২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | সকাল ১০:২৬

অবরুদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে মুক্ত করলেন ইউএনও

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না,লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাটের আদিতমারীতে হত্যার হুমকীতে জিডি করায় ক্ষিপ্ত হয়ে চলাচলের পথ বন্ধ করায় অবরুদ্ধ হওয়া সেই মুক্তিযোদ্ধাকে মুক্ত করলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন। বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করে মুক্তিযোদ্ধার চলাচলের জন্য রাস্তা তৈরী করে দেন ইউএনও। এর আগে, একই দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে রাস্তা বন্ধ দেখে পুরো পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন উপজেলার দুর্গাপুর চেয়ারম্যানটারীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেম।
জিডি ও অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার দুর্গাপুর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেম (৬৫) ও তার ভাগ্নে মৃত জহুরুল ইসলামের ছেলে বিএনপি কর্মী আসাদের মাঝে পৈত্রিক জমি নিয়ে বিরোধ বাঁধে। মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেম পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বোনের অংশ বসতভিটার পাশে ভাগ্নে আসাদকে বুঝিয়ে দেন। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান ছালেকুজ্জামান প্রামাণিক নিজ বসতভিটায় জমি বুঝে দেয়ার জন্য মুক্তিযোদ্ধাকে চাপ প্রয়োগ করেন। এতে মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেম রাজি না হওয়ায় চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন।
এরই জের ধরে ১৭ জানুয়ারী বিকেলে ইউপি চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা ছালেকুজ্জামান প্রামাণিক দলবল নিয়ে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে মুক্তিযোদ্ধাকে পরিবারের সদস্যদের সামনে লাঞ্চিত করেন। তাদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এলে বিএনপি নেতা চেয়ারম্যান ছালেকুজ্জামান প্রামাণিক দ্রুত বসতভিটা খালি করে জমি বুঝে দিতে অশ্লীলভাষায় গালমন্দ করেন। নির্দেশ অমান্য করলে মুক্তিযোদ্ধাকে স্বপরিবারের হত্যা করে বসতভিটাহীন করে জমি দখলের হুমকী দেন। এতে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শ্বঙ্কিত হয়ে পড়েন মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেম।
এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে বিএনপি নেতা ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১২জনের বিরুদ্ধে ১৯ জানুয়ারী আদিতমারী থানায় সাধারন ডায়েরী দায়ের করেন মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেম। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ছালেকুজ্জামান প্রামাণিকের নির্দেশে বিএনপি কর্মী আসাদ দলবল নিয়ে বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারী) রাতে বাঁশের বেড়া দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেমের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে মুক্তিযোদ্ধার অভিযোগ। বুধবার সকালে ঘুম থেকে উঠে রাস্তা বন্ধ দেখে পুরো পরিবারের ১২ সদস্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন তারা। অবরুদ্ধ থাকায় ওই পরিবারের ৪শিশু বিদ্যালয়েও যেতে পারেনি।
এ নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারী) ‘আদিতমারীতে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার অবরুদ্ধ’ শিরোনামে একটি সচিত্র সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে মুহুর্তে ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। ওই দিন রাতে থানা পুলিশ গিয়ে সাময়িক চলাচলের জন্য বেড়া খুলে দেন। একই দিনে অবরুদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেমের বাড়ি যান আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন। সেখানে উভয় পক্ষকে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধার চলাচলের জন্য ৭ ফিট প্রস্থ্যের একটি রাস্তা বের করে উভয়ের মাঝে সমঝোতা করে দেন ইউএনও।
গণমাধ্যম কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেম বলেন, নির্যাতিতদের স্বার্থে বাস্তব চিত্র তুলে ধরে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করায় সাংবাদিকদের প্রতি আমার পরিবারের  পক্ষ থেকে কৃৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। মুক্তিযোদ্ধার কথা শুনে ছুটে এসে সমঝোতা করে দেয়ায় ইউএনওকেও ধন্যবাদ। এটাই স্বাধীনতা। আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন বলেন, উভয় পক্ষকে নিয়ে সমঝোতা করে মুক্তিযোদ্ধার চলাচলের জন্য ৭ফিট প্রস্থ্যের একটি রাস্তা বের করে দেয়া হয়েছে। এতে যাহা খরচ হবে তা দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদ বহন করবে। এ কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে থানা পুলিশ ও ইউপি চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ রাস্তা তৈরী না হওয়া পর্যন্ত পুর্বের রাস্তায় চলাচল করবেন মুক্তিযোদ্ধার পরিবার বলেও জানান তিনি।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৪ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং /বিকাল ৩:৪৯

↓↓↓ফেসবুক শেয়ার করুন