২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং | ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | সকাল ১০:২২

ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে যবিপ্রবি শিক্ষককে মারপিট

 

স্টাফ রিপোর্টার চৌগাছা (যশোর) শ্লীলতাহানির অভিযোগে ডা. শিমুল সাহা নামে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে মারপিট করেছেন ছাত্রীর অভিভাবকরা। বৃহ¯পতিবার রাত দশটার দিকে যশোর শহরের পালবাড়ি মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্যুর শেষে ফিরছিলেন অভিযুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় শিক্ষকদের পক্ষ থেকে যশোর কোতয়ালী থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, তারা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করছেন। এরপরই এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপরদিকে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত টিম গঠন করবে বলে জানানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহ¯পতিবার রাত দশটার দিকে যবিপ্রবির ওই বাসটি পালবাড়ি মোড়ে এসে পৌছুলে কিছু শিক্ষার্থী সেখানে নামেন। এ সময় তিন যুবক বাস থেকে এক শিক্ষককে নামিয়ে চড়-থাপ্পড় মারেন। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা তাদের নিবৃত্ত করেন। পরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বাস নিয়ে ক্যা¤পাসে চলে যান। এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অভিযুক্ত ড. শিমুল সাহার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে লাইন কেটে দেন। অন্য শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। বাসে থাকা একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও কিছু বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে নিউজ করার কিছু নেই। বিষয়টি মীমাংশা হয়ে গেছে।

এদিকে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা মেয়ের সম্মানহানির কথা বলে বিস্তারিত বলতে রাজি হননি।তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. ইকবাল কবীর জাহিদ জানান, রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ২২ শিক্ষার্থীকে নিয়ে নরসিংদীতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্যুরে গিয়েছিলেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শিমুল সাহা ও সহকারী অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম। সেখান থেকে ফেরার পথে শহরের পালবাড়ি মোড়ে এক মেয়ে শিক্ষার্থীর ভাই ও বন্ধুরা শিক্ষক ড. শিমুল সাহাকে লাঞ্ছিত করেন। তাদের অভিযোগ ওই শিক্ষক বাসের মধ্যে তাদের বোনের শ্লীলতাহানি করেছেন। মারপিটের ঘটনায় রাতেই যশোর কোতয়ালী থানায় জিডি করা হয়েছে।

যশোর জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম জানান, তিনি বিষয়টি জেনেছেন এবং জিডি পেয়েছেন। আসলে কী ঘটেছে সেটা পুলিশ তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপচার্য ড. মো. আনিসুর রহমান জানান, শিক্ষকরা রাতেই তাকে ঘটনা অবহিত করেছেন। যেহেতু একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠছে, সে কারণে সত্যতা জানতে শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় খুললে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর যদি অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয় তাহলে শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং /সন্ধ্যা ৬:০৯

↓↓↓ফেসবুক শেয়ার করুন