১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং | ১লা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | দুপুর ২:২৬

নদী ভাঙনে সব হারিয়ে কবরস্থানে মানবেতর জীবন যাপন

 

ডেস্ক নিউজ : সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার খাসপুখুরিয়া ইউনিয়নের মিটুয়ানী গ্রামের যমুনা নদীর ভাঙনে সব হারিয়ে তিনটি পরিবারের নারী, পুরুষ ও শিশুসহ  ১৫ জন সদস্য গত এক মাস ধরে কবরস্থানে বসবাস করছে। পরিবারগুলোর খোঁজ নেওয়ার মতো কেউ নেই। কবরস্থানে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদী ভাঙানের শিকার মানুষগুলো শত বছরের পুরনো মিটুয়ানী কবরস্থানে টিনের ঝুপড়ি ঘর তুলে ছোট ছোট শিশু সন্তান নিয়ে অতিকষ্টে বাস করেছে। শুধু তাই নয়, যমুনা গর্ভে সড়ক বিলীন হওয়ায় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও পথচারীরা বাধ্য হয়ে ওই কবরস্থানের মধ্য দিয়ে অবাধে যাতায়াত করছে।

এলাকাবাসীরা জানান, এই তিন পরিবারই নয়; গত পাঁচ বছরে যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে চৌহালী উপজেলার খাষপুখুরিয়া থেকে বাঘুটিয়া ইউনিয়নেরর ভুতেরমোড় পর্যন্ত প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার এলাকার সাড়ে চার হাজার ঘরবাড়ি, ১৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পাকা সড়ক, ৩টি মসজিদ, ২ হাজার বিঘা ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। বিশেষ করে এ বছর বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে এ পর্যন্ত যমুনার ভাঙনে মিটুয়ানী ও খাষপুখুরিয়া ইউনিয়নের প্রায় দু’শতাধিক বাড়ি-ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে শত শত মানুষ তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়েছেন। এর মধ্যে এ তিনটি পরিবারের ১৫ জন মানুষ কোনো উপায় না পেয়ে নদীর পাশে অবস্থিত শত বছরের এ কবরস্থানে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছে। 

কবরস্থানে আশ্রয় নেওয়া আতর আলী (৭৫) জানান, বাধ্য হয়ে কবরস্থানের ভিতরে বসবাস করছি।চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবু তাহের জানান, এবার যমুনার ভাঙনে আড়াই হাজার পরিবার ভিটামাটি হারিয়েছে। মিটুয়ানী কবরস্থানের ভিতরে যে কয়েকটি পরিবার ঘর তুলে বসবাস করছে শুনেছি তারা একেবারই অসহায়। বসতভিটা যমুনা নদীতে বিলীন হওয়ায় তারা সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন। মানবিক কারণে তাদের সেখানে থাকতে দেওয়া হয়েছে। খাস জায়গা পেলেই দ্রুত সময়ের মধ্যে পুর্নবাসন করা হবে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/৩০শে আগস্ট, ২০১৯ ইং/বিকাল ৫:৫৫