৭ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং | ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | সন্ধ্যা ৬:৩৮

বেতন-বোনাস নিয়ে ঈদ ছুটিতে পোশাক শ্রমিকরা

 

ডেস্ক নিউজ : বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া শ্রম-ঘামে অর্জিত বেতনের টাকা আর বোনাস নিয়ে হাসিমুখেই ছয় দিন থেকে সর্বোচ্চ ১০ দিন পর্যন্ত ঈদ ছুটিতে গেছে চট্টগ্রামের পোশাক শ্রমিকরা। গতকাল শনিবার সরকার নির্ধারিত ঈদ-পূর্ববর্তী বেতন-বোনাস দেওয়ার শেষ দিনে চট্টগ্রামে প্রায় শতভাগ কারখানা তাদের শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করে দিয়েছে। যদিও কিছু কারখানা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দুশ্চিন্তায় রেখেছিল শ্রমিকদের।  শিল্প পুলিশ সূত্র জানায়, বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলে হাতে গোনা কয়েকটি ছাড়া বাকি সব ছোট-বড় পোশাক কারখানা তাদের শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করেছে। যেসব কারখানা দেয়নি সেগুলো বেশির ভাগ সাবকন্ট্রাকের। তারাও বোনাস পরিশোধ করেছে, বেতন ছুটির পরে দেবে। এ জন্য শ্রমিকদের সম্মতিও পেয়েছে তারা।

শিল্প পুলিশ থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, চট্টগ্রামে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমইএসহ মোট ৬৯৭ কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে ৬৯১টি কারখানা শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ করেছে। এ ছাড়া নন-আরএমজি ৫০৫টি কারখানার মধ্যে সবগুলোই শ্রমিকদের তাদের পাওনা পরিশোধ করে এরই মধ্যে ঈদের ছুটি দিয়ে দিয়েছে।  গতকাল সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলে মাত্র ৯টি পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হয়নি। তবে সেগুলোতেও রাতের মধ্যেই টাকা পরিশোধ করা হবে বলে জানান শিল্প পুলিশের সিনিয়র এএসপি কামরুল হাসান। তিনি জানান, এরই মধ্যে পাঁচটিতে টাকা এসেছে, যেকোনো মুহূর্তে টাকা দেওয়া শুরু হবে। বাকি চারটির বেতন দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এই কারখানারগুলো চট্টগ্রাম শহরের বাইরে কর্ণফুলী থানা এলাকায়। তবে এবারের ঈদুল আজহার মৌসুমে শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস দেওয়ার ক্ষেত্রে ভুগিয়েছে হাবিব গ্রুপের কারখানাগুলো।

যদিও এই কারখানাগুলোতে সাধারণত বেতন-বোনাস নিয়ে সমস্যা হয় না। গত বুধ ও বৃহস্পতিবারে চট্টগ্রাম ইপিজেডে হাবিব গ্রুপের মালিকানাধীন সিয়াম সুপিরিয়র, কর্ণফুলী ইপিজেডের হেলা ক্লথিং ও পিআরএম কারখানায় বেতন-বোনাস নিয়ে শ্রমিক অসন্তোষ হয়। সেটা বৃহস্পতিবার রাতে সমাধান করা হয়। শিল্প পুলিশ চট্টগ্রাম অঞ্চলের সিনিয়র এএসপি কামরুল হাসান বলেন, ‘চট্টগ্রামের প্রায় ৯৫ শতাংশ কারখানা শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধ করে ঈদ ছুটি দিয়েছে। আমরা বেশ কিছুদিন আগে থেকে সব কারখানার সঙ্গে একাধিক মিটিং করেছি। বিশেষ করে গত ঈদে যেসব কারখানায় সমস্যা হয়েছিল সেগুলোতে দফায় দফায় মিটিং করে মনিটরিংয়ে রেখেছিলাম। এবার সেগুলো নির্ধারিত সময়ে বেতন-বোনাস পরিশোধ করেছে।’

বিজিএমইএর সহসভাপতি এ এম চৌধুরী সেলিম বলেন, ‘আমাদের প্রায় শতভাগ কারখানা শ্রমিকদের জুলাই মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা বাদ দিলে পুরো প্রক্রিয়াটি এবার ছিল প্রায় শান্তিপূর্ণ।’

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১১ই আগস্ট, ২০১৯ ইং/বিকাল ৩:৫৯

↓↓↓ফেসবুক শেয়ার করুন