখেন শরিষা পোড়েনি। একদিন তাঁর মামী খেঁজুর রসের চুলোয় জ্বাল দিতে বললে তিনি জ্বালানির পরিবর্তে পা ঢুকিয়ে দিলে আগুন জলতে থাকে। কিন্তু তাঁর পায়ের কোন ক্ষতি হয়নি। এমনিভাবে বেসুমার অলৌকিক ঘটনার জন্ম দিতে থাকলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বহু মানুষ তাঁর কাছে আসতে থাকে। অলৌকিক ঘটনার প্রেক্ষিতে বলুহ দেওয়ান পীর হিসাবে আখ্যা পান। লোকজন জটিল ও কঠিন রোগ থেকে মুক্তি পেতে তাঁর নামে মানত করতে থাকে।

তাঁর মৃত্যুর পর প্রতি বছর ভাদ্র মাসের শেষ মঙ্গলবার হাজরাখান গ্রামে অবস্থিত তাঁর রওজা শরীফে গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগী, নারকেল ও নগদঅর্থ সহ নানা প্রকার জিনিস দিয়ে মানত শোধ করে আসে। উল্লেখ্য, উপজেলার জিওলগাড়ী, ধোপাদী এবং ঝিনাইদহের লাউ দিয়ায় বলুহ দেওয়ান (রঃ)’এর মাজার শরীফ রয়েছে। কালের পরিক্রমায় শত শত বছর ধরে চলে আসছে বলুহ মেলা। অনেকে এ মেলাকে ‘‘দিষের’’ মেলা বলে থাকেন। বলুহ মেলা দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। কোন মাইকিং নেই, নেই কোন প্রচার, নেই ঢাক ঢোল অথচ সবাই ভাদ্র মাসের শেষ মঙ্গলবার এই মেলায় ঢল নামে লক্ষ লক্ষ জনতার।


এবছর মেলা পরিচালনা কমিটি, উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয়দের সহযোগীতায় পরিচালিত হবে। মেলা পরিচালনার জন্য নারায়নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন মুকুলকে সভাপতি এবং হাজরাখানা গ্রামের মেম্বর মনিরুজ্জামান মিলনকে সাধারণ সম্পাদক করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মেলার সাধারণ সম্পাদক মেম্বর মনিরুজ্জামান মিলন বলেন, এবার মেলায় কাঠের আসবাবপত্র, খেলনা, প্রসাধনী, গার্মেন্টস, হোটেল-বেকারী, মিষ্টির দোকান, নগর দৌলা, যাদু প্রদর্শনী, সার্কাস, স্টিল সামগ্রীসহ প্রায় হাজার খানেক দোকান বসেছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সেচ্ছা সেবক দল গঠন করা হয়েছে। এছাড়া র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার ভিডিপি আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করবেন। এলাকাবাসী ও মেলায় আসা দোকানিরা বলছে, মেলাই অনেক সমস্যা রয়েছে।

 

কুইকনিউজবিডি.কম/জিয়া

১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ইং | ৩০শে ভাদ্র, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১:৪৭