১০ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং | ২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | রাত ৯:৫৩

পশুর মতো দড়ি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন গৃহবধূকে

 

ডেস্ক নিউজ : বিদেশ যাওয়ার জন্য তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে স্ত্রীকে আটকে রেখে নির্দয়ভাবে পিটিয়েছে স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন। পরে আহতাবস্থায় ওই নারীকে হাসপাতালে না নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে শালিসের কথা বলে তার পরিবারের লোকজনকে খবর দেয় গৃহবধূর শ্বশুর বাড়ির লোকজন। এই ঘটনার পর আহত গৃহবধূকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উদ্ধার করে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে স্বজনরা।  মঠবাড়িয়া উপজেলার সবুজনগর গ্রামের আলী হোসেনের মেয়ে গৃহবধূ মিতু আক্তার (১৯) গত দু’দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় বামনা থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর স্বজনরা।

মিতুর মা পাখি বেগম অভিযোগ করে বলেন, গত ছয়মাস আগে পারিবারিকভাবে বরগুনা উপজেলার কড়ইতলা গ্রামের সৌদি প্রবাসী মো. জাহাঙ্গীর আকনের ছেলে মো. জাহিদ আকনের সাথে মিতুর বিয়ে হয়। বিয়ের সময় বরপক্ষের সকল দাবি দাওয়া পূরণ করে কনে পক্ষ। বিয়ের পর বেকার জাহিদ নানাভাবে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন শুরু করে। জাহিদের পিতা সৌদি প্রবাসী। গত ১৫ দিন আগে তিনি বাড়িতে আসলে মিতুর পরিবারকে দাওয়াত দিয়ে তাদের বাড়িতে নেন। এরপর দুই পরিবারের বৈঠকে মিতুর স্বামীকে  বিদেশ পাঠানোর কথা ওঠে। সেখানে বিদেশ যাওয়ার জন্য তিন লাখ টাকা দাবি করেন স্বামী জাহিদের পরিবার। 

মিতুর পরিবার এ টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে বাড়ি ফিরে আসেন। এরপর থেকেই স্বামী ও পরিরারের লোকজন গৃহবধূ মিতুর ওপর নির্দয় আচরণ শুরু করে। গত বৃহস্পতিবার জাহিদ তার স্ত্রীকে দড়ি দিয়ে বেঁধে নির্দয়ভাবে পেটায়। সাত দিনের মধ্যে টাকা না দিলে জানে মেরে ফেলবে বলে এমন হুমকিও দেয়। এই নির্যাতনে গৃহবধূর শ্বাশড়ি কনক বেগম ও ননদ (স্বামীর বোন) শেফালি আক্তারও অংশ নেয়।

এই ঘটনার পর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মিতুকে তার পরিবারের কাছে তুলে দিয়ে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। পরে মঠবাড়িয়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুর রহমানের সহায়তায় মিতুকে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।  মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সোনিয়া আক্তার বলেন, ওই নারীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে মারধর করা হয়েছে। চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। 

আহত মিতুর ভাই মনির হোসেন জানান, এ ঘটনায় বরগুনার বামনা থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।  রামনা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আ. খালেক জমাদ্দার বলেন, আমি বিষয়টি জানার সাথে সাথে ওই গৃহবধূকে পরিষদে খবর দেই। তখন একটি শালিস বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় তাকে তার পিতা-মাতার কাছে কিছুদিনের জন্য পাঠানো হবে। তাছাড়া ওই বৈঠকে ওই নারী নির্যাতনের কোনো ঘটনা জানায়নি।  বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মাসুদুজ্জামান বলেন, নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূর পরিবারের লোকজন আমাকে বিষয়টি জানিয়েছে। মঠবাড়িয়ায় হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন ওই নারী। পরিবারের পক্ষে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২৯শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং /সন্ধ্যা ৭:৫৯

↓↓↓ফেসবুক শেয়ার করুন