২০শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং | ৫ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১:২২

লোহাগড়ায় বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভাঙন, অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা

শরিফুল ইসলাম, নড়াইল থেকে: নড়াইলের লোহাগড়া মধুমতি নদীর পানি বৃদ্বির কারনে উপজেলার ১০নং কোটাকোল ইউনিয়নে ঘাঘার বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ  যে  কোন সময় ভেঙ্গে যেতে পারে । পানির ¯্রােতে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রাম ও মাঠের ফসল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নড়াইল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের ওই এলাকা মধুমতি নদীতে বিলীন হলে ওই বছরই পুনরায় নতুন করে তার পাশে মাটি দিয়ে বাঁধ তৈরি করা হয়। এ বছর বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

সোমবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘাঘা  এলাকায় প্রায় আধা কিলোমিটার অংশে বাঁধের পাঁচ জায়গায় মধুমতী নদীতে বিলীন হতে চলেছে। বাঁধের অধিকাংশ জায়গায় অর্ধেকের বেশি অংশ নদীতে গেছে বাকি অংশে ফাটল ধরেছে। দুটি জায়গায় বাঁধের উত্তর পাশ দিয়ে পাউবো বালুর বস্তা সাজিয়ে পানি ঠেকানোর প্রস্ততি নিয়েছে। কোন কোন জায়গায় তীব্র ¯্রােত থাকায় পানিতে পাঁক খাচ্ছে। এলাকার মানুষ দেখার জন্য নদীর পাড়ে ভিড় করছেন। তাঁরা দ্রুত নদীর ভাঙনরোধ এবং নতুন বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান। ঘাঘা গ্রামের জাকির  জানান, প্রতি বছরই এখানে ভাঙন দেখা দেয়। যেকোনো মুহূর্তে বাঁধের ওই অংশ নদীতে বিলীন হবে। আর তখন কোটাকোল, ইতনা, মল্লিকপুর ও দিঘলিয়া ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হবে। অনেক পবিরার আশ্রয়হীন হবে। এছাড়া ফটকের বিল, ঘাঘা, রাধানগর, ইতনা, পাংখারচর, পাচুড়িয়া, মঙ্গলহাটা, মল্লিকপুর, দিঘলিয়া, সোনাদাহ, কোটাকোল, যোগিয়া ও ধলইতলার মাঠের ফসল পানিতে তলিয়ে যাবে। এছাড়া এ বাঁধটি এলাকার তিনটি ইউনিয়নের লোকজনের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা।ইউপি চেয়ারম্যান  হিমায়েত হোসেন বলেন, অর্ধশাধিক গ্রামের মানুষকে বাঁচাতে হলে নতুন বাঁধ নির্মাণ করে পানি ঠেকানোর পাশাপাশি নদী ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাউবোর লোহাগড়া উপজেলা দায়িত্বপ্রাপ্ত উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এ এইচ এম আল জহির বলেন, যেকোনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে এলকায় পানি ঢুকতে পারে। এতে এলাকায় সর্বনাশ হয়ে যাবে। তাই পানি ঠেকানোর চেষ্টা হচ্ছে।

কুইকনিউজবিডি.কম/এমকে/০৫.০৯.২০১৬/১৬:১৫