২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | সকাল ৯:২৮

ভাইরাল হতে মিথ্যার আশ্রয়!

 

ডেস্ নিউজ : বিশ্ব মানুষের হাতের মুঠোয়। অনেক খবর মিডিয়ায় আসার আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু কিছু লোক এই সুবিধাগুলো কাজে লাগিয়ে গুজবও ছড়ায়। বিভিন্ন সাম্প্র্রতিক ইস্যুকে সামনে রেখে সেখানে কিছু অবান্তর তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে। কেউ কেউ অবশ্য রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্যও দেশ-বিদেশ থেকে বসে বসে বিভিন্ন ফেক ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। যেগুলো দেখে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্তির গোলকধাঁধায় পড়ে যায়। অথচ মহান আল্লাহ সত্যের মাধ্যমে মিথ্যার বেসাতিতে আঘাত হেনেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘বরং আমি সত্যের মাধ্যমে আঘাত হানি মিথ্যার ওপর। ফলে তা মিথ্যাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় এবং তত্ক্ষণাৎ মিথ্যা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ১৮)। এই আয়াত দ্বারা বোঝা যায়, মিথ্যার ওপর ভর করে কোনো সফলতা অর্জন সম্ভব নয়। এর ধ্বংস অনিবার্য। তাই সামান্য কিছু লাইক/শেয়ার কিংবা অর্থের জন্য গুজবে লিপ্ত হওয়া কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয়। ইন্টারনেটে যেকোনো খবর প্রচার করার ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করা উচিত। কারণ আপনার একটি পোস্ট কোনো ক্ষেত্রে অনেক বড় বিপদের কারণ হতে পারে। শুধু ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে দাঙ্গা ও প্রাণহানির ঘটনা এ দেশে নতুন নয়। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সর্বদা সত্য ও সঠিক কথা বলার তাগিদ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৭০)

হজরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে মহানবী (সা.) তাঁকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘তুমি তিক্ত হলেও সত্য বলো।’ (মুসনাদে আহমাদ : ৫/১৫৯; সহিহুল জামে’, হাদিস নম্বর : ৩৭৬৯)

বর্তমানে নিউজ পোর্টাল, ইউটিউব চ্যানেল খোলা অনেক সহজ হওয়ায় অনেকেই বিভিন্ন নামে পত্রিকা খোলেন, ইউটিউবে বিভিন্ন চ্যানেল খোলেন। সেখানে তাদের খবর ও ভিডিওগুলোকে ভাইরাল করার জন্য বিভিন্ন ছলচাতুরীর আশ্রয় নেন। চটকদার শিরোনাম দেন। অনেক ক্ষেত্রে শিরোনামের সঙ্গে নিউজের কোনো মিল পাওয়া যায় না। সত্যবিমুখ এমন মানুষের জন্য মহানবী (সা.) এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন যে এরা মুসলমানদের দলভুক্ত নয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘যে প্রতারণা করে, সে আমার দলভুক্ত নয়।’ (মুসলিম শরিফ, হাদিস নম্বর : ১০২)

তা ছাড়া ভাইরাল হওয়ার জন্য এ ধরনের প্রতারণা কপট লোকদের অভ্যাস। কোরআন ও হাদিসে এদের মুনাফিক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যার মধ্যে চারটি স্বভাব আছে, সে প্রকৃত মুনাফিক। আর যার মধ্যে এ চারটি থেকে কোনো একটি স্বভাব আছে, সেটি ত্যাগ করা পর্যন্ত তার মধ্যে কপটতার একটি স্বভাব বিদ্যমান। ওই চার স্বভাব হলো—যখন তার কাছে আমানত রাখা হয়, তখন সে তা খেয়ানত করে; যখন সে কথা বলে, মিথ্যা বলে; যখন সে অঙ্গীকার করে, প্রতারণা করে, আর যখন সে বিবাদে জড়ায়, গালাগাল করে।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৪, মুসলিম, হাদিস : ৫৮)

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং /বিকাল ৫:৫৪

↓↓↓ফেসবুক শেয়ার করুন