১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং | ১লা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | দুপুর ২:৩০

ইউপিডিএফ পরিচয়ে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি থানার ওসিকে গুলি করে হত্যার হুমকি

আলমগীর মানিক,রাঙামাটি প্রতিনিধি : পার্বত্য চট্টগ্রামের তথাকথিত অধিকার আদায়ের নামে আধিপত্য বিস্তারে সশস্ত্র তৎপরতায়লিপ্ত থাকা আঞ্চলিকগুলোর বিরুদ্ধে চলমান সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানে সম্পৃক্ত থাকা যৌথবাহিনীর বিভিন্ন কর্মকর্তাদের গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পার্বত্য চুক্তি বিরোধী আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট ইউপিডিএফ’র সশস্ত্র শাখার কয়েকজন সন্ত্রাসী মুঠোফোনের মাধ্যমে এসব হুমকি দিচ্ছে বলে নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে। পাহাড়ি আঞ্চলিকদলীয় এসকল সন্ত্রাসীদের মেরে ফেলার হুমকিতে মোটেও ভীত নন বলে জানিয়েছেন হুমকি পাওয়া কয়েকজন কর্মকর্তা।  

শনিবার রাতে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ এমএ মনজুরকে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে ইউপিডিএফ এর কর্মী পরিচয়দানকারি এক সন্ত্রাসী। উপজাতীয় চাকমা সম্প্রদায়ের কন্ঠধারী উক্ত যুবক শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৮ টা ২১ মিনিটের সময় ০১৩০২৫৮৩০০০৩ নাম্বার থেকে বাঘাইছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ এমএ মনজুরের মুঠোফোনে কল করে তাকে গুলি করে মেরে ফেলার কথা জানায়। এসময় তার কাছে কেন মেরে ফেলবেন এমন তথ্য জানতে চাইলে উক্ত পাহাড়ি যুবক জানায়, আমাদের পার্টির বিরুদ্ধে অভিযান কে চলছে, এবং আপনি কেন এসব ঘটনায় মামলা দায়ের করেন অভিযান চালান কেন? আপনাকে গুলি করে মেরে ফেলবো। ভালো হয়ে যান। 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওসি এমএ মনজুর প্রতিবেদককে জানান, আমাকে হুমকি দেওয়ায় আমি মোটেও ভীত নই। আমি সরকারী কর্মচারি, আমি না থাকলেও সরকারি কর্মকান্ড থেমে থাকবে না। হুমকিদাতাকে আমি বলেছি যে, হুমকি দিয়ে কখনো কাউকে থামিয়ে দেওয়া যাবেনা। আমি আমার কাজ আগের চেয়েও আরো দ্রুত এবং কঠিনভাবে পালন করে যাবো। এক প্রশ্নের জবাবে জনাব এমএ মনজুর জানান, নিয়মানুষারে আমাকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি আমি আমার উদ্বর্তন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছি এবং তাদের পরামর্শ অনুসারে থানায় জিডি করেছি। ওসি জানান, হুমকির পর থেকেই উক্ত নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। 

প্রসংঙ্গত: পার্বত্য চট্টগ্রামের সন্ত্রাসী তৎপরতার বিরুদ্ধে অবস্থান করায় এরআগেও রাঙামাটির নানিয়ারচরের একজন ইউএনও থেকে শুরু করে রাঙামাটিতে কর্মরত কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীকেও হুমকি দিয়েছিলো ইউপিডিএফ এর পরিচয় দেওয়া পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা। এদেরই একটি গ্র“প নানিয়ারচরের আঠারো মাইল এলাকায় কয়েক বছর আগে রাঙামাটি থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খবর সংগ্রহে গেলে একজন চাকমা ও অপরজন বাঙ্গালী সাংবাদিককে অপহরণ করে নেওয়ার চেষ্ঠা চালিয়েছিলো। পরে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ায় সন্ধ্যার দিকে তাদেরকে ছেড়ে দিয়েছিলো সন্ত্রাসীরা। এদিকে রাঙামাটিতে কর্মরত একজন গণমাধ্যমকর্মীকে হত্যার হুমকি প্রদানের বিষয়টি স্বীকার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট স্বীকারোক্তিও দিয়েছিলো গত বছরের শেষের দিকে আটক হওয়া ইউপিডিএফ’র শীর্ষ পর্যায়ের সন্ত্রাসী কুনেন্টু চাকমা। তাকে রাঙামাটির সাপছড়ি এলাকা থেকে অস্ত্র ও চাঁদাবাজির চার লাখ টাকাসহ আটক করেছিলো নিরাপত্তা বাহিনী। 

 

 

কিউএনবি/আয়শা/৮ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং/বিকাল ৪:১১