ব্রেকিং নিউজ
২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং | ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | সকাল ১০:৫৬

ছাগলনাইয়ায় ইটভাটায় বন্ধ হচ্ছে না শিশুশ্রম

ফেনী প্রতিনিধি : আইনকে উপেক্ষা করে ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় চলছে দিনের পর দিন শিশুশ্রম। আইনের তোয়াক্কা না করে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করাচ্ছে ইট ভাটার মালিকরা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার মহামায়া ইউনিয়নের রহমান ব্রিকস ম্যানুফেকচার কোঃ, রাধানগর ইউনিয়নের মেসার্স মধুগ্রাম ব্রিকস, মর্ডান ব্রিক ফিল্ড ও শুভপুর ইউনিয়নের মেসার্স কামাল এন্ড সন্স ব্রিকস ম্যানুফেকচারিং নামক ইট ভাটায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে শিশুরা।

শুধু তাই নয় ইট ভাটায় কর্মরত শ্রমিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে তাদের নেই কোন আত্নরক্ষার হাতিয়ার। ইট ভাটা পরিচালনা আইনে ভাটার শ্রমিকদের জন্য আত্নরক্ষার জন্য মাথায় হেলমেট, হাতে গ্লাপস, মুখে মাক্স, পায়ে সু রাখার কথা থাকলেও নেই তাদের কোন কিছু। বাংলাদেশ শ্রম আইনে স্পষ্টভাবে বলা আছে ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুরা হালকা কাজ ছাড়া  ভারি বা ঝুঁকিপূর্ন কোন কাজ করতে পারবেনা বা কেউ জোর পূর্বক করাতেও পারবেনা বা কেউ জোর করে কাজ করানোর চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে শিশুশ্রম আইনে শাস্তির বিধান থাকলেও কে শুনে কার কথা? ইট ভাটার মালিকরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত খাটুনি খাটিয়ে যাচ্ছে শিশুদের।

রাধানগর ইউনিয়নের মেসার্স মধুগ্রাম ব্রিক নামক ইট ভাটায় গিয়ে দেখা মেলে  শাকিব(১২) এবং সাড়ে ১২ বছর বয়সের আরেক শিশু সোহাগ ইট ভাটায় কাজ করছে। শাকিবের বাড়ী নোয়াখালী জেলার মাইজদী উপজেলার ৭নং ওয়ার্ডের মোসলেহ উদ্দীনের ছেলে। আর সোহাগ ও একই জেলার একই উপজেলা একই ইউনিয়নের মাঈনুদ্দীনের ছেলে। তাদের কাছে শিশু বয়সে কষ্টের কথা জানতে চাইলে তারা জানায়,গরীবের সংসার হওয়ায় অভাবের তারনার এখানে এসে ইট ভাটায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছি। তাদের পারিশ্রমিকের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানায় ৬ মাসে ৩০ হাজার টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে কাজ করছে তারা।

এ প্রসঙ্গে ইটভাটার মালিক মোঃ জিন্নার কাছে শিশুশ্রমের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি শিশুশ্রমের কথা অস্বীকার করে বলেন, এগুলো আমাদের শ্রমিক নয় তারা সম্ভবত অাশপাশের বাড়ীর লোকজন ইটভাটা দিয়ে হাটা চলা করছে। একই ইউনিয়নের মেসার্স মর্ডান ব্রিকস নামক ইট ভাটায় গিয়েও একই চিত্র সেখানেও কাজ করছে ঝুমুর(৯) এবং তার ভাই ইমন (৮)নামের আরেক শিশু। শুভপুর ইউনিয়নের মেসার্স কামাল এন্ড সন্স ব্রিকস ম্যানুফেকচারিং নামের ঐ ইট ভাটায় ও কাজের  দেখা মেলে শিপন (১৩) ও রাশেদ(১১)।

এ ব্যাপারে ইট ভাটার মালিক কামাল উদ্দীনের কাছে শিশু দিয়ে কাজ করানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেসব শ্রমিকরা ইট ভাটায় কাজ করে তারা তাদের পরিবার নিয়ে চলে আসছে হয়তো তাদের ছেলে মেয়ে হতে পারে। আমরা অগ্রীম টাকা দিয়ে অন্যলোককে ( মাঝি) ইট কাটা ও পোড়ানোর দায়িত্ব দিয়ে দিছি কাজের দায়িত্ব সম্পূর্ন তাদের কাছে আমরা জানিনা এখন যেহেতু জেনেছি বিষয়টা গুরুত্ব দিয়ে দেখব যদি শিশুরা কাজ করে থাকে তাহলে তাদের বাদ দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

এ ব্যাপারে ছাগলনাইয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজিয়া তাহের ফেনী জেলা নিউজকে জানান, শুধু ইটভাটা নয় কোথাও শিশুশ্রম কাম্য নয় এবং শিশুশ্রম হতে দেয়া যাবেনা। আমি ইটভাটাগুলোতে যাব এবং এই ধরনের কিছু হলে সাথে সাথে ঐ ইট ভাটার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করব।

কিউএনবি/আয়শা/৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং /বিকাল ৩:২৬

↓↓↓ফেসবুক শেয়ার করুন