৮ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং | ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | রাত ১:০২

বেনাপোল কাস্টস হাউসে চুরি : ৫ কর্মকর্তা সাসপেন্ড, তদন্ত কমিটি গঠন

 

মনিরুল ইসলাম মনি, শার্শা(যশোর)সংবাদদাতা : বেনাপোল কাস্টস হাউসের নিরাপদ গোপনীয় ভোল্ট ভেঙ্গে চুরির ঘটনায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ঘটনা স্থলে ডেপুটি কমিশনার এর অফিস কক্ষ। ঝুলঅনো রয়েছে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন সিসি ক্যামেরা। ক্যামেরায় কিছুই ধরা পড়েনি। কারন ক্যামেরাটি সচল থাকলেও মুল মেশিন থেকে ক্যামেমরার বিকল কিরা ছিল। কেন বিকল ছিল এটাই প্রশ্ন। এত নিরাপত্তা থাকা সত্বেও চুরির ঘটনা প্রশ্ন বিদ্ধ। ৩দিনের ছুটিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন ছিল। কারাইবা ছিল নিরাপত্তার দায়িত্বে। এসব প্রশ্ন নিয়ে দিন ভর কাস্টমস এলাকায় আলোচনা সমালোচনা চলছে।

তবে কত ডলার, বিদেশী মুদ্রা খোয়া গেছে তা তদন্তে এখনও নিশ্চিত হয়নি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ মামুন খান বলেন সোমবার রাতে এ ব্যাপারে কাস্টমস হাউসের প্রশাসনিক রাজস্ব অফিসার এমদাদুল হক বাদী হয়ে একটি চুরি মামলা করেছেন। যার মামলা নং ২২।তাং ১১/১১/১৯। আসামী অজ্ঞাত।
সূত্রে জানাগেছে, কাস্টমস হাউসের দুধর্ষ চুরির এই রহস্য উদ্ঘাটনে বেনাপোল পোর্ট থানা সহ র‌্যাব, ডিবি, সিআইডি এবং পিবিআই ঘটনাস্থলে তদন্ত কাজ অব্যহত রেখেছেন।

সোমবার রাতে বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী স্থানীয় সাংবাদিকদের ২০ কেজি সোনা চুরি যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তবে চুরি যাওয়া সোনার বাজার মূল্য ১০ কোটি টাকার বলে কাস্টমস সুত্র জানায়।সংশ্লিষ্ঠ সূত্র জানায়, গত শুক্রুবার , শনিবার ও রোববার ঈদে মিলাদুন্নবীর সরকারি ছুটি থাকায় কেউ অফিসে ছিলেন না। সোমবার সকালে অফিস খুললে চুরির বিষয়টি ধরা পড়ে।
সঅভিযোগ রয়েছে হাউসের নিরাপদ গোপনীয় ভোল্ট কক্ষে কতবছরের উদ্ধার ওহয়া সোনা, বিদেশী মুদ্রা, ডলার ছিল । কত বছর ধরে উদ্ধারকৃত সম্পদ বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা করা হয়নি। কি পরিমান সম্পদ ছির। এ নিয়ে রয়েছে অভিযোগ।

এ চুরির ঘটনায় বেনাপোল কাস্টমস এর যুগ্ন কমিশনার শহিদুল ইসলামকে প্রধান করে ৯ সদস্য বিশিষ্ঠ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানাগেছে।এই কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। অপরদিকে ভোল্ট ইনচার্জ সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শাহাবুল সর্দার সিপাহী পারভেজ সহ পাঁচজনকে বরখাস্ত প্রথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে কাস্টমস’র এর ডেপুটি কমিশনার এস এম শামীমুর রহমান জানান,তার কক্ষের পাসে পুরনো ভবনের দ্বিতীয় তলায় গোপনীয় একটি কক্ষের তালা ভেঙ্গে ফেলে দুর্বৃত্তরা চরি করেছে। এই কক্ষে রক্ষিত লোহার ভোল্ট ভেঙে ২০ কেজি সোনা লুট করে নিয়ে যায় দূর্বৃওরা। বোল্টে মূল্যবান আরো বিপুল পরিমাণ সোনা, ডলার ও টাকা ভোল্টে থাকলেও শুধু মাত্র ২০ কেজি সোনা নিয়ে যায় তারা। ভোল্ট ভঙ্গাার ও আগে দুর্বৃওরা সিসি ক্যামেরার সবগুলো সংযোগ কেটে বিচ্ছিন্ন করে দেয় বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন ভোল্টে কাস্টম, কাস্টম শুল্ক গোয়েন্দা, বিজিবি ও পুলিশের উদ্ধার করা সোনা, ডলারসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রা, সহ মূল্যবান দলিলাদি ছিল।সূত্র জানায়, সোমবার সকালে ওই ভোল্টের তালা ভাঙা দেখে চুরি হয়েছে বলে আশঙ্কা করেন কাস্টম কর্তৃপক্ষ। খবর পেয়ে কাস্টমের কর্মকর্তাসহ ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন আইন প্রয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাবৃন্দ। তারপর ওই স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বাইরের কাউকে সেখানে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

সোমবার বিকেল পাঁচটা থেকে ডিবি, সিআইডি, পিবিআই, র‌্যাব ও বেনাপোল পোর্ট থানার কর্মকর্তারা ওই ভোল্ট রুমে প্রবেশ করেন। সেখানে হাত-পায়ের ছাপ সহ আলামত সংগ্রহ করা হয়। আলামত সংগ্রহের সময় উপস্থিত ছিলেন বেনাপোল কাস্টম হাউজের যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, ডিএসবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম, ইনসপেক্টর সৈয়দ মামুন হোসেন,র‌্যাব জেলা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান, আতিকুর রহমান, এআরও জিএম আশরাফ, বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি মামুন খান প্রমুখ। তারা যৌথভাবে তদন্ত চালান।

সূত্রে জানাগেছে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের বেশ কিছু বহিরাগতরা (এনজিও)কাস্টমস এর গুরুত্বপূর্ন বিভিন্ন শাখায় অবৈধভাবে কাজ করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। তাদের মধ্যে ক্যাশ শাখার দায়িত্বে থাকা এনজিও টিপু এ ঘটনায় জড়িত বলে পুলিশ চোখে সন্দেহ রয়েছে। টিপুর দায়িত্ব কাস্টমস এর ক্যাশ শাখায়। এ ছাড়া কাস্টমস হাউসের সিসি ক্যামেরা ঠিকমত সচল আছে কিনা সে দায়ীত্ব পিটুর। টিপু বর্তমানে পুলিশী হেফাজতে রয়েছে।

অপরদিকে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের গুরুত্বর্পর্ন জিএল ও পূর্ত শাখার দায়িত্বে ছিলেন এনজিও আলাউদ্দিন। তার কাছে কাস্টমস হাউসের নিরাপদ গোপনীয় ভোল্ট এর চাবি থাকত। সেও পুরিশ হেফাজতে রয়েছে। সুত্র বলছে টিপু ও আলাউদ্দিন চুরির বিষয়ে মুখ খুললে রাঘববোয়ালদের নাম সহ থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে। সর্বশেষ বেনাপোল কাস্টম হাউসে সিসি ক্যামেরায় সুরক্ষিত একটি সংরক্ষিত এলাকায় কীভাবে এধরনের দুধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটলো তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সব মহলে। কাস্টম হাউজে নিজস্ব সিপাইসহ আনসার ব্যাটালিয়নের একটি ইউনিটও নিরাপত্তার কাজে দায়িত্ব পালন করে থাকে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ মামুন খান বলেন, ‘বেনাপোল কাস্টমের বোল্টে বিকল্প চাবি ব্যবহার করে সোনা চুরি করা হয়েছে। সোমবার জিজ্ঞাসাবাদেও জন্য আটক ৭জনের কাছ থেকে কোন তথ্য পাওয়া গেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন এখনও তদন্ত চলছে। তদন্তের স্বার্থে কিছু বলা যাবে না। তবে তিনি জানান যশোর থেকে ডিবির একটি টিম আসলে আটককৃতদেও কাছে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তিনি বলেন দ্রুত সময়ে চুরির তথ্য পাওয়া যাবে।এ ব্যাপারে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের যুগ্ম কমিশনার মুহাম্মদ শহীদুল ইসলাম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আটককৃতদের কাছ থেকে এখনও কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন কি পরিমান সোনা ও বিদেশী মুদ্রা, ডলার খোয়া গেছে তা এখনও তদন্ত চলছে।সরজমিনে দেখা গেছে মঙ্গলবার বেলা ১২টা থেকে সন্ধা পর্যন্ত কাস্টমস এর একজন সহকারী কমিশনার, একজন রাজস্ব অফিসার, একজন সহকারী রাজস্ব অফিসার ও ডিউটিরত একজর পুলিশ মিলে ৪জন সদস্যে ৩টি দল তদন্তের কাজ করেছে। যা এখনও সম্পন্ন হয়নি।

উল্লেখ্য বেনাপোল কাস্টমস হাউসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সকলের মুখে চুরির বিষয়ে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। অনেকর ধারনা এ চুরির ঘটনায় কাউকে যেন বলির পাঠা হতে না হয়। অনেকের ধারনা কাস্টমস কতৃপক্ষের অনেকে এর সাথে জড়িত খাকতে পারে। এ জন্য এ ব্যাপারে কেউ মুখ খুলছেনা।এ জন্য উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত টিম গঠনের দাবী তুলেছেন।

কিউএনবি/অনিমা/১২ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং /রাত ৮:২৩

↓↓↓ফেসবুক শেয়ার করুন