৮ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং | ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | রাত ১:৫১

জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ৯৯৯

 

ডেস্ক নিউজ : ৯৯৯। জাতীয় জরুরি সেবার হটলাইন নম্বর। এই সেবার কার্যক্রম পরিচালিত হয় রাজধানীর আবদুল গণি রোডের পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে। কেমন চলছে এ সেবা? এ প্রশ্নের উত্তর জানতে চান অনেকেই।

যেকোনো বিপদে পড়লে একটি মুঠোফোন থেকে এই নম্বরে বিনা পয়সায় ফোন করলেই মিলছে সহযোগিতা। যেকোনো প্রয়োজনে সেবা দিতে কাজ করছেন সাড়ে চারশ’র বেশি কর্মী। এখানে যারা কল রিসিভ করেন, তাদের বলা হয় কলটেকার। কলটেকারদের তত্ত্বাবধান করার জন্য আছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। দিনরাত ২৪ ঘণ্টা চার পালায় কাজ করেন তারা।

অ্যাম্বুলেন্স সেবা, প্রাণনাশের আশঙ্কা, ধর্ষণ-সংক্রান্ত ঘটনা, গৃহকর্মী নির্যাতন, কাউকে আটকে রাখা, লিফটে আটকে পড়া, অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকা, দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা, পারিবারিক সমস্যা, ছিনতাইসহ নানা বিপদ থেকে উদ্ধারে মানুষকে সহযোগিতা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ৯৯৯ সার্ভিসের প্রশিক্ষিত কর্মীরা প্রয়োজন অনুযায়ী ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ বা অ্যাম্বুলেন্স সেবা প্রদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগ (টেলি কনফারেন্স) করিয়ে দেন। ৯৯৯ নম্বরে কেউ ফোন করলে সমস্যার ধরণ, নাম-পরিচয় ও ঠিকানা জেনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

গত ২০ মাসে ৯৯৯ সেবায় বলার মতো অনেক কাহিনী জমা পড়েছে। গত কয়েক দিনেই ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তায় থামানো হয় বাল্যবিবাহ, উদ্ধার করা হয় নিখোঁজ শিশু, বন্ধ করা হয় গাছ কাটা। এর মধ্যে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা উল্লেখযোগ্য।

গত রোববার দুপুরে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’- এর তাণ্ডবে একটি পন্টুনের নোঙর ছিঁড়ে যায়। বরিশালে মেঘনার বুকে ৩০ শ্রমিকসহ ভেসে যায় পন্টুনটি। এমন ঘোর বিপদেও দিশা হারাননি এক শ্রমিক। রমজান আলী নামের ওই শ্রমিক ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে বাঁচার আকুতি জানালে এগিয়ে আসেন পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা।

উত্তাল নদীর বুকে প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালায় তারা। পরে পুলিশের উদ্ধারকারী যৌথদল দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে নদীতে ভাসমান পল্টুন থেকে ১৮ শ্রমিককে উদ্ধার করে। এরপর কোস্টগার্ড সেখানে পৌঁছে আরও ১২ শ্রমিককে উদ্ধার করে।

সোমবার পুলিশ সদরদফতরের এক বার্তায় বিষয়টি জানানো হয়।

জাতীয় জরুরি সেবা বিভাগের প্রধান ও পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক তবারক উল্লাহ জানান, ৯৯৯ সেবার মান বেড়েছে। কমে গেছে বিরক্তিকর কল আসা। আগে একজনকে সাধারণ ডায়েরি করতে হলে থানায় যেতে হতো, থানা থেকে অনেক সময় সহযোগিতা পেত না। কিন্তু এখন ৯৯৯-এ কল করার সঙ্গে সঙ্গে সেবা মিলছে।

তিনি জানান, সিস্টেম উন্নয়নে কাজ চলছে। কেউ কল করলেই বোঝা যায় কলার আইডি, কলার এনআইডি।

তিনি আরও জানান, ৯৯৯ সেবা ব্যবহারের নীতিমালা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার ৯৯৯ নিজস্ব অফিসের জন্য জমিও বরাদ্দ দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ মাসে ৯৯৯ থেকে সেবা পেতে এক কোটি ২৯ লাখ ৭৮ হাজার ৭২৩ জন ফোন দিয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ২২ লাখ লোকই বিভিন্ন তথ্য জানতে চেয়ে কল দিয়েছেন। আর সেবা নিয়েছেন ২৬ লাখ ৮৫ হাজার ৬৪ জন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় রাজধানীর আবদুল গণি রোডে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এখান থেকে শুধু পুলিশ নয়, জরুরি প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স সেবাও পাওয়া যায়। দেশের যে কোনও প্রান্ত থেকে যে কেউ এই সেবার জন্য ফোন করতে পারেন।

কিউএনবি/অনিমা/১২ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং /বিকাল ৫:১৩

↓↓↓ফেসবুক শেয়ার করুন