২৫শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং | ১২ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | সকাল ১০:৪৩

ঋণখেলাপিদের গণছাড়: ২৪ হাজার কোটি টাকা নিয়মিত করার আবেদন

 

ডেস্ক নিউজ : বেশির ভাগ বড় ঋণখেলাপি এখনো ঋণ পুনঃ তফসিলের গণছাড়ে সাড়া দেয়নি। তার পরও বিশেষ ছাড় নিয়ে প্রায় সাড়ে ২৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়মিত করার আবেদন পড়েছে। সরকারি বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোতে এ পরিমাণ খেলাপি ঋণ নিয়মিত করতে চাইছেন ব্যবসায়ীরা। আর নিষ্পত্তির প্রস্তাবে জড়িত অর্থের পরিমাণ ১২ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা। সরকারি আট ব্যাংক এ ক্ষেত্রে ডাউনপেমেন্ট পেয়েছে ৪৩৮ কোটি টাকা। সরকারি ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এ ব্যাপারে ঋণ পুনঃ তফসিল এবং এক্সিট প্ল্যান কমিটির প্রধান মো. শুকুর আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, সময় এখনো বাকি আছে। আরো সাড়া পাব বলে আশা করছি।

সূত্র মতে, সরকারি সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল), বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে বিশেষ সুবিধা নেওয়ার আবেদন পড়েছে ১০ হাজার ৫১১টি। এর মধ্যে পুনঃ তফসিলের আবেদন পড়েছে ছয় হাজার ১৩১টি। আর এককালীন এক্সিটের আবেদন পড়েছে চার হাজার ৩৮০টি। সরকারি ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকে মোট আবেদন পড়েছে ৯৪৯টি। এ সঙ্গে জড়িত খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২৩ হাজার ছয় কোটি টাকার কিছু বেশি। আর দুই বিশেষায়িত ব্যাংকে মোট চার হাজার ২৮ আবেদনের সঙ্গে জড়িত অর্থের পরিমাণ এক হাজার ৩৩৮ কোটি পাঁচ লাখ টাকা।

আট ব্যাংকে ঋণ নিয়মিত করার ক্ষেত্রে খেলাপি অর্থের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি সাড়া পেয়েছে জনতা ব্যাংক। ব্যাংকটিতে পুনঃ তফসিলের জন্য আবেদন পড়েছে ৬১৪টি। এককালীন এক্সিটের আবেদন পড়েছে ২৮৯টি। খেলাপি ঋণে জড়িত অর্থের পরিমাণ ১১ হাজার ৯৯৮ কোটি টাকা। ব্যাংকটি ডাউনপেমেন্ট পেয়েছে ১৮১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। নিষ্পত্তিকৃত প্রস্তাব এসেছে ৫৭৭টি। আর এর সঙ্গে জড়িত অর্থের পরিমাণ পাঁচ হাজার ৪৬৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। এর পরেই রয়েছে সোনালী ব্যাংক। সোনালী ব্যাংকে পুনঃ তফসিলের এক হাজার ২৩৬ এবং এককালীন এক্সিটে এক হাজার ৬৪৪টি আবেদন পড়েছে। জড়িত অর্থের পরিমাণ তিন হাজার ১৩৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ব্যাংকটি ডাউনপেমেন্ট পেয়েছে ৮৪ কোটি টাকা। এর নিষ্পত্তিকৃত প্রস্তাবের সংখ্যা দুই হাজার ৫৮৫টি। বিপরীতে জড়িত অর্থের পরিমাণ দুই হাজার ২০৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। তৃতীয় স্থানে রয়েছে বহুল আলোচিত বেসিক ব্যাংক। ব্যাংকটিতে পুনঃ তফসিলের ৪৩২ এবং এককালীন এক্সিটে ৫৩টি আবেদন পড়েছে। এর সঙ্গে জড়িত খেলাপি ঋণের পরিমাণ তিন হাজার পাঁচ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। ব্যাংকটি ডাউনপেমেন্ট পেয়েছে ৬৮ কোটি দুই লাখ টাকা। এতে ৩০৮টি নিষ্পত্তিকৃত প্রস্তাবের বিপরীতে জড়িত অর্থের পরিমাণ এক হাজার ৮৪৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা। চতুর্থ স্থানে থাকা অগ্রণী ব্যাংকে মোট আবেদন পড়েছে এক হাজার ১৭৫টি। জড়িত খেলাপি ঋণের পরিমাণ দুই হাজার ৪১৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। আদায়কৃত ডাউনপেমেন্টের পরিমাণ ৪০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

ব্যাংকটিতে ৯৭৩টি নিষ্পত্তির আবেদনে জড়িত অর্থের পরিমাণ এক হাজার ৬৬২ কোটি ১৪ লাখ টাকা। ৫ নম্বরে থাকা রূপালী ব্যাংকে মোট ৫৭৬টি আবেদনে জড়িত খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক হাজার ৯১৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা। ব্যাংকটি ডাউনপেমেন্ট পেয়েছে ১৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। এর ১৯৬টি নিষ্পত্তিকৃত প্রস্তাবের বিপরীতে জড়িত অর্থের পরিমাণ ৫১২ কোটি ৫২ লাখ টাকা। বিকেবিতে মোট তিন হাজার ৬৯৭ আবেদনে জড়িত খেলাপি ঋণ এক হাজার ১৯২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। ডাউনপেমেন্ট পেয়েছে ২৯ কোটি পাঁচ লাখ টাকা। ব্যাংকটিতে ১৩০২টি নিষ্পত্তিকৃত প্রস্তাবে জড়িত অর্থের পরিমাণ ৩৭১ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

বিডিবিএলে ৪৬৪টি আবেদনে জড়িত খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫৩৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। ডাউনপেমেন্টের পরিমাণ ১১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। ব্যাংকটিতে ১০০টি নিষ্পত্তিকৃত প্রস্তাবের বিপরীতে জড়িত অর্থের পরিমাণ ১৭৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা। সর্বশেষ রাকাবে মোট ৩৩১টি আবেদনে ১৪৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা খেলাপি ঋণ নিয়মিত করতে চান ব্যবসায়ীরা। ব্যাংকটি ডাউনপেমেন্টে পেয়েছে তিন কোটি আট লাখ টাকা। ব্যাংকটিতে জমা পড়া ৩১৭টি নিষ্পত্তিকৃত প্রস্তাবের সঙ্গে জড়িত অর্থের পরিমাণ ১৪৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৪ ই জানুয়ারি, ২০২০ ইং /বিকাল ৫:৩৪

↓↓↓ফেসবুক শেয়ার করুন