ব্রেকিং নিউজ
১৫ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ৩০শে আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | রাত ১২:২৯

শরীয়তপুরে শো-রুমে শ্রমিক হামলা ডিবিসি’র সাংবাদিক আহত

 

খোরশেদ আলম বাবুল, শরীয়তপুর : শরীয়তপুর কোর্ট এলাকায় পুলিশ বক্স সংলগ্ন মেসার্স আর.কে. মটরস এর শো-রুম উদ্বোধনের পূর্বেই আন্তঃজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের হামলায় হয়েছে।এসময় শো-রুমের রাখা নতুন গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে।সংবাদ সংগ্রহের সময় বে-সরকারি টেলিভিশন ডিবিসি’র শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি বিএম ইশ্রাফিল শ্রমিকদের আক্রমনে শিকার হয়।ক্যামেরা ও মোবাইল ভাংচুর সহ সাংবাদিক ইশ্রাফিলকে গুরুতর আহত করা হয়েছে।

আহত সাংবাদিককে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভীর হায়দার শাওন, ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক বজলুর রহমান, আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাচ্চু বেপারী, আন্তঃজেলা বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফারুক চৌকিদার সহ শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ আহত সাংবাদিককে দেখতে হাসপাতালে যায়। এ নিয়ে সাংবদিক মহলে নিন্দার ঝড় উঠেছে।

শো-রুম মালিক, আহত সাংবাদিক ও শ্রমিক ইউনিয়ন সূত্রে জানাযায়, সোমবার দুপুর ১২টায় জেলা শহরের কোর্ট এলাকার পুলিশ বক্স সংলগ্ন মেসার্স আর.কে. মটরস নামে একটা সিএনজি চালিত গাড়ির শো-রুম উদ্বোধনের আয়োজন করা হয়। উদ্বোধনের পূর্বে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে আন্তঃজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতির নেতৃত্বে সহ¯্রাধিক শ্রমিক এসে শো-রুমে হামলা চালায়। এসময় হামলাকারীরা ২০টি গাড়ি ভাংচুর করে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেছে বলে শো-রুম মালিক দাবী করে।

সংবাদ সংগ্রহের জন্য ডিবিসি চ্যানেলের সাংবাদিক বিএম ইশ্রফিল ঘটনাস্থলে যায়। তখন উত্তেজিত শ্রমিকগণ ইশ্রাফিলের ক্যামের ও মোবাইল কেড়ে নেয়। বাঁধা দেয়ায় শ্রমিকরা ইশ্রাফিলকে মারধর করে।এতে ইশ্রাফিলের ডান পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হয়।শো-রুম মালিক রুবেল খান বলেন, দুপুর ১২টায় মেসার্স আ.কে. মটরস এর শো-রুম উদ্বোধনের আয়োজন করি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি রাখা হয় শরীয়তপুর-১ আসনের এমপি ইকবাল হোসেন অপুকে।

অনুষ্ঠান শুরুর পূর্বেই বাস শ্রমিক ইউনিনের শ্রমিকরা শো-রুমে হামলা চালায়। এসময় ২০টি গাড়ি ভাংচুর করে প্রায় ৫০ লাখ টাকা পরিমান ক্ষতিসাধন করেছে।ঘটনা পরবর্তী কোর্ট বাজার বণিক সমিতির নির্দেশে দোকানপাট বন্ধ করা হয়।এমপি সাহেব বিষয়টি দেখবেন বলে আস্বস্থ করেছে।পুলিশ এসে রিপোর্ট নিয়েছে।পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে।

আহত সাংবাদিক ইশ্রাফিল জানায়, সংবাদ সংগ্রহের জন্য সে ঘটনাস্থলে যায়। উত্তেজিত শ্রমিকরা তার ক্যামেরা ও মোবাইল কেড়ে নেয়।বাঁধা দেয়ায় শ্রমিকরা তাকে মারধর করে।তিনি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার পরেও শ্রমিকরা সহযোগিতা না করে মারধর করে। পরে সহকর্মী, আইনজীবী ও স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে। আমি সাংবাদিক সংগঠনের সাথে জড়িত আছি। তাই সহকর্মী ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপ করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করব।

শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফারুক চৌকিদার বলেন, জেলা প্রশাসনের সাথে আমাদের একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। সিদ্ধান্ত হয় কোন অবৈধ গাড়ি প্রধান সড়কে চলতে পারবে না। সে অনুযায়ী আমরা সড়কে বাস চালাই। পরবর্তীতে কিছু সিএনজি গাড়ি সড়কে চলতে দেখে আর.টি.সি’র সাথে আমাদের বৈঠক হয়। সেখানেও সিদ্ধান্ত হয় শরীয়তপুর ও আশপাশের কোন জেলায় সিএনজি চলাচলের জন্য আ.টি.সি,র কোন অনুমোদন দেয়া নাই।

তবুও কোর্ট এলাকায় একটা অবৈধ সিএজি গাড়ির শো-রুম উদ্বোধন করার পায়তারা করে। শ্রমিকরা সংবাদ পেয়ে সেখানে যায়। সংবাদ পেয়ে আমিও সেখানে যাই। আমার হুকুমে বা নেতৃত্বে কোন ভাংচুর হয়নি এমকি কোন সাংবাদিককে নির্যাতন করা হয়নাই। কোন শ্রমিক সাংবাদিককে নির্যাতন করে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্ত শ্রমিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করব।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভীর হায়দার শাওন বলেন, এসপি স্যারের নির্দেশে আহত সাংবাদিককে দেখতে হাসপাতালে যাই। এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

কিউএনবি/রেশমা/২৯শে জুলাই, ২০১৯ ইং/সন্ধ্যা ৬:২৩