৮ই এপ্রিল, ২০২০ ইং | ২৫শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | সকাল ৮:০৪

বিশেষজ্ঞদের অভিমত : ফ্লাইওভারগুলো নগরীর জন্য ‘অপূরণীয় ক্ষতি’

 

ডেস্কনিউজঃ রাজধানীর ফ্লাইওভারগুলোকে নগরের জন্য ‘অপূরণীয় ক্ষতি’ উল্লেখ করে নগর বিশেষজ্ঞরা শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নে বিপুল ব্যয়ে মেগা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেয়ে বাস্তব ভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

যানজটে নাভিশ্বাস ওঠা নগরবাসীকে স্বস্তি দিতে শহরজুড়ে ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হলেও নগরবাসী এখনও ট্রাফিক ব্যবস্থার কোনো উন্নতির ফল ভোগ করতে পারেনি।

যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. মো. শামসুল হক ইউএনবিকে বলেন, ‘‘যানজট কমাতে শহরে ফ্লাইওভার নির্মাণ একটি ‘অপূরণীয় ক্ষতি। ‘বিশ্বব্যাপী, যানজট নিরসনে ফ্লাইওভার নির্মাণ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নয়। এটি অপূরণীয় ক্ষতি।’’

তিনি বলেন, ‘বিশেষজ্ঞদের সাথে পরামর্শ না করে যানজট নিরসনের জন্য শহরের প্রাণকেন্দ্রে ফ্লাইওভারের মতো বড় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং সেগুলো এখন অকার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে নগর বিশেষজ্ঞ বলেন, প্রধান সড়কগুলো থেকে অটোরিকশা, লেগুনা ও রিকশার মতো ছোট-ছোট যানবাহনগুলো সরানো না হলে যানজটের সমাধান আসবে না। এমনকি মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের পরেও পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।

তিনি বলেন, ‘মেট্রোরেল প্রকল্পটি শেষ হয়ে গেলে ১০ বছর পরে এখানকার ট্রাফিক ব্যবস্থা ঠিক হবে কিনা তা নিয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে।’

যানজট কমাতে ও পরিবহনের ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এবং রাস্তাগুলোর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতে অবিলম্বে বিদ্যমান মিনিবাস এবং মাইক্রোবাসগুলোর পরিবর্তে ডাবল-ডেকার চালু করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘লন্ডন, হংকং এবং মস্কোর মতো অনেক শহরে এটি খুব কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।’

এদিকে, ফ্লাইওভারগুলোর ওপরে কিছুটা স্বস্তি মিললেও ফ্লাইওভারগুলো থেকে নামার পয়েন্টগুলো নগরবাসীদের কাছে আতঙ্কের নাম। এসব এলাকায় বেশিরভাগ সময় যানজট লেগে থাকে বিশেষ করে সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা এবং সন্ধ্যায় ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।

ট্রাফিক পুলিশরাও স্বীকার করেছেন যে, গণপরিবহনের সংখ্যা বৃদ্ধি না হওয়া পর্যন্ত এবং মেট্রোরেল ও বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইওভারগুলো থেকে নামার পয়েন্টগুলোতে যানজট থাকবে।

সম্প্রতি রাজধানীর গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ি ফ্লাইওভার, মৌচাক-মগবাজার ফ্লাইওভার, মহাখালী ফ্লাইওভার ও বনানী ফ্লাইওভার ঘুরে দেখা যায় প্রায় সবগুলো ফ্লাইওভার থেকে নামার পয়েন্টগুলোতে যানজট লেগে রয়েছে।

এদিকে, ফ্লাইওভার নির্মাণের কারণে যানজটের স্থানগুলোতে পরিবর্তন হয়েছে। যেমন-একসময়কার অন্যতম ব্যস্ত ও যানজটপূর্ণ এলাকা ফ্লাইওভারের নিচের মৌচাক ও মগবাজারের রাস্তা ফাঁকা থাকলেও নামার পয়েন্টগুলো- বাংলামোটর, সাতরাস্তা, ওয়্যারলেস গেট, মালিবাগ চৌধুরীপাড়া, শান্তিনগর ও রাজারবাগ এলাকায় যানজট লেগে যাচ্ছে।

একইভাবে ফ্লাইওভারের নিচে থাকা মহাখালী রেল ক্রসিং, কুড়িল বিশ্বরোড, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ি ক্রসিংগুলো যানজট না থাকলেও মহখালী ফ্লাইওভার থেকে নামার পরে জাহাঙ্গীর গেট ও বনানী চেয়ারম্যান বাড়ি, গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ি ফ্লাইওভারগুলোর নামার পয়েন্ট গুলিস্তান, জনপদ রোড ও চাংখারপুল পয়েন্টে যানজট লাগছে।

নগর বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘কেবল কুড়িল ফ্লাইওভার যানজট নিরসনে কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে, অন্যগুলো ব্যর্থ। বেশিরভাগ ফ্লাইওভার কেবল দ্রুতগতিতে রেলপথ অতিক্রম করার জন্য কার্যকর হয়েছে।’

শহরের জনসংখ্যা ও ছোট যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং এটি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থার অভাবে ট্র্যাফিক পরিস্থিতি ধীরে ধীরে খারাপ হচ্ছে বলেও মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল।

নগর বিশেষজ্ঞের মতে, ‘ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নে গণপরিবহন সম্পর্কিত প্রকল্পগুলো সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে বাস্তবায়ন জরুরি। মেট্রোরেল প্রকল্পটি শেষ হলে ট্র্যাফিক পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হতে পারে।’

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে ফ্লাইওভারের নামার পয়েন্টগুলোতে যানজটের সৃষ্টি হয়।

তিনি বলেন, যানবাহনগুলো ফ্লাইওভারের নীচে ও ওপরে দুটি লেনে করে চলাচল করলেও নামার পয়েন্টগুলোতে, সামনের রাস্তাগুলো একটি বাধা হয়ে দাঁড়ায় এবং মারাত্মক যানজট সৃষ্টি হয়। মেট্রোরেলসহ বড় বড় গণপরিবহনবান্ধব প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে বলে মনে করেন তিনি।

ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বরত এক পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউএনবিকে বলেন, রাস্তা থেকে যানবাহনের সংখ্যা কমানো না গেলে মেট্রোরেল বাস্তবায়নের পরও যানজট কমবে না।’

‘মেট্রোরেলসহ বড় বড় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের সাথে সাথে রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাবে। ফলে যানজট পরিস্থিতি অপরিবর্তীতই থাকবে,’ যোগ করেন তিনি। সূত্র : ইউএনবি

 

কিউএনবি/বিপুল /২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং/রাত ৯:০৬

↓↓↓ফেসবুক শেয়ার করুন