ব্রেকিং নিউজ
২৫শে আগস্ট, ২০১৯ ইং | ১০ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | রাত ৯:৪০

যে কারণে গর্ভাবস্থায় ফ্লুর ইনজেকশন নেবেন

 

স্বাস্থ্য ডেস্ক : যদি আপনি গর্ভবতী হয়ে থাকেন অথবা ফ্লু সিজনে গর্ভধারণের ইচ্ছে থাকে, তাহলে জামার হাতা গুটান, অর্থাৎ ফ্লুর ইনজেকশন নেয়ার জন্য প্রস্তুত হোন। চিকিৎসকেরা বলছেন, ফ্লুর ইনজেকশন হলো গর্ভকালীন সেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যেমনটা গুরুত্বপূর্ণ গর্ভকালীন ভিটামিন সেবন ও নিয়মিত চেকআপ।

নিউ অরলিন্সে অবস্থিত অচেস্টার হেলথ সিস্টেমের মেডিক্যাল ডিরেক্টর ও ইনফেকশাস ডিজিজ স্পেশালিস্ট সান্দ্রা কিমার্লি বলেন, ‘গর্ভাবস্থায় ফ্লুর ইনজেকশন শুধুমাত্র সুপারিশকৃত নয়, খুব সুপারিশকৃত। গর্ভাবস্থায় ফ্লুর ইনজেকশন না নেয়ার ঝুঁকি অথবা ফ্লু-তে আক্রান্ত হওয়ার পরিণতি এত বেশি মারাত্মক হতে পারে যে আমরা চিকিৎসকেরা ফ্লু’র টিকা নিতে উৎসাহিত করছি।’

ডা. কিমার্লি বলেন, ‘অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ইমিউন সিস্টেম বা রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হতে থাকে। তারা ইমিউনোসাপ্রেসড হয়ে পড়ে, অর্থাৎ তাদের ইমিউন সিস্টেমের কার্যকারিতা কমে যায়।’ একারণে গর্ভবতী নারীরা ফ্লু সিজনে ফ্লু’র টিকা না নিলে ফ্লু-তে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায় এবং তাদের অসুস্থতা আরো তীব্র হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র অনুযায়ী, গর্ভাবস্থায় ফ্লু’র মারাত্মক জটিলতায় হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হতে পারে- জটিলতার মধ্যে নিউমোনিয়া ও অ্যাজমা অ্যাটাক উল্লেখযোগ্য, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। গর্ভবতী নারীর গর্ভের শিশুও মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রে অকালে জন্ম রোধের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাওয়া অলাভজনক সংস্থা মার্চ অব ডাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে, ফ্লু থেকে উদ্ভুত জ্বরে প্রিটার্ম লেবার বা ৩৭ সপ্তাহের পূর্বে প্রসব বেদনা, প্রিম্যাচিউর বার্থ বা সম্ভাব্য তারিখের পূর্বে বাচ্চা প্রসব ও বার্থ ডিফেক্ট বা বাচ্চার জন্মত্রুটি হতে পারে।

* গর্ভাবস্থায় ফ্লুর ইনজেকশন নিরাপদ?

অনেক গবেষণায় পাওয়া গেছে, গর্ভাবস্থায় ফ্লুর ইনজেকশন নিরাপদ ও কার্যকর, আমেরিকান কলেজ অব অবস্টেট্রিশিয়ান অ্যান্ড গাইনিকোলজিস্টস অনুসারে। এ সংস্থাটি ফ্লুর ইনজেকশন নিতে উৎসাহিত করে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের গবেষকরা যুক্ত ছিল এমন একটি গবেষণায় ছয়টি ফ্লু সিজনের উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হয়। দেখা যায় যে, গড়ে ফ্লুর ইনজেকশন ফ্লু-তে আক্রান্ত হয়ে একজন নারীর হাসপাতালে ভর্তির ঝুঁকি ৪০ শতাংশ হ্রাস করেছে। এছাড়া এ টিকা ডেলিভারির সময় ফ্লু-তে ভোগার ঝুঁকিও কমিয়েছে।

ফ্লুর ইনজেকশন কেবলমাত্র নিরাপদই নয়, এটি অনাগত বাচ্চার প্রত্যক্ষ উপকারও করে। এ প্রসঙ্গে আইওয়ার সিডার ফলসে অবস্থিত ইউনিটি পয়েন্ট হেলথের পিডিয়াট্রিক ইনফেকশাস ডিজিজ স্পেশালিস্ট ক্লডিয়া ভিসেট্টি বলেন, ‘মায়েরা গর্ভাবস্থায় এই টিকা নিলে তাদের ইমিউন সিস্টেম ফ্লু প্রতিরোধের জন্য অ্যান্টিবডি তৈরি করে এবং কিছু অ্যান্টিবডি গর্ভফুলকে অতিক্রম করে গর্ভস্থ বাচ্চার কাছে পৌঁছে।’ এটি একটি ভালো দিক, কারণ ৬ মাস বা এর কম বয়সি শিশুর জন্য ফ্লুর ইনজেকশনের অনুমোদন নেই, কিন্তু অল্প পরিমাণে অ্যান্টিবডি একটা নবজাতককে প্রাথমিক মাসগুলোতে ফ্লু থেকে রক্ষা করতে পারে।

২০১৫ সালে পিয়ার-রিভিউড জার্নাল ভ্যাকসিনে প্রকাশিত একটি গবেষণা উদ্বেগ ছড়িয়েছে: এ গবেষণার আলোকে গবেষকরা ধারণা করেছে যে প্রাথমিক গর্ভাবস্থায় এইচ১এন১ অ্যান্টিজেন সমৃদ্ধ ফ্লু ইনজেকশন নিলে মিসক্যারেজ বা গর্ভপাতের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। কিন্তু সম্প্রতি গবেষকরা যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) অন্তর্গত অ্যাডভাইজরি কমিটি অন ইমিউনাইজেশন প্র্যাকটিসে (এসিআইপি) একটি ফলো-আপ গবেষণাসহ আশাপ্রদ প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন: এসব গবেষকের বক্তব্য হলো, গর্ভাবস্থায় ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা নিলে গর্ভপাতের বাড়তি ঝুঁকি নেই। সিডিসি এটাও উল্লেখ করেছে যে, ২০১৫ সালের গবেষণাটিতে উল্লেখযোগ্য সীমাবদ্ধ ছিল। ফ্লুর ইনজেকশন নিলে গর্ভবতী নারী ও গর্ভস্থ বাচ্চার ঝুঁকি কতটুকু তা সম্পর্কে আরো নিশ্চিত হতে বড় পরিসরে আরো গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

* গর্ভবতী নারীদের কখন ফ্লুর ইনজেকশন নেয়া উচিত?

গর্ভবতী নারীরা যেকোনো ট্রাইমেস্টারের ফ্লু ইনজেকশন নিতে পারবেন। সাধারণত ফ্লু সিজন বা শীতকাল শুরুর আগেই এই টিকা নেয়া ভালো।

* গর্ভবতী নারীরা কি নাসাল ফ্লু ভ্যাকসিন নিতে পারবেন?

না। গর্ভাবস্থায় লাইভ অ্যাটিনুয়েটেড ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন (এলএআইভি) বা নাসাল ফ্লু ভ্যাকসিন নেয়ার অনুমোদন নেই।

* ফ্লুর ইনজেকশনের পার্শপ্রতিক্রিয়া আছে?

হ্যাঁ, ফ্লুর ইনজেকশনের পার্শপ্রতিক্রিয়া আছে। এ টিকার পার্শপ্রতিক্রিয়া গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে যেমন, অন্য লোকদের ক্ষেত্রেও তেমন। আপনার ইনজেকশন সাইট বা টিকা প্রয়োগের স্থানে ব্যথা হতে পারে, লাল হতে পারে অথবা ফুলে যেতে পারে। এছাড়া মাথাব্যথা, জ্বর ও অন্যান্য ফ্লু-সদৃশ উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এসব পার্শপ্রতিক্রিয়া এক থেকে দু’দিন থাকতে পারে। অতীতে এই টিকা নেয়ার ফলে তীব্র অ্যালার্জিক রিয়্যাকশন না হয়ে থাকলে গর্ভাবস্থায় এ টিকা গ্রহণের জন্য চিকিৎসকেরা খুব সুপারিশ করছেন, কারণ এটি মা ও বাচ্চা উভয়ের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

তথ্যসূত্র : প্রিভেনশন

কিউএনবি/রেশমা/৭ই আগস্ট,২০১৯ ইং/বিকাল ৫:২৭