ব্রেকিং নিউজ
২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং | ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | সকাল ১০:৩৯

বসন্ত ও ভালোবাসার ছোঁয়ায় অন্যরকম মেলা

 

সাহিত্য ডেস্ক : বাংলা পঞ্জিকার পরিবর্তনের ফলে পহেলা ফাগুন ও ভ্যালেন্টাইন’স ডে দুটোই ১৪ ফেব্রুয়ারি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ছুটির দিন শুক্রবার। সবমিলে অমর একুশে গ্রন্থমেলার জন্য আজ একেবারেই ভিন্নরকম একটি দিন। বাসন্তী রং আর ভালোবাসার ছোঁয়ায় লোকে লোকারণ্য হবে মেলার মাঠ। আজ গ্রন্থমেলার দ্বার খুলবে সকাল ১১টায়। দুপুর ১টা পর্যন্ত শিশুপ্রহর। মেলা চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। 

লেখক, পাঠক, প্রকাশকরাও যেন এমন একটি দিনের অপেক্ষাই করছিলেন। বৃহস্পতিবার বিকালেই যেন মেলায় বসন্ত এসে যায়। মেয়েরা দলে দলে হাজির হয় বাসন্তী রঙের শাড়ি পরে। মাথায় ছিল ফুলের টায়রা। তরুণদের পরনেও ছিল পাঞ্জাবি। যুগলরা হাতে হাত রেখে বিভিন্ন প্যাভিলিয়ন ও স্টল ঘুরছেন, বই দেখছেন, কিনছেন। অন্যপ্রকাশের

প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, কাল (আজ শুক্রবার) মেলার সত্যি কাঙ্ক্ষিত একটি দিন। একই সঙ্গে পহেলা বসন্ত, ভ্যালেন্টাইন’স ডে ও শুক্রবার। সবমিলে জমে উঠবে মেলা। শুধু তা-ই নয়, এই রেশ অব্যাহত থাকবে মেলার শেষদিন পর্যন্ত।

মূলমঞ্চের আয়োজন : বিকালে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় সুব্রত বড়ুয়া রচিত ‘বঙ্গবন্ধুর জীবনকথা’ গ্রন্থের আলোচনা। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজন বড়ুয়া। আলোচনায় অংশ নেন লুৎফর রহমান রিটন ও মনি হায়দার। সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল।

সুজন বড়ুয়া বলেন, আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বঙ্গবন্ধুর নীতি, আদর্শ ও দর্শন জানা এবং চর্চা করা। নতুন প্রজন্মের নবীন-তরুণদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে যত আগ্রহ সৃষ্টি করা যাবে, তারা ততই দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সোনার বাংলা গড়ার পক্ষে এটা অত্যন্ত জরুরি উদ্যোগ। সুব্রত বড়ুয়া রচিত ‘বঙ্গবন্ধুর জীবনকথা’ গ্রন্থখানি কিছুটা হলেও আমাদের এগিয়ে দেবে সেই লক্ষ্যে। বঙ্গবন্ধুকে এখানে উপস্থাপন করা হয়েছে বিশ্বনেতার মানদণ্ডে।

আলোচকরা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক বিশাল সমুদ্রের মতো, যিনি তার চেতনায় ধারণ করেছেন বাংলা, বাঙালি ও বাংলাদেশ। বইটিতে সংক্ষিপ্ত পরিসরে লেখক বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য ও সংগ্রামী জীবনকে ইতিহাস ও তথ্যের ভিত্তিতে তুলে আনার প্রয়াস পেয়েছেন। এককথায় বলা যায়, সাবলীল ভাষায় লেখা বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মবিষয়ক এটি এক অনন্য গ্রন্থ। এদিন লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী, মৌলি আজাদ, রাসেল আশেকী ও শোয়েব সর্বনাম। কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন মাহবুব সাদিক, শাহজাদী আঞ্জুমান আরা, মুনীর সিরাজ এবং মাসুদ হাসান। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী শাহাদাৎ হোসেন, অনিমেষ কর ও তামান্না সারোয়ার নীপা। নৃত্য পরিবেশন করেন সৌন্দর্য প্রিয়দর্শিনী ঝুম্পার পরিচালনায় নৃত্য সংগঠন ‘জলতরঙ্গ ডান্স কোম্পানি’র নৃত্য শিল্পীরা। সঙ্গীত পরিবেশন করেন দীনাত জাহান মুন্নী, আঞ্জুমান আরা শিমুল, কাজী মুয়ীদ শাহরিয়ার সিরাজ জয়, রেজওয়ানুল হক এবং সঞ্জয় কুমার দাস।

নতুন বই : বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগের দেয়া তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার গ্রন্থমেলায় নতুন বই প্রকাশ হয়েছে ১৮০টি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- অবসর এনেছে আবদুল মান্নান সৈয়দের ‘দশ দিগন্তের দ্রষ্টা’, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স এনেছে সৈয়দ হাসান ইমামের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘আকাশ আমায় ভরলো আলোয়’, একই প্রকাশনী থেকে এসেছে জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের ‘সাম্প্রতিক সেরা গল্প’, বাংলা একাডেমি প্রকাশ করেছে সুব্রত বড়ুয়ার বঙ্গবন্ধুবিষয়ক বই ‘বঙ্গবন্ধুর জীবনকথা’, অনন্যা এনেছে আনিসুল হকের ‘কবিতা সমগ্র’, একই প্রকাশনী থেকে রকিব হাসানের গোয়েন্দা কাহিনী ‘শয়তানের বাঁশি’, অন্যধারা প্রকাশ করেছে হাবীবুল্লাহ সিরাজীর কবিতার বই ‘আমার একজনই বন্ধু’, আদর্শ এনেছে জাকির তালুকদারের উপন্যাস ‘হাঁটতে থাকা মানুষের দল’, কথাপ্রকাশ এনেছে আনজীর লিটনের প্রবন্ধ ‘গদ্যের ধারাপাত’, একই প্রকাশনা থেকে এসেছে রেজানুর রহমানের মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস ‘আবাসভূমি’, শোভা প্রকাশ এনেছে কচি খন্দকারের গল্পগ্রন্থ ‘এক ঢিলে দশ পাখি’, নালন্দা এনেছে সুধাংশু শেখর বিশ্বাসের ভ্রমণগল্প ‘মস্কোর ঘণ্টা’, সময় প্রকাশন এনেছে প্রসূন রায়ের ‘রাশিয়ার পরিব্রাজক প্রথম খণ্ড’, গোলাম রব্বানী টুপুলের ‘ভূত রহস্য’, চন্দ্রাবতী একাডেমি এনেছে খান মাহবুবের ভ্রমণগ্রন্থ ‘সীমান্তের ওপারে’, অনিন্দ্য প্রকাশ এনেছে অংশুমানের উপন্যাস ‘জলে ডোবা প্রাণ’।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৪ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং /বিকাল ৫:৫৯

↓↓↓ফেসবুক শেয়ার করুন