১৯শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১:১০

বীমার কিস্তি খেলাপি হলে আমানত নেয়া বন্ধ

 

ডেস্ক নিউজ : দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কঠোর আইন হচ্ছে। ‘আমানত সুরক্ষা আইন’ শীর্ষক এ আইনটির খসড়ায় ইতিমধ্যে কয়েক দফা পরিবর্তন আনা হয়েছে।  সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আইনের খসড়ায় আরও কিছু সংশোধনী আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।  এর মধ্যে রয়েছে- কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘আমানত বীমা তহবিলে’র প্রিমিয়ামের পর পর দুটি কিস্তি দিতে ব্যর্থ হলে গ্রাহকদের কাছ থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের আমানত সংগ্রহ বন্ধ করে দিতে পারবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিকে অবসায়নের (লিকুইডেশন-ব্যবসা গুটিয়ে ফেলা) জন্য সুপারিশ করতে পারবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবসার লাইসেন্সও স্থগিত করে দিতে পারবে। এমন কঠোর বিধান রেখেই চূড়ান্ত হচ্ছে আমানত সুরক্ষা আইন।

সূত্র জানায়, কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে গেলে ওই প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের কিছুটা হলেও সুরক্ষা দিতে এ আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। আইনে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুযায়ী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের সংগ্রহ করা আমানতের বিপরীতে নির্ধারিত হারে প্রিমিয়াম জমা দিতে হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে।  এ অর্থে ‘আমানত বীমা তহবিল’ পরিচালিত হবে। কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে গেলে এ তহবিল থেকে আমানতকারীদের আংশিক ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। নতুন আইনে এক লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত আছে- এমন গ্রাহকরাই এ সুরক্ষা পাবেন। তবে এই সীমা আরও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে আইনটির ব্যাপারে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের মতামত নিয়ে খড়সা চূড়ান্ত করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়ার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অনুরোধ করা হয়েছে। সব পক্ষের মতামত নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক খসড়া চূড়ান্ত করে তা জমা দেয়ার পর এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত নেয়া হবে। এরপর পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।  আমানত সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কোনো বীমাকৃত ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান পর পর দুবার প্রিমিয়াম দিতে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যাংক ওই প্রতিষ্ঠানকে শুনানির জন্য তলব করতে পারবে। তাদের আমানত সংগ্রহ বন্ধ করে দিতে পারবে। ‘আমানত বীমা তহবিল’ পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের নিয়ে গঠিত হবে একটি ট্রাস্টি বোর্ড। এ বোর্ড প্রতিষ্ঠানটিকে অবসায়নের সুপারিশ করতে পারবে। একই সঙ্গে তাদের ব্যবসার লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করে দিতে পারবে।

আইনে আরও বলা হয়েছে, স্বাভাবিকভাবে কোনো ব্যাংক বীমার প্রিমিয়াম দিতে ব্যর্থ হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ওই ব্যাংকের হিসাব থেকে অর্থ কেটে নিয়ে তহবিলে জমা দিতে পারবে।  বিলম্বিত সময়ের জন্য ব্যাংক রেট অনুযায়ী ‘দণ্ড সুদ’ আরোপ করতে পারবে। ‘আমানত সুরক্ষা তহবিল’ পরিচালিত হবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সংগৃহীত প্রিমিয়াম ও অন্যভাবে প্রাপ্ত অর্থ বিনিয়োগ থেকে আয়, দেউলিয়া ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে প্রাপ্ত অর্থ ও অন্য উপায়ে পাওয়া অর্থ দিয়ে। এ তহবিল থেকে অবসায়িত প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের অর্থ আংশিকভাবে পরিশোধ করা হবে।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আইনটি আরও কঠোর করে প্রয়োগ করা হলে আমানতকারীরা উপকৃত হবে। কেন না, বর্তমানে আমানতকারীদের সুরক্ষা দেয়ার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী আইন নেই। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গ্রাহকদের আমানত নিয়ে লুটপাট হচ্ছে। এটি যেমন বন্ধ করতে হবে, তেমনি তাদের রাখা আমানতের নিশ্চয়তা দিতে হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৮৪ সালে একটি আদেশের মাধ্যমে ‘ব্যাংক আমানত বীমা তহবিল’ গঠন করে সরকার। পরবর্তী সময়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান যুক্ত হওয়ায় এর নাম হয় ‘আমানত বীমা তহবিল’। এরপর ২০০০ সালে প্রণয়ন করা হয় আমানত বীমা আইন। এর আওতায় ব্যাংকগুলোর আমানতের বিপরীতে প্রিমিয়াম নিত কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরে ২০১২ সালে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এ আইনের আওতায় আনা হয়।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/৯ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং /বিকাল ৫:২৫