২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৯ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৯:৫২

পাবনার চাটমোহরে ক্রসবাঁধ অপসারণ শুরু

পাবনা থেকে খাইরুল ইসলামঃঅবশেষে দীর্ঘ ৮ বছর আন্দোলনের পর অস্তিত্ব হারাতে বসা ৪টি জেলা ও ৮টি উপজেলার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত এক সময়ের প্রমত্তা বড়াল নদীর বুকে প্রাণ সঞ্চারের কাজ শুরু হয়েছে। নদীপাড়ের মানুষদের মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যাওয়ায় এলাকাবাসী মিষ্টিও বিতরণ করেন। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, বড়াল নদীর সকল বাঁধ ও স্লুইসগেট অপসারণের মধ্যে দিয়ে নদী তীরবর্তী মানুষের জীবন-জীবিকা, জীববৈচিত্র ও হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাওয়া সম্ভব হবে।
রাজশাহীর চারঘাট থেকে শুরু হয়ে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি পর্যন্ত ৪টি জেলা ও ৮টি উপজেলার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত বড়াল নদীর দৈর্ঘ্য ২২০ কিলোমিটার। এই নদীর সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত চলনবিল অঞ্চলের কমপক্ষে ৫০ লাখ মানুষের জনজীবন। নদীর বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিতভাবে ৩টি স্লুইসগেট ও ৪টি বাঁধ দিয়ে এবং পাড় দখল করে মেরা ফেলা হয় বড়াল নদীকে। বড়াল নদী রক্ষায় ২০০৮ সাল থেকে আন্দোল শুরু করে নদীপাড়ের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের ১৮ নভেম্বর সকল বাঁধা অপসারণ করে নদী সচল করার সিদ্ধান্ত নিয়ে তা বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করে নদী বিষয়ক টাস্কফোর্স। দীর্ঘদিন পর বড়াল নদী চালুর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় নদীপাড়ের মানুষদের মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। তারা সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করেন। তাদের প্রত্যাশা বড়াল নদীর সকল বাঁধ ও স্লুইসগেট অপসারণের মধ্যে দিয়ে নদী তীরবর্তী মানুষের জীবন-জীবিকা, জীববৈচিত্র ও হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
অপরিকল্পিত বাঁধ ও স্লুইসগেট অপসারণের ফলে আবারও ব্যবসায় প্রসার ঘটবে বলে মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা।
বড়াল রক্ষা আন্দোলনের সদস্য সচীব এস এম মিজানুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন আন্দোলনের ফলে বড়াল নদী রক্ষায় বাস্তবায়নের শুভ সুচনা হয়েছে। তবে বড়াল রক্ষায় অপসারণ প্রক্রিয়া যেন থেকে না যায় এবং চলনবিলের সাথে যুক্ত নদীগুলোতেই অসারণের দাবী জানান বড়াল রক্ষা আন্দোলন এই নেতা।
পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীমো: রেজাউল করিম বলেন, পর্যায়ক্রমে বড়াল নদীর অপরিকল্পিত বাঁধ ও স্লুইসগেট অপসারণ করা হবে। এর ফলে এর ফলে বড়াল নদীর হারানো জীবন ফিরে আসবে বলে মনে করছেন তিনি।
তবে সব স্লুইসগেট ও বাঁধ অপসারণ করে এবং ক্যাপিটেল ড্রেজিং এর আওতায় নদী খনন করে মৃত বড়াল নদীর প্রাণ ফিরিয়ে আনা গেলে নানাভাবে উপকৃত হবেন নদীপাড়ের মানুষ-এমনটাই প্রত্যাশা সবার। কুইকনিউজবিডি.কম/নাঈম /১১.০৩.২০১৬