ব্রেকিং নিউজ
৭ই জুন, ২০২০ ইং | ২৪শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১:২৯

করোনা প্রতিরোধে এক যুবক বাইসাইকেলে প্লেকার্ড লাগিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করছেন

 

ময়না আকন্দ, জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুর পৌর শহরের পাথালিয়া গ্রামের এক সবজির দোকানের কর্মচারী করোনাভাইরাস প্রতিরোধে এক অভিনব পদ্ধতিতে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে তার ব্যবহৃত বাইসাইকেলের সামনে ও পিছনে বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত প্লেকার্ড লাগিয়ে শহরের বিভিন্ন অলিতে গলিতে ঘুরছেন। সোমবার বেলা ১২টার দিকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল এলাকায় ওই যুবকের ব্যতিক্রমধর্মী জনসচেতনতামুলক প্রচারণা লক্ষ্য করা যায়। তার বাইসাইকেলের সামনে পিছনে প্লেকার্ডে লেখা আছে বার বার হাত ধোন, দূরত্ব বজায় রাখুন, করোনা মুক্ত দেশ গড়–ন। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হবেন না। মাস্ক ব্যবহার করুন-এসব স্লোগান সম্বলিত প্লেকার্ড মো.দুখুলুল ইসলাম বরকত নামের এক যুবক শহরে অলি গলি ঘুরে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করছেন ওই যুবক।

মো.দুখুলুল ইসলাম বরকত একজন সবজির দোকানের কর্মচারি। তিনি জামালপুর শহরের পাথালিয়া এলাকায় বসবাস করেন। তাঁর বাবার নাম জাহাঙ্গীর আলম। দৈনিক ৩০০ টাকা বেতনে তিনি চাকরি করেন। সামান্য আয় দিয়েই তিনি স্ত্রী ও এক সন্তানের সংসার চালান। এর মধ্যেই সারা পৃথিবীতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়। সংক্রমণ প্রতিরোধে সারা দেশের ন্যায় জামালপুর জেলাতেও সকল গণপরিবহন ও দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলাবাহিনির সদস্যরা সাধারণ মানুষকে ঘরে থাকতে দিন-রাত কাজ করছেন। কিন্তু তারপরও সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হয়ে ঘোরা ফেরা করছেন। সাধারণ মানুষকে সচেতন করতেই এই ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ গ্রহণ করেন মো.দুখুলুল ইসলাম বরকত । গত বুধবার থেকে তিনি এ কার্যক্রম শুরু করেন।

তিনি তার বাইসাইকেলে তিনটি প্লেকার্ড সামনে ও পেছনে লাগান। এরপর তিনি প্রতিদিনের কাজ শেষ করে সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরে বিভিন্ন অলিগলিতে ঘুরে সচেতনতা সৃষ্টির কাজ করছেন। গত বুধবার থেকে রবিবার পর্যন্ত তিনি শহরের পাথালিয়া, ব্রজাপুর, বানিয়াবাজার, পুরাতন ফেরিঘাট, গুয়াবাড়িয়া, চন্দ্রা, কলেজ রোড়, পশ্চিম নয়াপাড়া, গোলাপবাগ, দেওয়ানপাড়া, রশিদপুর, বাইপাস, কম্পপুর, ফৌজদারি, বকুলতলা, মেডিকেল রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করেছেন। তিনি এই কাজ করোনা মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যাবেন বলে জানান।  মো.দুখুলুল ইসলাম বরকত জানান, করোনাভাইরাস একটি মরণব্যাধি। এ ব্যাধি বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ করতে হবে। যে যুদ্ধ আমরা করেছিলাম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। ১৯৭১ সালে যেমন শত্রুরা আমাদের দেশের সব শ্রেণিপেশার মানুষকে নির্বিচারে মেরেছেন। একই ভাবে করোনাভাইরাসও আমাদের দেশসহ সারা পৃথিবীর মানুষকে মারছে। তাই এই ভাইরাসের সাথে আমাদের যুদ্ধ করতে হবে। এই যুদ্ধটা আবার ব্যতিক্রম। কারণ হলো করোনাভাইরাস চোখে দেখা যায় না। ভাইরাসটি অদৃশ একটি জীবানু।

আর এই জীবানু থেকে বাঁচতে হলে, সবাইকে ঘরে থাকতে হবে। তাতে নিজে বাঁচা যাবে এবং অন্যকে রক্ষা করা যাবে। কিন্তু মানুষ সেটা মানছেন না। সারা শহরের লোকজন অবাধে চলাচল করছেন। হঠাৎ করে মনে হলো, এই যুদ্ধে আমিও অংশ গ্রহণ করতে পারি। তাই আমার সামান্য বাইসাইকেল নিয়ে গত পাঁচ দিন ধরে ঘুরে ঘুরে মানুষকে ঘরে থাকতে বলছি। এভাবেই সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আমার দেখা-দেখি হয়তো আরো অনেকে এই কাজটি করতে পারে। এভাবেই সবাই মিলে করোনাভাইরাসকে মোকাবিলা করবো।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/৬ই এপ্রিল, ২০২০ ইং /রাত ৯:১১

↓↓↓ফেসবুক শেয়ার করুন