২৬শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং | ১৩ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | রাত ৮:৫৯

চাঁদপুরের দুর্গমচরে এই প্রথম স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র

 

ডেস্ক নিউজ : স্বাধীনতার পর এই প্রথম চাঁদপুরে হাইমচরের মেঘনা নদীর দুর্গমচরের বাসিন্দারা সরকারি স্বাস্থ্যসেবার সুবিধা পেলো। এতে নীলকমল ও হাইমচর ইউনিয়নের ছোটবড় ১০টি চরের প্রায় ২৪ হাজার কিশোরী ও মায়ের হাসি ফুটেছে।  আজ মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নের জোনাকী গুচ্ছগ্রামে পরিবার কল্যাণ বিভাগের এই সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় আন্তর্জাতিক শিশু স্বাস্থ্য সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন-এর বাংলাদেশ প্রধান মি. জবি জর্জ নতুন করে চরাঞ্চলে এমন সেবা কার্যক্রম দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌসী বেগমের সভাপতিত্বে দুর্গম এই চরে নতুন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চাঁদপুরে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিবার পরিকল্পা বিভাগের উপপরিচালক ডা. ইলিয়াছ, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. সাখাওয়াত উল্লাহ, ইউএসএইড-মা মনি প্রজেক্টের, চাঁদপুর ম্যানেজার ডা. আবু শাকিল, উপজেলা পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা মো. আলমগীর, পরিবার কল্যাণ বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার ডা. আকলিমা আক্তার পিয়া, নীলকমল ইউপি চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন সর্দার, হাইমচর ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদাত সরকার প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা সব মানুষের দোড়গড়ায় পৌঁছে দেবার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। ফলে এখন মাতৃ মৃত্যুর হার অনেকে কমে গেছে।অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে উপস্থিত চরাঞ্চলের মা ও কিশোরীদের সঙ্গে কথা বলেন সেভ দ্য চিলড্রেন-এর বাংলাদেশ প্রধান মি. জবি জর্জ। এ সময় তিনি বলেন, মা ও শিশু স্বাস্থ্য রক্ষায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বে রোল মডেল। এই দেশের সরকার সবশ্রেণির মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করছে, এমনটি আমাদের অনুপ্রাণিত করছে। তিনি বলেন, কোনো ধরণের বৈষম্য নয়, সবার জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা হোক মূল লক্ষ্য। তাই তো আমরা মা ও শিশু স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিয়েছি।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে, মাতৃত্ব মৃত্যুর হার শুন্যের কোঠায় নিয়ে আসা। তাই প্রতিটি সেক্টর এক সঙ্গে কাজ করছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পাশাপাশি চরাঞ্চলে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের আশ্বাস দেন তিনি।  জেলা পরিবার কল্যাণ বিভাগের উপপরিচালক ডা. মো. ইলিয়াছ বলেন, চাঁদপুরের ৮ উপজেলায় ৭৮টি পরিবার কল্যাণ রয়েছে। এতে শুধুমাত্র গত নভেম্বর মাসে ৬৩০টি স্বাভাবিক প্রসব সেবা দেওয়া হয়েছে। যেখানে বিনামূল্যে প্রসূতি ও শিশু স্বাস্থ্যের জন্য সবধরণের সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। এতে সরকারের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা ছাড়িয়ে গেছে।

ডা. মো. ইলিয়াছ বলেন, মাতৃ মৃত্যু ও শিশু মৃত্যুরোধে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার জন্য চলতি বছর চাঁদপুর জেলা পরিবার কল্যাণ বিভাগ জনপ্রশাসন পদক লাভ করেছে।  পরে প্রধান অতিথিসহ অন্যরা হাইমচরের দুর্গমচরে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ফিতা কেটে উদ্বোধন এবং তারা কেন্দ্রটি ঘুরে দেখেন। এ সময় চরের কয়েক শ নারী, কিশোরীসহ এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।  এদিকে মেঘনা নদীর পশ্চিমপাড়ে চরে প্রথমবারের মতো সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হওয়ায় বেজায় খুশি স্থানীয়রা। এতে মা এবং শিশু মৃত্যুর হার থেকে যেমন চরবাসী রক্ষা পাবে তেমনই সাধারণ মানুষেরও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হলো।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১০ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং /সন্ধ্যা ৭:৫০

↓↓↓ফেসবুক শেয়ার করুন